সারাদিন ডেস্কে বসে কাজের পর উঠে দাঁড়ালেই পিঠে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করেন? হয়তো প্রতিদিনই ঘটে এমনটা কিন্তু বিশেষ আমল দেন না। সময় থাকতে থাকতে কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। সম্প্রতি বোস্টন মেডিকেল সেন্টার-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ক্রমাগত পিঠে ব্যথা হওয়া খুবই সাংঘাতিক, যা মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এছাড়াও জার্নাল অব জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিন-এর প্রকাশিত একটি লেখাতেও এই একই কথা দাবি করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পিঠের ব্যাথা মৃত্যুর বার্তা বহন করছে। শুধু তাই নয় পুরুষের তুলনা মহিলারাই পিঠের ব্যথার সমস্যায় বেশি ভোগেন। চিকিৎসকের কথায়, অনেক সময়ে আমরা মনে করি যে, সামান্য পিঠের ব্যথা হয়তো ব্যয়াম করলে বা সাঁতার কাটলে ঠিক হয়ে যাবে । কিন্তু এই ধারণা ভুল। নিয়মিত পিঠের ব্যথায় কষ্ট পেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

অপুষ্টির পাশাপাশি অতিরিক্ত পুষ্টি কখনও কখনও শারীরিক অসুস্থতার কারণ হয়। বেশি খাবার খেলে তা শরীরে শুধুমাত্র বর্জ্য বাড়ানো ছাড়া বাড়তি কোনো উপকারে আসে না। যারা খুব বেশি মাংস খেতে পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত প্রোটিনের ফলে শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। শরীরের জয়েন্টগুলোতে ইউরিক অ্যাসিড জমা হয়ে তখন বিভিন্ন শিরা-উপশিরা ফুলে যায় এবং সেখানে ব্যথা অনুভব হয়, যা গেঁটে বাত বা রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস নামে পরিচিত। মেয়েদের ক্যালসিয়ামের অভাবেও পিঠে ব্যথা হতে পারে। ৪০ পেরনো মহিলারাই পিঠের ব্যথায় বেশি ভোগেন। এর পেছনে কতগুলো কারণ আছে। যেমন শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, ঝুঁকে কাজ করা, মাতৃত্বকালীন সময়, ভারী জিনিস ওঠানো, পুষ্টির অভাব। এছাড়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলেও পিঠে ব্যথা দেখা দিতে পারে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে বয়স্ক মানুষের শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা দেখা দেয়। কোমরের হাড় সরে যাওয়া, মেরুদণ্ডে হাড় ক্ষয় বা বৃদ্ধি, ওজন বেড়ে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের আথ্রাইটিসের কারণে কোমরে ও ঘাড়ে ব্যথা দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া চেয়ারে বসার সময় বেশিক্ষণ সামনের ‍দিকে ঝুঁকে বসলেও কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে । এজন্য শিশুদের পড়ার টেবিলে বসার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারা খুব বেশি ঝুঁকে না বসে। চেয়ারে বসতে হবে মেরুদণ্ড ও ঘাড় সোজা রেখে। এ নিয়মটা বড়দেরকেও মেনে চলতে হবে।

আরও পড়ুন:  হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির পরেই মৃত্যু মধ্যবয়সীর

দেখে নেওয়া যাক কি কি ধরণের পীঠে ব্যথা হয়ে থাকে এবং তার সমাধান কী কী…

 # যান্ত্রিক পিঠে ব্যথা (Mechanical Back Pain)

Banglalive-8

শরীর অত্যন্ত জটিল একটি যন্ত্র। তাই শরীরে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে এই ধরণের পিঠে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। হাঁটা-চলা, বসা, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন যে কোনও কাজ করার সময়ে এই ধরণের ব্যথা অনুভব হয়। কিন্তু আপনার এক্স-রে বা এমআরআই রিপোর্ট হয়তো একদম স্বাভাবিক, কিন্তু দিন দিন ব্যথার পরিমাণ যেন বেড়েই চলেছে। অনেকক্ষেত্রে মাংসপেশী দুর্বল হলে বা ভুল পশ্চারে ব্যয়াম করলেও এই ধরণের সমস্যা হয়।

Banglalive-9

কীভাবে এড়াবেন?

ঠিক কী কারণে পিঠে ব্যথা হচ্ছে তার উৎস খুঁজে বের করতে হবে। প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ করা উচিৎ নয়। ভূজঙ্গাসন করলে পীঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। ব্যয়াম করেও যদি ব্যথা না কমে তাহলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। ব্যথা যদি ৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনুভূত হয় তাহলে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

# প্রদাহমুলক পীঠের ব্যথা (Inflammatory Back Pain)

মূলত এইধরনের পিঠের ব্যথায় যাঁরা ভুগছেন তাঁদের বেশিরভাগই খুব সকালের দিকে পীঠের পেশিতে একটা টান অনুভব করেন। ঘণ্টাখানেক পরে তা আবার ঠিকও হয়ে যায়। এটিও এক ধরণের আর্থারাইটিস। মেরুদণ্ড, কাঁধের হাড়ে ক্ষয় হলে এই ধরণের ব্যথা অনুভব হয়। এর পোশাকি নাম অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস।

কীভাবে এড়াবেন?

এই ব্যথা কম করতে নিয়মিত ধ্যান করা দরকার। সেইসঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া উচিৎ। যদিও মাথায় রাখতে হবে যে, এই ধরণের প্রদাহমূলক ব্যথা কিন্তু সেরে উঠতে সময় লাগে। সুতরাং নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা একান্ত কাম্য।

# অতিরিক্ত চাপ থেকে হওয়া পিঠের ব্যথা

আরও পড়ুন:  ত্বকের যত্ন নিতে ঘরোয়া কয়েকটি ফেসপ্যাক

শরীরযন্ত্র এককভাবে কখনওই কাজ করতে পারে না যদি না মন সঙ্গ দেয়। শরীরের সঙ্গে মন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে সাইকোজেনিক ব্যাক পেইন অনুভব হয়। এক্স রে বা এমআরআই-তে এই ব্যথা অনুভূত হবে না, কিন্তু আপনি প্রতিনিয়ত এই ধরণের পিঠের ব্যথা অনুভব করবেন।

কীভাবে এড়াবেন?

এই ধরণের ব্যথা এড়াতে প্রয়োজন পড়ে কাউন্সিলিং-এর। সেইসঙ্গে নিয়ম করে মেডিটেশন করাও দরকার। এছাড়াও অবসর সময়ে শুয়ে থাকতে পারলে ভাল।

# গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা

গর্ভাবস্থায় খুব স্বাবাভিকভাবেই শরীরের মাংশপেশি প্রসারিত হয়, যাতে প্রসবের প্রক্রিয়া খুব সহজে হতে পারে। এটি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। কিন্তু এর ফলে মেরুদণ্ডের নীচের দিকে, কোমর, পেলভিসের অংশে ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে, যা ধীরে ধীরে পিঠের ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কীভাবে এড়াবেন?

চিকিৎসকেরাও বলেন গর্ভাবস্থায় বেশি ঝুঁকে কোনও কাজ না করতে, বেশি ভারি জিনিস না তুলতে, শোওয়া বা বসার সময়ে সঠিকভাবে অঙ্গবিন্যাস করলে এই ধরণের পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

NO COMMENTS