লাদাখে ভারতের প্রথম ‘আইস ক্যাফে’তে মিলবে ধোঁয়া ওঠা ম্যাগি‚ মশলা চা

222

২০১৩ সালের অক্টোবর মাস। লে-র ফ্যাং গ্রামে সমাজকর্মী ও র‍্যামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজেতা সোনম ওয়াংচুক চালু করলেন বরফ স্তূপের আকারে তৈরি ` হিমবাহ প্রকল্প। এই অভিনব ভাবনাটি মূলত এসেছিল এই শীতল শুষ্ক মরুভুমিতে জলের অভাব দূর করার উদ্দেশ্যে। বরফের স্তূপ বানিয়ে কয়েক মিলিয়ন লিটার জল হিমায়িত অবস্থায় জমিয়ে রাখা সম্ভব। এবং প্রয়োজনে ওই বরফই গলিয়ে চাষবাস বা অন্যান্য কাজে লাগানো যেতে পারে।

আর এই বছরেরই গোড়ার দিকে লে-র ৭৫ কিমি দূরবর্তী সমুদ্রতল থেকে চোদ্দ হাজার ফিট ওপরে ‘গ্যা মিরু’ নামক আরও একটি গ্রামে তৈরি হয়েছে ভারতের প্রথম ‘আইস ক্যাফে’। লে থেকে মানালির দিকে যেতে হাইওয়ের ধারে আপনি খুঁজে পাবেন এই ‘আইস ক্যাফে’টি। বিপুলাকার বরফ স্তূপের অন্দরে তৈরি হয়েছে এই ‘আইস ক্যাফে’। চারদিকে বরফের দেওয়াল, পায়ের নীচে পুরু বরফের মেঝে, কিন্তু এর মধ্যে বসেই আপনার সামনের টেবিলে পেয়ে যেতে পারেন ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি। আর একটু কিছু খেতে ইচ্ছে করলে? হ্যাঁ, পেতে পারেন ম্যাগিও। এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পানীয় ‘বাটার টি’ও নিয়ে দেখতে পারেন।

গ্রামের তিন যুবক সোনম চোসদুপ, নওয়াং ফুনস্টোগ, জিগমে টুন্দুপ এই তিন জন মিলে তৈরি করেছেন এই ক্যাফেটি। আসলে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক লাদাখে ওই বরফ স্তূপ প্রকল্পের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারা কত বড় বরফের স্তূপ বানাতে পারে, এই ছিল প্রতিযোগিতার মাপকাঠি। জলাভাব প্রতিকারের জন্য কৃত্রিম হিমবাহ প্রযুক্তির বিষয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে সচেতন করাই ছিল সোনমের মূল উদ্দেশ্য। এই প্রতিযোগিতাটি শেষ হয় ২৩ শে মার্চ, ২০১৯ –আন্তর্জাতিক জল দিবসের দিন। লাদাখের ১২ টি গ্রাম অংশ নিয়েছিল এই প্রতিযোগিতায়। প্রথম যারা হয়েছেন তারা পেয়েছেন পাঁচ লক্ষ টাকা। গ্যা মিরু অর্থাৎ ওই ‘আইস ক্যাফের’ গ্রামটি যুগ্ম ভাবে দ্বিতীয় হয়েছিল এই প্রতিযোগিতায়। পেয়েছে দেড় লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় হলেও মিডিয়ার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এরাই। কারণ ওই ‘আইস ক্যাফে’। তাদের তৈরি বরফের স্তূপটি ছিল ৭৫ ফিট দীর্ঘ এবং প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন লিটার জল ধরে রেখেছিল এইটি। বরফ স্তূপ কীভাবে তৈরি করতে হয় তা প্রতিযোগীদের শেখাবার জন্য একটি কর্মশালারাও আয়োজন করা হয়েছিল। কেন এই বরফ স্তূপ তৈরি করে জল সঞ্চয় করে রাখা দরকারি তাও বলা হয়েছিল ওই কর্মশালায়। ‘আইস ক্যাফে’ নির্মাতা সোনম চোসদুপ জানিয়েছেন ‘কীভাবে কৃত্রিম হিমবাহ তৈরি করতে হবে, করতে গিয়ে কী কী অসুবিধে হতে পারে সবই আমরা জেনে নিয়েছিলাম ওই ওয়ার্কশপে। অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা হয়েছিল এটি শিখতে গিয়ে’। সোনম, নওয়াং এবং জিগমেট নিজেরাই তৈরি করেছিলেন এই বরফের স্তূপ। ‘আইস স্তূপ প্রকল্প’ দলের কাছ থেকে ২৫০০০ টাকা পেয়েছিলেন তারা। তা দিয়ে ৭৫ মিমি পুরু ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাইপ কেনেন তারা। ‘পদ্ধতিটি খুবই সহজ, কোনও পাম্প বা বিদ্যুৎও এতে দরকার হয় না’ জানিয়েছে হিমালয়ান ইন্সটিউট অব অলটারনেটিভস, লাদাখের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.