দেবী দুর্গার মুখ দেখা বা তাঁর কথা শোনা, দুটোই তাঁদের কাছে পাপ | তাই দুর্গা পুজোর কয়েক দিন প্রাণপণে তাঁরা চেষ্টা করেন যাতে দেবীর মূর্তি দেখতে না হয় | কারণ তাঁরা নিজেদের মহিষাসুরের বংশধর বলে মনে করেন | ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরবঙ্গে বাস করেন আদিবাসী প্রজাতির প্রায় ৮ হাজার মানুষ, পরম্পরা অনুযায়ী যাঁরা মহিষাসুরের বংশধর | আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি গ্রামের নামই ‘অসুর গ্রাম’ |

এই সম্প্রদায়ের পদবীও ‘অসুর’ | ‘তফশিলী উপজাতি’-র অন্তর্গত এই জনজাতি বিশ্বাস করেন তাঁরা মহিষাসুরের উত্তরপুরুষ | মার্কণ্ডেয় পুরাণের আখ্যান অনুসরণ করেন তাঁরা | মনে করেন, মহিষাসুর-নিধন আসলে দেবতাদের ষড়যন্ত্র | তাই অসুরদের বংশধররা দুর্গাপুজোর চারদিন আলাদা পুজোর আয়োজন করে | মূর্তিপুজোয় অবিশ্বাসী এই সম্প্রদায় দুর্গাপুজোর কয়েকদিন শোকদিবস পালন করেন |

Banglalive-4

গবেষকরা মনে করেন উপজাতি সম্প্রদায়ের এই মানুষের আদি বসবাস ছিল ছোটনাগপুর মালভূমি | ব্রিটিশরা এঁদের বহাল করেছিল চা বাগানের কাজে | সেই থেকে এঁরা থেকে গেছেন উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকায় |

Banglalive-6

কিন্তু এঁদের সঙ্গে অসুর শব্দ জড়িয়ে গেল কেন ? তার নেপথ্যে কোনও লিখিত প্রমাণ নেই | জনশ্রুতিতে আস্থা রেখেই চলে আসছে ধ্যানধারণা | গবেষকরা বলেন, ঋগ্বেদ এবং সামবেদের যুগে ‘অসুর’ কথা বোঝানো হত শক্তিশালী পুরুষকে বোঝাতে | পরে সেই কথাটার অর্থের অধোগতি হয় | এবং ইন্দ্রের গুরুত্ব বা মহিমা বাড়াতে ‘অসুর’ কথাটার অর্থ হয়ে দাঁড়ায় নেগেটিভ |

Banglalive-8

তবে এই ঐতিহ্য কতদিন টিকে থাকবে সে নিয়েও সংশয়ে ‘অসুর’ সম্প্রদায়ের প্রবীণরা | কারণ সম্প্রদায়ের নবীন প্রজন্ম মানতে চায় না পুরনো গল্প | এমনকী অনেকে গা ভাসান চিরাচরিত শারোদোৎসবে |

Banglalive-9

এ ভাবেই উজান স্রোতে সাঁতার দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন ‘ মহিষাসুরের বংশধররা’ |

আরও পড়ুন:  এইভাবে এক বছর অবধি সংরক্ষণ করতে পারবেন ডিম!

NO COMMENTS