ক্ষত বিক্ষত দগ্ধ যন্ত্রণা থেকে জেগে উঠেছেন ফিনিক্স পাখির মতো

কিছু মানুষ ঠেকে শেখেন আর কিছু মানুষ শেখেন দেখে | যাঁরা ঠেকেছেন তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা সবসময়ই ভাগ করে নিতে চান যাতে আর কাউকে তাঁর মত সমস্যায় পড়তে না হয় | নরফোকের সোয়্যাফহ্যাম অঞ্চলের বাসিন্দা ডন অ্যাবটের ( ৫৪ ) কাহিনিও আপনার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে |

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্ক্রু ড্রাইভার খুঁজতে গিয়ে হোয়াইট স্পিরিট পড়ে যায় ডনের গায়ে | সামনেই পড়ে ছিল তাঁর স্বামীর একটি লাইটার | তাঁদের বাড়ির অধিকাংশ লাইটারই অকেজো হওয়ায় পড়ে থাকা লাইটারটি কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য ডন লাইটারটি জ্বালান | মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায় | ডনের গায়ে স্পিরিট লেগে থাকার জন্য সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাঁর গায়ে |

তারপরে যে ঠিক কী কী ঘটেছিল তা স্পষ্ট মনে না থাকলেও ডন জানান তিনি নিশ্চয়ই কোনওভাবে জল ঢেলে আগুন নিভিয়ে সাহায্যের জন্য এমারজেন্সি নম্বরে ফোন করেছিলেন | দুর্ঘটনা ঘটার পরে তাঁকে চেমসফোর্ডের ব্রুম ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় | তাঁর মুখ‚ ঘাড় ও শরীরের উপরের অংশের প্রায় ৫৫ % অগ্নিদগ্ধ হয়ে গিয়েছিল | চিকিৎসা চলাকালীন ৬ সপ্তাহ কোমায় ছিলেন তিনি | বিপদসীমার বাইরে আসার পর বহুদিন নিজেকে আয়নায় দেখতে পারেননি | দেখলে মনে হত তিনি নন‚ যেন কোনও দানব তাকিয়ে রয়েছে তাঁর দিকে | দু’ বছর ডিপ্রেশন‚ অ্যাংজাইটি‚ প্যানিক অ্যাটাক ইত্যাদি নানা সমস্যার জন্য বাড়ি থেকেই বেরোননি তিনি | আর বেরোলেও মানুষ তাঁকে দেখে হাসত বা ভয় পেত |

কিন্তু ২০১৭ সালে একটি টেলিভিশন শোয়ে যান ডন | সেখানে অংশগ্রহণকারীরা জীবন বদলে দেওয়ার মত কিছু অঙ্গীকার গ্রহণ করে | তাঁরা তাঁদের অঙ্গীকার পালনে সফল হলে তাঁদের সাফল্য দেখানো হয় | নিজের সঙ্গে দিনের পর দিন নিদারুণ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ডন নিজের গৃহীত অঙ্গীকার পালনে সফল হন | নিজের নাতি নাতনিদের স্কুল থেকে নিয়ে আসার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন তিনি | এখন তিনি তাদের স্কুল থেকে নিয়ে আসেন |

ডন জানিয়েছেন মানুষের সামনে যেতেই এক সময় তাঁর ভয় লাগত | নিজেকে তিনি ঘরবন্দি করেই রেখে দিয়েছিলেন | কিন্তু আস্তে আস্তে তিনি তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পান ওই শো এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের ভালবাসায় | মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও জীবনকে জিতিয়ে দিয়েছেন তিনি সাহস ও আত্মবিশ্বাস দিয়েই |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here