নিজের ঘর থেকেই নারী পুরুষের পালাবদলের পর্ব শুরু মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের

শুধু বাইরে নয় বরং চার দেওয়ালের ঘেরাটোপের মধ্যেও নারীপুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজকে টেনে আনছেন দিল্লির তিনজন মহিলা পুলিশ আধিকারিক | বিজয়ন্ত আর্য‚ মণিকা ভরদ্বাজ ও নূপুর প্রসাদ | নিজেরা সমাজের তথাকথিত দৃষ্টিভঙ্গিতে  ছেলেদের কাজ  করেও গৌরবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজেদের সম্মাননীয় স্থান | আর বাড়ির ছোটদেরও শেখাচ্ছেন কথায় না বড় হয়ে কাজে হতে হবে বড় | দিল্লির মত জায়গায় যেখানে একা মহিলারা রাস্তায় বেরোতে ভয় পান সেখানেই দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বীরাঙ্গনারা | 

বিজয়ন্ত ছয় ও চার বছরের দুই ছেলের মা | নিজের ছেলেদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন ছেলেদের কাজ ও মেয়েদের কাজ আলাদা নয় | চাইছেন ছোট থেকেই যাতে তাদের মনে সমানাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে ওঠে | মণিকারা বাবাও দিল্লির একজন পুলিশ আধিকারিক | মণিকারা চারজন ভাইবোন | ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন বাড়িতে ছেলে মেয়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য চাপিয়ে দেওয়া হয়নি |  বিজয়ন্ত ও মণিকা, দুজনের স্বামীই পুলিশ আধিকারিক হওয়ায় সংসার ও কাজ সমান দক্ষতায় সামলাতে কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁদের | নূপুর জানিয়েছেন তাঁর বাড়িতেও তাঁর বাবা মা কখনও ছেলেমেয়ের মধ্যে কোনও বিভাজনের মনোভাব পালন করতে দেননি | ভবিষ্যতে মা হলে তিনিও তাঁর সন্তানকে এই শিক্ষাই দিতে চান বলে জানিয়েছেন নূপুর |

ভারতের অন্যতম বাণিজ্যপ্রধান শহর হওয়ায় দিল্লিতে প্রতিদিন বাইরে থেকে বহু মানুষ আসেন ও চলে যান | ফলত খুব সহজেই কোনও অপরাধ করে গা ঢাকা দেওয়া যেতে পারে দিল্লিতে | কিন্তু তা সত্ত্বেও যেন দ্বিতীয়বার কোনও মেয়েকে নির্ভয়া না হতে হয় সেই পণে দৃঢ়সংকল্প এই মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা | নিজেদের কাজের মাধ্যমে দিনের পর দিন সমানাধিকারের নজির গড়তে নিয়োজিত | এবং শুধু কাজেই নয়‚ বাড়ির পরিবেশে ও আগামী প্রজন্মের মনোভাবে যাতে সমানাধিকারের বীজ বুনে দেওয়া যায় সেদিকেও যত্নবান এঁরা |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।