প্রসেনজিৎ খুব ডিসিপ্লিন্ড অ্যাক্টর : গৌতম ঘোষ

সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি সমালোচক ও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘শঙ্খচিল’ | গৌতমের হাত ধরে আবারও জাতীয় মঞ্চে বাংলা সিনেমার জয়জয়কার | ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় তৈরি এ ছবি মুছে দিয়েছে সীমান্তের কাঁটাতার | সেই গৌতম ঘোষের সিনেমা-ভাবনা থেকে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সবকিছু বিস্তারে শব্দের অক্ষরে ধরলেন তন্ময় দত্ত গুপ্ত |

আজকের সময়ে ‘শঙ্খচিলের’ মতো ছবির প্রাসঙ্গিকতা কোথায় ?

গৌতম ঘোষ : এর প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চয়ই আছে।আমরা একটা জাতিকে ভাগ করে দিয়েছিলাম ১৯৪৭ সালে।এই জাতির মধ্যে কারোর ধর্মবিশ্বাস ইসলাম,কারো হিন্দু,কারোর বা খ্রীষ্টানিটি । কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য করার মতো । সেটা হলো, এরকম জটিল সীমান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই । আমাদের দুই দেশে একই রকমের সংস্কৃতি,নদী, নালা, খাল,বিল । বাংলাদেশ এখন সার্বভৌম দেশ । আর আমরা একটা অঙ্গরাজ্যে বাস করছি । আমি মনে করি আমাদের মধ্যে একটা সেতু রচনা করা দরকার । বর্ডার, রিফিউজি, রিপ্লেসমেন্ট— এই সমস্যা পৃথিবীর সর্বত্র । তাই আমি ‘শঙ্খচিলের’ মতো ছবি করেছি।‘শঙ্খচিল’ হোল প্রতীকী ।  ‘শঙ্খচিল’ দুই বাংলার আকাশে ঘুরে বেড়ায় । তার কোনো সীমান্ত নেই।

আপনার ‘মনের মানুষ’ ছবিতেও জাতপাতধর্ম নির্বিশেষে মনুষ্যত্বের কথা বলা হয়েছে।‘শঙ্খচিল’-ও খানিকটা সেরকম।দুটো ছবি কি কোথাও এক স্রোতে এসে মিশছে?

গৌতম ঘোষ : এটা আসলে মানবিক আবেদনের স্রোত । আমি সবসময় সহিষ্ণু সমাজের স্বপ্ন দেখি । আমার বহু ছবির মধ্যে এটা রয়েছে।

‘শঙ্খচিলের’ ভাবনা আপনার মধ্যে কীভাবে এল?

গৌতম ঘোষ : আমাকে বর্ডার এলাকায় অতিথি হিসেবে আহ্বান জানিয়েছিলেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল । তখন আমি বর্ডারে দুদিন ছিলাম । সীমান্তরক্ষীদের কাছ থেকে আমি অনেক মানবিক গল্প শুনেছি । সেই ঘটনাগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আমি চিত্রনাট্য তৈরি করেছি।

‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবিতেও বাংলাদেশ এসেছে আপনার ছবিতে বার বার এপার বাংলাওপার বাংলা ঘুরে ফিরে আসছে?

গৌতম ঘোষ : এর কারণ হলো আমরা যত যৌথ প্রযোজনা করব ততই আমাদের সিনেমার বাজার বাড়বে । আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান হবে । সমস্ত পৃথিবী জুড়ে বাঙালি ছড়িয়ে আছে । এই অনাবাসী বাঙালির মধ্যে সত্তর ভাগ বাংলাদেশের বাঙালি।

‘শঙ্খচিল’ ছবির একটি দৃশ্যে দেখা যায় কাকেদের কর্কশ হাহাকার।এটা কি কোনও মৃত্যুর পূর্ব ইঙ্গিত?

গৌতম ঘোষ : ঠিক মৃত্যু নয় । কাকের সঙ্গে শহরের একটা সম্পর্ক রয়েছে । কাক আশ্চর্য পাখি । এবং কাকেদের কথা আমরা অনেক লেখায় পেয়েছি । এছাড়াও মানুষের মনে কাক একটা অশুভ ইঙ্গিত । যদিও আমি ছবিতে কোনও ইঙ্গিত দিতে চাইনি । এটা হচ্ছে একটা সিনেম্যাটিক এক্সপ্রেশন । সিনেমার অভিব্যক্তি সাহিত্যের থেকে আলাদা । সাহিত্যের থেকে সিনেমার ইমপ্যাক্ট অনেক বেশি হয় । আপনি যে দৃশ্যের কথা বলছেন, সেখানে শুধু কাকেদের ভিস্যুয়াল ছিল না । সমস্ত সাউণ্ড ট্র্যাক জুড়ে ছিল কাকেদের কর্কশ আওয়াজ । এটা যেন যন্ত্রণাবিদ্ধ বাদলকে তাড়া করছে । পরিচালক একটা ভাবনা থেকে সিনেমা করেন । সেই ভাবনাকে দর্শক নানা ভাবে দেখেন । সেটা পরিচালককে গ্রহণ করতেই হয়।

সত্তরের দশকে আপনি প্রথম ছবি করেন তখন চারপাশের রাজনৈতিক পরিবেশ, অস্থিরতা সিনেমায় উঠে আসত এখন কোনও সিনেমায় তেমন সময়ের শব্দ উঠে আসে না এটার কী কারণ বলে মনে হয়?

গৌতম ঘোষ : আমার মনে হয় ওই সমস্ত বিষয় সিনেমায় প্রতিফলিত হচ্ছে । কিন্তু সরাসরি হচ্ছে না । নতুন বাজার অর্থনীতির প্রতিফলন আমার ছবিতে এসেছে । এখনকার রাজনৈতিক সংঘাত সিনেমায় অবশ্যই আসা উচিত । আমার অল্প  বয়সের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল । সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ছাত্র আন্দোলন, ভিয়েতনামের যুদ্ধ,  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, নকশাল বাড়ি আন্দোলন—আমাদের মনে ভয়ংকর ভাবে ছাপ ফেলেছিল । পচে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন আমরা সবাই চাইছিলাম । যার প্রতিফলন অনেক পরে আমার ‘কালবেলা’ ছবিতে এসেছিল । এটা ঠিক নতুন অর্থনীতির অনেক ভালো দিক আছে । হয়ত অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে । কিন্তু এর বিরূপ দিকও আছে।

বিরূপ দিক বলতে?

গৌতম ঘোষ : প্রতিটা দেশের যে বাস্তবতা তার থেকে ইয়ং জেনারেশনকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে । তার আইডেনটিটি ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে । এর ফলে শোষণ, বৈষম্য থেকে মানুষের মন সরে যাচ্ছে । আর চলচ্চিত্রকারও তো মানুষ । ফলে চলচ্চিত্রকাররাও তার গণ্ডীবদ্ধ কিছু জায়গায় আটকে পড়ছে । তাই তারা দেখতে চাইছে না একটা আদিবাসী এলাকায় মানুষের অবস্থা কী । তারা দেখতে চাইছে না চা-বাগান শ্রমিকদের ভেতরের অবস্থা কী । এবং সত্যি কথা হলো নিম্নবর্গীয় মানুষের সমস্যা খুব একটা খবরের কাগজে আসে না । তারা এক রকমের ব্রাত্যজন । তাই সাধারণ মানুষের গল্প থেকে ফিল্মমেকাররা সরে আসছে।

এই কারণেই কি আজকের বাংলা সিনেমায় শুধুমাত্র উচ্চবিত্তের জীবন-যাপন দেখানো হয়?

গৌতম ঘোষ :  এর কারণ হলো বাজার অর্থনীতির উচ্চাকাঙ্খা । সবাই বড়লোক হতে চাইছে । ভোগবাদী চিন্তা মানুষকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে । মানুষ সব সময় একটা আরামদায়ক জীবনের কথা ভাবছে । আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি যারা রোজগারের শুরুতে পঞ্চাশ হাজার টাকার ঘড়ি কিনেছে । এবং এটা নিয়ে সে গর্ববোধ করছে । এই লোক দেখানো ব্যাপারটা ভোগবাদের একটা অংশ । এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ল ।

কোন ঘটনা ?

গৌতম ঘোষ : অমলাশঙ্কর আমাকে খুব স্নেহ করেন । উনি অল্প বয়সে বাবার সঙ্গে যখন বিদেশ ঘুরতে গিয়েছিলেন তখন ‘সাত সাগরের পার’ বলে একটা বই লিখেছিলেন । ওই বইটার ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস । নেতাজী সুভাষচন্দ্র অমলাশঙ্করকে বলেছিলেন—‘আমরা যখন স্বাধীন হব তখন প্রথম পঁচিশ বা পঞ্চাশ বছর আমরা নিয়ম করব, বিয়ে,শ্রাদ্ধতে যেন অপচয় না হয় । কারণ সেই টাকা দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের উপকার করতে পারব |’ এটা নেতাজীর কথা । এই সব কথা আমরা আজ ভুলে গেছি । ভোগবাদ আমাদের ভুলিয়ে দিয়েছে । ফলে সবাই একটা এলিটিস্ট চিন্তার মধ্যে রয়েছে । সকলেই ধনী হতে চাইছে । কিন্তু একটা দেশে তো সকলেই ধনী হতে পারে না ।

আপনি একটু আগে বললেন সত্তরের দশকে মানুষ একটা পরিবর্তন চেয়েছিল পাঁচ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটল কিন্তু তার প্রতিচ্ছবি সাংস্কৃতিক আঙ্গিনায় দেখা গেলো না?

গৌতম ঘোষ : এটা একটা রাজনৈতিক পরিবর্তন । কিন্তু সামাজিক বড় পরিবর্তন নয় ।  রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে কোনো দল হয়ত কিছু ভালো কাজ করেছে । কিন্তু সামাজিক বৈষম্য দূর হয়নি । বৈষম্য বেড়েই চলেছে । যে পরিবর্তনের কথা আমরা সত্তরের দশকে ভেবেছিলাম, সেটা ছিল একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন । সেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এখনকার রাজনীতিতে নেই । এখনকার রাজনীতি কম্প্রোমাইজের রাজনীতি । ভোট ভিত্তিক রাজনীতি । ক্ষমতা দখলের রাজনীতি । এখন তৃণমূল স্তর থেকে সামাজিক ক্ষতগুলো দূর করার চেষ্টা হচ্ছে না । আমার মনে হয় এই সব থেকে মুক্তি পেতে হলে আরো বড় সমাজ সংস্কারের প্রয়োজন । যেটা যুগ যুগ ধরে হয়েছে । শুধুমাত্র রাজনৈতিক পালাবদল করলে হবে না । মূল জায়গার সংস্কার করতে হবে । সরকারের কতো রকমের ডিপার্টমেন্ট রয়েছে । কিন্তু ‘সংস্কার’ বলে কোনো ডিপার্টমেন্ট নেই।

সিনেমা কি আজ দর্শকের কাছে শুধুই বিনোদন?

গৌতম ঘোষ : সিনেমা শুধু বিনোদন নয় । এর একটা সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে । এটা আমি বিশ্বাস করি । ‘শঙ্খচিল’ ছবির মধ্যেও একটা সামাজিক বার্তা আছে । এটা এখনকার গল্প । কিন্তু এর পেছনে রয়েছে আমাদের বাংলা ভাগ হয়ে যাওয়ার ক্ষত । বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটা অ্যাবসার্ড বর্ডার নিয়ে আমরা বাস করি । দুই বাংলায় আমরা একই সংস্কৃতি নিয়ে বড় হয়েছি । যদি দেশ ভাগ না হতো তাহলে আমাদের এই বৃহৎ বঙ্গ সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হতো । আমার পরের ছবিতেও একটা সামাজিক বার্তা রয়েছে ।

আপনার পরের ছবির বিষয় কী?

গৌতম ঘোষ  :  আমি পরিবেশ নিয়ে পরবর্তী ছবি করছি । আমরা নিজস্ব সুবিধার্থে প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি । আজ তিস্তার ভয়ানক অবস্থা হয়েছে । ওইরকম স্রোতস্বিনী নদী আজ নালার মতো হয়ে গেছে । উত্তরবঙ্গে গেলে আমার তিস্তাকে দেখে কান্না পায় । মানুষ এমন একটা লোভের স্বর্গে বাস করছে, সে ভবিষ্যতের কথা ভাবছে না । এটাই নতুন ভোগবাদী অর্থনীতির রূপ।

ঠিক কোন পদ্ধতিতে আপনি আপনার ছবিতে চরিত্র নির্বাচন করেন?

গৌতম ঘোষ  :  প্রথমে চরিত্রটা লেখা হয় । তারপর আমি ভাবি চরিত্রটা কাকে মানাবে ।  আবার কোনও কোনও সময় নির্দিষ্ট কোনও অভিনেতা আমার মাথায় থাকে । ‘দেখা’ করার সময় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আমার মাথায় ছিল । ‘শঙ্খচিল’ করার সময় প্রথমে কিন্তু আমি প্রসেনজিতের কথা ভাবিনি । ‘মনের মানুষ’ করার পর প্রসেনজিৎ বহুবার আমার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে । তাই আমি ওকে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম । ও খুব ডিসিপ্লিন্ড অ্যাক্টর । ‘মনের মানুষে’ অভিনয় করার পর থেকে প্রসেনজিতের মধ্যে একটা পরিবর্তন এসেছে । একটা চরিত্রকে তৈরি করতে গেলে যে পরিশ্রম দরকার, সেই প্রসেসটা প্রসেনজিৎ এখন বুঝতে পেরেছে । ‘শঙ্খচিলে’ রূপসার চরিত্র লেখার পর আমি ভাবছিলাম কে হবে রূপসা । ঢাকাতে আমি একজনকে পেয়ে গেলাম । আমার প্রযোজক হাবিবুর রহমান খানের নাতনি রূপসার চরিত্রে অভিনয় করল । আসলে সিনেমায় যে অভিনয় বিশ্বাসযোগ্য, সেই অভিনয়ই ভালো অভিনয় । আমি নানা ধরনের অভিনেতা-অভিনেত্রী হ্যাণ্ডেল করেছি । সুপারস্টার থেকে শুরু করে গ্রামের আনকোরা অভিনেতাকে আমি চরিত্রের কাছাকাছি আনার চেষ্টা করেছি ।

সুপারস্টারদের অভিনয় করানোর সময়ও কি ওই একই পদ্ধতি অবলম্বন করেন?

গৌতম ঘোষ  :  স্টারদের আমি বলি, তোমাদের অভিনয় করতে হবে না । তোমরা শুধু বিহেভ করো । বাকি দায়িত্ব আমার । সিনেমায় যত কম অভিনয় করা যায়, ততই মনে হয় বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়।

আপনার অভিব্যক্তির প্রকাশ মাধ্যমের মধ্যে একটা হলো কাহিনীচিত্র আর অন্যটি হলো তথ্যচিত্র এই দুধরনের অভিব্যক্তি কীভাবে বিভক্ত হয়?

গৌতম ঘোষ  :  আসলে এটা আমার জীবনের জার্নি । আমি জ্ঞান আহরণ করতে চাই । আরো জানতে চাই । এবং এটা আমৃত্যু চলবে । আমার কাছে তথ্যচিত্র, কাহিনীচিত্র আলাদা কিছু নয় । দুটোই তো চলচ্চিত্র । আমি বিসমিল্লা খানকে নিয়ে তথ্যচিত্র করেছি । তা বিসমিল্লা খানও তো আমার ক্যামেরার সামনে একরকমের অভিনয় করেছেন । তথ্যচিত্র থেকে আমি উদ্দীপনা, অনুপ্রেরণা পাই । যেটা পরবর্তী সময় কাহিনীচিত্রে কাজে লাগে । আমার আলাদা কোনও আইডেনটিটি নেই । আমি একজন ফিল্মমেকার । আমার তথ্যচিত্র এবং কাহিনীচিত্র দুটোই করতে ভালো লাগে।

জাতীয় পুরস্কার কি আপনাকে ছবি তৈরি করতে বাড়তি অনুপ্রেরণা জাগায়?

গৌতম ঘোষ  : জাতীয় পুরস্কার আমি বহুবার পেয়েছি । প্রত্যেকবার আমার মনে হয় এই জাতীয় পুরস্কারের কৃতিত্ব শুধু আমার একার নয় । এর পেছনে আমার কলাকুশলী,  অভিনেতা-অভিনেত্রী, আমার প্রযোজক — এদের প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । আর জাতীয় পুরস্কার ছবি রিলিজের আগে পেলে একটা অন্যরকম ইমপ্যাক্ট তৈরি করে । দর্শকের মনে বাড়তি উৎসাহ জাগায় ।

সত্তরের দশকের সম্পর্ক আর আজকের সম্পর্কের মধ্যে প্রকৃতিগত কি কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?

গৌতম ঘোষ  :  কতগুলো সম্পর্ক চিরকালীন এক থেকে যায় । মা এবং সন্তানের যে ভালোবাসা, স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা— এগুলো চিরকালীন । কিন্তু এখন ভোগবাদী পণ্যসর্বস্ব সমাজে পণ্যনির্ভর সম্পর্ক মনুষ্য সম্পর্কে প্রবেশ করেছে । স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এখন লেনদেনের চুক্তির মধ্যে চলে এসেছে । এটা সমাজিক রোগ । পণ্যবাহী সম্পর্ক কখনও মানবিক হতে পারে না । মানুষই এই নেগেটিভ ইমোশন থেকে বেরিয়ে আসতে পারে । মানুষের মন নেগেটিভ এবং পজেটিভ, এই দুই ইমোশনের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে । আবার সামাজিক অভিঘাতের মধ্যে দিয়ে সম্পর্কের পরিবর্তন হয় । নর-নারীর রোম্যান্টিক সম্পর্ক আজ অনেক পণ্য-নির্ভর হয়ে উঠেছে । কিন্তু রোমান্টিকতা মরে যায়নি ।

‘শঙ্খচিলে’ মৃত্যুর সঙ্গে সকলের পরিচয় হয়েছে আজ আপনার কাছে মৃত্যু ঠিক কী  বার্তা নিয়ে আসে?

গৌতম ঘোষ : ‘শঙ্খচিলে’ যে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে সেটা প্রতীকী মৃত্যু । যেন বঙ্গজননীর মৃত্যু । সেই মৃত্যুর পরেও যেন রূপসা শঙ্খচিলের মতো উড়ে বেড়ায়।

আপনি বিভিন্ন ভাষায় ছবি করেছেন বিষয় অনুযায়ী কি আপনার ছবির ভাষা বদলায়?

গৌতম ঘোষ  : একদমই তাই । আমার প্রথম ফিচার ছবি ছিল কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তেলেগু ভাষায় তৈরি । ‘পার’ ছিল হিন্দী ভাষার ছবি । আমার নতুন ছবিও হিন্দী এবং ইংরেজিতে হবে । কারণ ছবির প্রেক্ষাপট হচ্ছে মধ্যপ্রদেশ । বিষয়ের প্রয়োজনে আমি ভাষাকে নির্বাচন করি । তবে সিনেমারও একটা নিজস্ব ভাষা আছে । সেটা কথ্য ভাষার বন্ধন মানে না।

আজ আপনি জীবনের বিভিন্ন পর্বকে ঠিক কীভাবে দেখেন?

গৌতম ঘোষ  :  মানুষের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ । প্রতিটা অধ্যায় যখন আমি পেরিয়ে আসি, তখন আমি নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি । এই সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজে লাগাতে হবে । এটাই মনুষ্য ধর্ম । ‘যাত্রা’ ছবিতে রেখা খুব মেকআপ করছিল । আমি গিয়ে মেকআপ তুলে দিলাম । আমি রেখার এখনকার বয়সটাই চাইছিলাম । প্রতিটা বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে । সেটাকে গ্রহণ করতে হবে।

2 COMMENTS

  1. Khub to the point ebong gaviratar songe proshnoguli kora hoyeche…bojha jacche chobi ta niye ebong Gautam babur baki kajer dhara niye sangbadik moshai jothesto research korechen

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here