গর্ব্ির দৌড় – ঝাঁ্প – সাঁ্তার – ২

161

এক ঘন্টার ওপর কথা বলছে তারা – এই অবস্থায় শর্মিলাদিকে সময়ের কথা মনে করিয়ে দেওয়া যায় না | এই বাড়িতে আজ চার পাঁ্চ বছর ধরে আসছে গর্ব্ি | ঝিল তখন ক্লাস টু-তে পড়ত | এত বছরে তার সঙ্গে এ বাড়ির এক ধরণের আত্ম্িয়তা তৈরি হয়ে গেছে | শর্মিলাদির প্রতি গর্ব্ি নানা কারণে কৃতজ্ঞ | কত সময় এরকম হয়েছে – মাসের শেষে হাতে টাকা নেই, ইউনিভার্সিটি যাতায়াতের ভাড়াটা পর্যন্ত নেই, সাহানারও এক সিচুয়েশন – শর্মিলাদিকে বলতে না বলতেই হাতে পাঁ্চশ টাকা গুঁ্জে দিয়েছে শর্মিলাদি | এবং মনে করিয়ে দেওয়া স্বত্তেও মাইনে থেকে টাকা কাটেনি
ে বাড়িতে অনেকগুলো কাজের লোক, সবাইকে গর্ব্ি ভাল করে চেনে | সে গল তুলে ডাকল বাবলুদাকে | বাবলুদা আসতে গর্ব্ি বলল, ’ বাবলুদা আমাদের একটু কফি খাওয়াও না?’ তারপর সে শর্মিলাদিকে বলল,’চলো, তুমি ওপরে ঝিলের কাছে বসবে | তুমি একটু ঝিলের কথাও ভাব শর্মিলাদি | শি নিডস ইউ’
সম্বিৎ ফিরল যেন শর্মিলাদির,’ইস তোমার অনেক সময় নষ্ট করলাম গর্ব্ি, তুমি ওপরে যাও, ঝিলকে পড়াও | আর তোমাকে যে কথাগুলো বললাম সেগুলো কাউকে বোলোনা প্লিজ ’

গর্ব্ি বলল, , তুমি এত সুন্দর ছিলে, ামি সিওর যে তুমি ছোট থেকে নিজেকে অয়্াপ্রিসিয়েট করতে করতে বড় হয়েছো | এখন এই দাগগুলো তোমার পক্সে খুব বড় মানসিক যন্ত্রণার কারণ্ | এটা হওয়ারই কথা, ভেরি নর্মাল্ | হয়ত অচিরেই এই দাগগুলো সেরে যাবে, তুমি তো বিদেশ যাচ্ছো ট্রিটমেন্টের জন্য়্ | এখন এভাবে ভেঙে পড়লে তোমার চলবে না | ইউ নিড টু বি পেশেন্ট, ইউ শুড নট গিভ াপ

হঠাৎ শর্মিলাদি ভ্িষণ রেগে গেল তার ওপর, এসব বলা খুব সহজ গর্ব্ি, পারব না, পারব না | এই দাগগুলো নিয়ে একটা স্বাভাবিক জ্িবন যাপন করা সম্ভব নয় ামার পক্সে এটা তোমরা কেউ কেন বুঝতে পারছো না? ার তোমাদের এই জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা অমি শুনতে চাই না বুঝেছো?, , সবিতা, একবার এসো, ঝিল জড়ো হয়ে গেল দরজার সামনে, ঝিল বিস্ময়ভরে জানতে চাইল, , , বই খুলে বসো, , ামার তাহলে এখন রঞ্জনদাকে ফোন করা ছাড়া কোনও উপায় নেই | বাবলুদা তুমি রঞ্জনদাকে ফোন করো

, বাড়ি থেকে সব ায়না দ্ুর করে দাও — কে শোনে কার কথা

কি করছিলে তুমি দরজা বন্ধ করে?

শর্মিলাদি কতটা শান্ত হল কে জানে — সাড়ে দশটা নাগাদ গর্ব্িকে বেরিয়ে পড়তেই হল মহানির্বাণ রোড থেকে | বেরিয়েই াকাশের দিকে চোখ গেল তার্ | সকালের সেই ঝলমলে রোদ শুষে নিয়ে বৃষ্টির বিধান দিচ্ছে মেঘ, তুমি এখনও ওঠোনি ঘুম থেকে? মানেটা কি? ামাকে কাল এতবার বললে, , দের্ি করবি না, শর্মিলাদির অবুঝপনায় কম বিপন্ন বোধ করেনি সে সকালে | মাথাটা ধরে গেছে কেমন্ | তাকে াসতে বলে এরকম কেৎ্রে পড়ে াছে দেখে যশের ওপরে রেগে উঠতে এক মিনিটও লাগল না তার্ | প্রবল ডাকাডাকিতেও কাজ হচ্ছে না দেখে গর্ব্ি লাফিয়ে উঠে বসল যশের বুকের ওপর্ | চুলের মুঠি ধরে ঝাঁ্কাতে লাগল, , নয় ামি চললাম, , নেমে যা

, াগে তুমি ওঠো

যশ চোখ মারল তাকে | একমুখ হাসল,

সন্গে সন্গে নেমে দাঁ্ড়াল গর্ব্ি মাটিতে | লাফিয়ে, চেঁ্চিয়ে একটু হাঁ্পিয়ে গেছে সে, , তুমি যদি এখন কাজ নিয়ে বসতে চাও আমি আছি নইলে আই উইল লিভ — প্লিজ

, করবি না যদি? ভ্িষণ কিপটে আছিস তুই

শুয়ে শুয়ে তাকে আপাদমস্তক দেখতে দেখতে যশ বলল,

সং্ক্সেপে বলল গর্ব্ি শর্মিলাদির ব্য়াপারটা | যশ বলল,

হতাশ হয়ে বসে পড়ল সে যশের বেডের ধারে |

যশ বলল, , তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিই |

এই প্রস্তাবটা মনে ধরল তার্ | যদিও সে জানে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে যশ তাকে এক্সাইট করার চেষ্টা করবেই | সে শুয়ে পড়ল যশের পাশে‚ ওর হাতের ওপর মাথা রেখে | আর যশমাল্য় সত্য়িই সত্য়িই আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে লাগল তার মাথার চুলে | সে চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল চুপচাপ্ | এক সময় যশ তাকে চুম্বন করতে লাগল ঠোঁ্টে | বলল, , আদরের ধরন বদলে গেছে, আজকাল যশের স্পর্শের মধ্য়ে একটা অতিরিক্ত স্নেহ, মায়া, মমতা টের পায় গর্ব্ি | আগে ছিল প্য়াশন, পাহাড়ের মাথা থেকে গড়িয়ে এসে চুরমার হয়ে যাওয়া পাথরের মতো কামবোধ | এখন যশ এমন করে দেখে তার মুখটা, মনে হয় ভেতরে ভেতরে যশ ফিল করছে গর্ব্ি যশের কত নিজের,

গর্ব্ি মোবাইলে সময় দেখল, এগারটা পনেরো, দেড়টার মধ্য়ে ইউনিভার্সিটি ঢুকতেই হবে |

কিচেনে ঢুকে কফি বানাল সে | সিঙ্কে বাসনপত্র পড়ে তার্ | যশের মেড-ও আজ আসেনি | কাল রাতে কাজ করতে করতে দুজনে মদ্য়পান করেছিল, আরও তিনটে অতিরিক্ত হুইস্কির গ্লাস দেখে সে ভাবল তাহলে সে চলে যাওয়ার পর কেউ এসে থাকবে, তাকে দেখেই যশ বলল,

একটা সিগারেট ধরাল যশ্ | স্ক্রিপ্ট লেখার সময় যশমাল্য় একটা থেকে আর একটা সিগারেট ধরায় | যশের সন্গে থেকে থেকে গর্ব্িরও অনেক বেশি সিগারেট খাওয়া হয়ে যাচ্ছে | আগে সে দিনে ছটা-সাতটার বেশি খেত না | এখন যশের সন্গে বসে কটা টানে তার কোনও হিসেব নেই | কিন্তু সে যে ডোপ করে এটায় যশমাল্য়র আপত্তি | , গর্ব্ি | বারবার বলছি |’এয়ারপোর্টে দেখা হওয়াটা‚ একই ফ্লাইটে যাওয়াটা, সিট চেঞ্জ করে পাশাপাশি বসা এগুলো খুব স্মার্ট কিন্তু ভ্িষণ পাতি গর্ব্ি | এটা মেন স্ট্রিম হিন্দি সিনেমার মতো হয়ে যাচ্ছে | তার থেকে ওদের দেখা হোক বৃষ্টির মধ্য়ে গড়িয়াহাটের মোড়ে কিং্বা পার্ক স্ট্রিটে হতে পারে, বাবলির জন্মদিনের ব্য়াপারটা তো পরেই আছে | তো অনির্বান বাবলির জন্য় একটা কেক অর্ডার করতে পার্ক স্ট্রিটে আর নন্দিন্িও ছেলেকে স্কুলে ড্রপ করে ঠিক তখনই কাচের দরজা ঠেলে …

, ওরা তাহলে কেক শপেই বসুক, কফি খাক, কিন্তু বৃষ্টিটা?

, বিচ্ছেদ, শুকিয়ে যাওয়া সম্পর্ক, বৃষ্টিটা এখানে আসুক, ঝেঁ্পে বৃষ্টি আসুক, পুরনো স্মৃতির মধ্য়ে বিদ্য়ুত চমকাক

অনির্বান আর নন্দিন্ির দ্বিত্িয়বার দেখা হওয়ার জায়গাটা খুঁ্জে বের করল সে, গোটা তিরিশ পাতার স্ক্রিপ্ট্ | ধরে নেওয়া যায় পুরোটাই বাতিল করবে যশ্ | শটগুলো সবই আলাদা হয়ে যাবে | কথোপকথনটুকু এক থাকবে হয়তো | সে বলল, , ওরা কিন্তু কফির সন্গে ব্লু বেরিস চিজ কেক অর্ডার করবে যশ্?,
’ইয়াপ্পি’ বলে উঠল সে |
স্টাডির খোলা জানলা দিয়ে একটা ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে এল তখনই, সে বলল, ’ঠিক কতবার দেখা হবে নন্দিন্ির সঙ্গে অনির্বাণের, যশ, ছবিটায়?’
’ভাবিনি এখনও , ছ’বার সাতবার | শেষ দেখাটা অবশ্য় হতে হতেও হবে না, এবং তার মধ্য়ে দিয়েই তো ছবিটা শেষ হচ্ছে আমাদের’
যশ বলেছে নন্দিণ্ি আর অনির্বাণের সম্পর্কটার মধ্য়ে আর নতুন করে কিছুই ঘটার নেই, সম্পর্কটা একরকম মৃত, বাস্তবিকভাবেই দুজনের জ্িবল দু’দিকে চলে গেছে, কিন্তু যতবার অযাচিত ভাবে দেখা হয়ে যাচ্ছে দুজনের ততবার দুজনেই ভাবছে এই দেখা হওয়াটা সব বদলে দেবে, অন্য়রকম করে দেবে, একটা নতুন কিছু শুরু হবে আবার, পথ পাল্টাবে জ্িবন , শুধু বারবার দেখাটাই হয় মাত্র , তারপর দুজনেই সম্প্ুর্ণ হারিয়ে যায় দুজনের জ্িবন থেকে | আবার দেখা হয়ে যায় হঠাৎ একদিন

দু এক ফোঁ্টা বৃষ্টি পড়ছে | যশের সঙ্গে স্ক্রিপ্টে মগ্ন হওয়ার চেষ্টা করতে করতে গর্ব্ি দেখল বৃষ্টি নামতেই কাকগুলো ভয়ঙ্কর ওড়াউড়ি শুরু করে দিয়েছে | এই সময় বাসা বাঁ্ধে কাকগুলো, ডিম পাড়ে | এই বৃষ্টি ওদের পক্সে ভয়ের হওয়ারই কথা , ’ এয়ারপোর্টে দেখা হওয়াটা আমার খুব একটা মন’ যশ তাকাল তার দিকে, ’ বলিস নি কেন? বলা উচিত ছিল | তোর যদি কিছু ভাল না লাগে, আর সেটা যদি তুই চেপে যাস , তাহলে তোর ওপর আমি ভরসা করতে পারব না, আমি ধরে নেব কাজটায় তোর ইনভলভমেন্ট নেই’

আসলে আমার মনে হয় সত্য়িই কি তোমার স্ক্রিপ্ট লেখায় কারও সাহায্য়ের আদৌ কোন দরকার আছে? পরপর তিনটে সফল , পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি তৈরি করেছো তুমি | কত বিখ্য়াত পরিচালকদের সঙ্গে একযোগে নাম উচ্চারিত হচ্ছে তোমার- আমার মত ফিল্ম স্টাডিজের একজন সেকেন্ড ইয়ার স্টুডেন্ট সত্য়ি সত্য়ি কি হেল্প করবে তোমার মত ফিল্ম মেকারকে?”

, ’ তুই যতক্সণ আমার পাশে থাকিস, তুই যখন নন্দিন্ির ডায়লগগুলো লিখিস, তখন আমি বুঝতে পারি একটা মেয়ের মন, একটা মেয়ের আত্মা আমার সঙ্গে রয়েছে | তিনটে ছবির পরও একজন পরিচালকের মনে হতে পারে তার অনেকগুলো জায়গায় খামতি আছে, ফাঁ্কি আছে | এটা যুক্তির ব্য়াপারই নয়, এটা আমার দৃষ্টিভঙ্গি | আমি এভাবেই চলি , এভাবেই নানারকম হেল্প পাব বলেই তো আমার ইউনিটটা পছন্দের লোকজন নিয়ে তৈরি করেছি আমি গর্ব্ি? সায়ন, ভ্ুমিকা ওরা তো তোর মতই ইয়াং , নভিস | বাট আই নিড দেম | আমার টিমটা নিয়ে আমি গর্বিত | তোর মুডটা আজ সত্য়িই খারাপ হয়ে আছে | ’
’বুলি কোরো না’
’নাউ লেটস ডু সাম ওয়ার্ক?’
’ফ্লাস্কে কফি আছে, নিয়ে আসি?’ যশের গালে একটা আলতো চুমু খেয়ে গর্ব্ি কফি আনতে গেল, হলের পুরোনো ঘড়িতে তখন সাড়ে এগারোটা | একটা নাগাদ যশের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার রান্ির ফোন এল যখন ,’ আমি তাহলে বেরোচ্ছি’
’রবিদা তোকে ছেড়ে দিক কলেজে | রবিদা ফিরলেআমি বেরোবো | অত্িশের সঙ্গে মিটিং আছে আমার | কাল রাতে অত্িশ এসেছিল চিত্রাঙ্গদাকে নিয়ে | শাল্মল্ি নামের মেয়েটাকে তুই চিনিস্? কাজ দেখেছিস্? ঐ মেয়েটাও এসেছিল কাল’

শাল্মল্ি নামের মেয়েটকে সে চিনতে পারল না | অত্িশ যশের আর্ট ডিরেক্টর, তিনটে ছবিই যশ অত্িশের সঙ্গে করেছে | সে জানে চিত্রাঙ্গদাই ’নন্দিন্ি’ করছে | সেতা ফিক্সড্ | ’শাল্মল্ি’? নাহ চিনতে পারলাম না, পছন্দ হল তোমার?’
’হ্য়াঁ পছন্দ হয়েছেই বলা যায়, বেশ ন্য়াকা টাইপ | ’বাবলি’ মানাবে | তবে জোয়ানাকেও আমি মাথায় রেখেছি | লন্ডন থেকে ফিরে আগে আমি সবার একটা লুক টেস্ট নেবো |’
’আমি আবার কখন আসবো আজ্?’ জানতে চাইল গর্ব্ি চুল ব্রাশ করতে করতে |
’ আয়, আটটায় | আমি ফিরে যাবো |’
’আটটা? শোন বিকেলে পড়ানো আছে আমার | সাড়ে পাঁ্চটা থেকে | সাতটার ভেতর আমি ফ্রি হয়ে যাবো | তুমি যদি অফিসে থাকোতাহলে আমি অফিসে চলে আসব’

অফিস মানে যশের প্রডাকশন অফিস | যশ বলল, ’ তাই আয় | আমি তো ওখানেই থাকব | রাতে ছেড়ে দেবো আমি তোকে বাড়িতে’

’ওক্কে’

ফোন করতে দেখা গেল রবিদা তখনো আসেনি | যশ বলল,’তাহলে?

’ দের্ি হয়ে গেছে অনেক | যশকে বাই করে গর্ব্ি ছুটল লিফটের দিকে | নেমে একটা ট্য়াক্সি নিল সে | সিগারেট ধরাল | খিদে পেয়েছে ভ্িষণ | ক্লাস শেষ করে খেতে খেতে চারটে বেজে যাবে | বৃষ্টিটা ধরে গেছে কিন্তু আকাশ তখনো মেঘলা | ঢাকুরিয়া ব্রিজ পার হয়ে একটা ছোট দোকানের সামনে ট্য়াক্সিটা এক মিনিটের জন্য় দাঁ্ড় করিয়ে একটা কেক কিনে মুখে পুরল সে | চার নম্বর গেটের সামনেই অনেকগুলো স্টল আছে | কেক বিস্কুট সেখানেও পাওয়া যায় কিন্তু গলধ

কেকটা খেয়ে হাত ঝাড়তে না ঝাড়তে ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ল সে ট্য়াক্সি থেকে,ছুটল, ঢুকে পড়ল আর্টস বিল্ডিং্-এ | ঢুকতে গিয়ে গেটের সামনে জমায়েত হওয়া, বসে থাকা একটা মেয়ের মাথায় ধাক্কা খেলো তার ঝোলাটা | ’সরি’ বলল সে ছুটতে ছুটতেই | সিঁ্ড়ি ভাঙ্ল দুদ্দার করে | দশ নম্বর ঘরের দরজা ভেজানো, সে খুলে ফেলল দরজাটা | রঘুব্ির চৌধুর্িকে দেখল চুপচাপ দাঁ্ড়িয়ে | বাকিরা কথা বলছে কিছু একটা নিয়ে খুব উৎ্সাহের সঙ্গে | ’সরি, সরি ফর বিয়িং লেট’ বলতে বলতে রিপনের পাশে বসে পড়ল ধপাস করে |

, ডাকটা কর্কশ | গোপন অস্বস্তিটা দানা বাঁ্ধছে একটু একটু করে রঘুব্িরের মধ্য়ে ডাকটা শুনতে শুনতে | সে চেষ্টা করছে জুঝতে অস্বস্তিটার সঙ্গে, অস্বস্তিটা ভয়ে পর্যবসিত হওয়ার আগেই সে চাইছিল পাখিটা চুপ করুক | এখন তার ভয় পাওয়ার সময় নয় | অন্য়মনস্ক হওয়ার সময় নয় | এখন তার এক এবং একমাত্র কর্তব্য় পড়ানো | স্ক্রিনিং রুম থেকে ’আমার লেনিন’ দেখে বেরিয়ে একে একে ক্লাসে ঢুকছে সেকেন্ড ইয়ার | ওরা গুছিয়ে বসা অব্দি অপেক্সা করছিল রঘুব্ির | , ’সবাই এসে গেছে? ক্য়ান উই স্টার্ট?’ ঠিক এই সময় হাঁ্পাতে হাঁ্পাতে ক্লাসে ঢুকল গর্ব্ি’সরি,সরি ফর বিয়িং লেট’ বলতে বলতে ছুটে গিয়ে বসে পড়ল রিপনের পাশে | আর অমনি কর্কশ ডাকটা থেমে গেল বাইরে | জানলা দিয়ে তাকিয়ে রঘুব্ির দেখল পাখিটা উধাও, যেন ছিলই না আসলে | আর তার অস্বস্তিটাও চলে গেল সঙ্গে সঙ্গে | সে না তাকানোর মত করে তাকাল গর্ব্ির দিকে – গর্ব্িকে দেখলে তার একটুও ভয় করে না, অন্য় ভয়গুলো, ’ ও হ্য়াঁ গর্ব্ি তো আছে |’ সেই রাত্রে ফোনটা ফেরৎ দিতে এসে গর্ব্ির আঙ্গুল তার আঙ্গুলে ঠেকে গেছিলো, সে আশর্য হয়েছিল এই দেখে যে গর্ব্ির স্পর্শে কোন ভাষা ছিল না | ছিল ন্িরবতা | গর্ব্ির আঙ্গুল না ঠান্ডা না গরম

ক্রমশ

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.