মেঠো ধুলো মেখে পড়ে রইল উনুন-শিলনোড়া-হাতাখুন্তি-সাঁড়াশি, চলে গেলেন শতবর্ষীয়া রন্ধনশিল্পী

মেঠো ধুলো মেখে পড়ে রইল উনুন-শিলনোড়া-হাতাখুন্তি-সাঁড়াশি, চলে গেলেন শতবর্ষীয়া রন্ধনশিল্পী

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

গ্রামের মেঠো আলের ধারে কাঁচা উনুন | শীর্ণ হাত খচখচ করে তরকারি কাটছে | মশলা পিষছে | থেঁতো করে নিচ্ছে গোটা মশলা | তারপর গ্রামের পথের ধারেই তৈরি হচ্ছে একের পর এক বিস্ময় | কখনও এমু পাখির মাংসের স্বর্গীয় কষে কষা ঝাল ঝোল | কখনও তরমুজের ভিতরে নবজন্ম চিকেনের | অথবা একের পর একে শিকে গেঁথে যাচ্ছে কাবাব | সবই খোলা আকাশের নিচে | তোলা উনুনে | গত দু বছর ধরে এভাবেই গ্রাম্য স্বাদের আস্বাদন হচ্ছিল অন্দ্রাক্ষরী মস্তানাম্মার হাতে | ইউটিউবের মাধ্যমে তিনি নাকে ঝামা ঘষে দিতেন শহুরে আভিজাত্যের | চলে গেলেন শতবর্ষীয়া রন্ধনশিল্পী | ১০৭ বছর বয়সে মৃত্যু হল অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলায় গুঢিওয়াড়া গ্রামে | 

হাতের রান্নায় এত স্বাদের বাহার | কিন্তু তাঁর জীবন ছিল রূপ-রস-বর্ণ হীন | বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১১ বছর বয়সে | এগারো বছরের দাম্পত্যে পেলেন চার সন্তান এবং অকাল বৈধব্য | বাইশ বছর বয়সী মস্তানাম্মা তখন খেতমজুর | মাঠে পরিশ্রমের মাঝেই রান্নাবান্না সেরে ফেলা | নইলে চারজন সন্তানের মুখে কী তুলে দেবেন ! বেশিদিন তুলে দিতেও হল না | কলেরা নিয়ে নিল তিনজনকে |

এরকম চরম শোকও যা নিতে পারল না তা হল মস্তানাম্মার হাতের জাদু | অতি সামান্য উপকরণেও বাজিমাত করা ছিল তাঁর ডান হাতের খেলা | কোনওদিন ব্যবহার করেননি স্টোভ বা এলপিজি গ্যাস | কাঠ বা কয়লার আঁচই ছিল তাঁর সৃষ্টির ইন্ধন | মিক্সার গ্রাইন্ডারের ঘরঘরানি নয় | আম্মার কানে মধুর মনে হতো শিলনোড়ার ঘষঘষানি |

এইভাবেই জন্ম দিয়ে চললেন সন্তানদের | জীবন তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে তিনজন সন্তানকে | পরিবর্তে তিনি জীবনকে দিয়েছেন নিজের সন্তানসম অসংখ্য পদ | কখনও চিকেন ড্রামস্টিক‚ আবার কখনও বা কেএফসি-র মাংস ভাজা | আবার কোনওদিন বাঁশের ফাঁপা অংশে মন গুমরে পড়ে থাকত বিরিয়ানি | গলত না যতক্ষণ অবধি কেউ তাকে রসনায় ধারণ করছে |

হাতের জাদুর মতোই অমলিন বৃদ্ধার ফোকলা মুখের হাসি | অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়িয়ে তামিলনাড়ু‚ কেরল‚ কর্নাটক ছাপিয়ে বিন্ধ্য অতিক্রম করে সারা বিশ্বে বৃদ্ধার নাতি নাতনিরা আমোদিত হয়েছে রান্নার সুবাসে | বছর দুয়েক আগে তাঁর দূর সম্পর্কের নাতি কে. লক্ষ্মণ এবং তাঁর এক বন্ধু শ্রীনাথ রেড্ডি মিলে শুরু করেন ইউ টিউব চ্যানেল কান্ট্রি ফুডস | সাড়ে বারো লক্ষের বেশি সাবস্ক্রাইবার নিয়ে মস্তানাম্মা ছিলেন বিশ্বের প্রবীণতমা ইউটিউবার | এই চ্যানেলে প্রথম বার পোস্ট করা হয়েছিল বেগুনের তরকারি | সেটাই আজ অবধি এই রন্ধনশিল্পীর জনপ্রিয়তম পদ | কান্ট্রি ফুডস চ্যানেলে পোস্ট করা হয়েছে বৃদ্ধার শেষকৃত্যও | স্বর্গীয় রান্নার পদ যেখানে‚ সেখানেই নশ্বর থেকে অবিনশ্বর হলেন তিনি |

গ্রামের পথের পাশে পড়ে রইল তাঁর উনুন-শিলনোড়া-মশলাপাতি-হাতাখুন্তি-সাঁড়াশি | সব ফেলে চলে গেলেন বৃদ্ধা | যাঁর বিয়ে হয়েছিল ১১ বছর বয়সে‚ বৈধব্য ২২-এ‚ আর বিশ্বজোড়া খ্যাতি ১০৭-এ | চিতা থেকে কুণ্ডলি হয়ে পাক খেয়ে ওঠা ধোঁয়ায় স্বর্গপ্রাপ্তি হয়েছিল অভাগীর | সেরকমই হয়েছে কি এই বৃদ্ধারও যখন গ্রামের মাঠের ধারে তাঁর মাটির উনুনের আঁচ থেকে ধোঁয়া হাত বাড়িয়েছিল আকাশের দিকে ? সঙ্গে এমন অনেক খাবারের ঘ্রাণ নিয়ে‚ যা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কোনওদিন হয়তো সন্তানদের মুখে তুলেও দিতে পারেননি এই রন্ধনশিল্পী |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।

Pradip autism centre sports

বোধ