সেন্সরের ছাড়পত্র না মেলায় বেশ কিছুদিন আটকে ছিল ইন্দ্রাশিস আচার্যর দ্বিতীয় ছবি পিউপার রিলিজ | অবশেষে আগামী ২০ জুলাই রিলিজ হবে এই ছবি | নিজের ছবি ও সিনেমা ভাবনা নিয়ে তন্ময় দত্ত গুপ্তর সঙ্গে কথোপকথনে ইন্দ্রাশিস…

আপনার ছবি রিলিজের মুখে।ছবির নামটা খুব আনকমন।পিউপা।পিউপা শব্দের অর্থ কী?

Banglalive

ইন্দ্রাশিস : শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হওয়ার মাঝের একটা স্টেজ হল পিউপা।প্রজাপতি হওয়ার আগে শুঁয়োপোকা একটা গুটির মধ্যে বন্ধ থাকে।একে পিউপা ফেজ বলা হয়।আমার ছবিতেও চারজন পরিবারের সদস্যরা একটা বিশেষ কারণে আটকে আছে।তাদের অবজেক্টিভ, গোলে পৌছাতে পারছে না।তাদের বাবা কোমায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে তারা যেতে পারছে না।তাদের এই আটকে থাকাটা পিউপা ফেজের মতো।নামটা অ্যালিগোরিক্যালি দেওয়া।

Banglalive

এই ছবিটা কলকাতার সেন্সর বোর্ড আটকে দিয়েছিল।এগজ্যাক্টলি কী হয়েছিল?

Banglalive

ইন্দ্রাশিস : কলকাতা রিজিওনে আমাদের ছবির সেন্সর দেওয়া হয়নি।তিন চারটে দৃশ্যের জন্য কলকাতার সেন্সর বোর্ডের রিজিওনাল অফিসারের  আপত্তিজনক মনে হয়েছিল।আপত্তির যুক্তিটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।সেই কারণে ছবিটা অহেতুক বহুদিন আটকে ছিল।নতুন রিজিওনাল অফিসার আসার পর ছবিটা আমরা মুম্বই পাঠাই।বিদ্যা বালান সেখানে ছবিটা দেখেন। ছবির মধ্যে আপত্তিকর কিছুই তিনি পাননি।বরং যে দৃশ্যগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেই দৃশ্যগুলিকে উনি জুড়তে বলেন।সেই জন্য আমরা আনকাট U/A সার্টিফিকেট পেয়েছি।শুধু দুটো  বিষয়ের মাইনর মডিফাই করতে হয়েছে।প্রথমটাঃ আমরা ডিসক্লেমার দিয়েছি যে আমরা mercy killingকে সাপোর্ট করছি না।দ্বিতীয়টা একটা পার্টিকুলার ওষুধের নাম আমরা ছবিতে ব্লার বা অস্পষ্ট করে দিয়েছি। 

Banglalive

পিউপা ছবিতে বাবা কোমায় চলে যাচ্ছে| পারিবারিক সম্পর্কের ভেতর পিতা এবং সন্তানের সম্পর্কের ভিত অতনু ঘোষের ময়ূরাক্ষীর মধ্যেও ছিল।পিউপাকে সেই জায়গা থেকে কি ড্রামার মধ্যে ফেলা যেতে পারে?

ইন্দ্রাশিস : ড্রামা বলা যেতে পারে আবার থ্রিলারও বলা যেতে পারে।আবার আরেক জায়গায় লিখেছে ডার্ক কমেডি থ্রিলার।আমি ছবি বানানোর সময় জঁরের কথা ভাবি না।তার মধ্যে ছবিকে ফেলতেও চাই না।ছবির মধ্যে কখনও থ্রিলার এলিমেন্ট চলে আসবে।ড্রামাও চলে আসবে।দেখুন ড্রামাতো সব কিছুর মধ্যেই থাকে।জঁরটা আমার কাছে ম্যাটার করে না।

আপনি ভিন্ন জগতে চাকরি করতেন।সেই জগৎ আর সিনেমার জগৎ কীভাবে এক হল

ইন্দ্রাশিস : সেই জগতে এখনও চাকরি করি।আমি প্রচুর সিনেমা দেখতাম।সিনেমা দেখতে ভালোবাসতাম।বিশ্বের এমন কোনও দেশ নেই,যাদের সিনেমা আমি দেখিনি।হলিউড একদম দেখতাম না।আমি শেখার জন্য ছবি দেখতাম।ইউরোপিয়ান সিনেমা দেখেছি অনেক।ইরানিয়ান সিনেমা দেখেছি।সিনেমার ভাষা নিয়ে আমি ইন্টারেস্টেড হই।ছবি বানানোর কথা ভাবি।সিনেমার ভাষা নানাভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।সেই ভাষা নিয়ে আমি এক্সপিরিমেন্ট করতে চেয়েছি।এক্সপিরিমেন্ট করা মানে এই নয় যে যা খুশি করলাম।মানে আমি ছবিতে এমন করলাম যে কেউ কিছু বুঝলই না।এই প্রবণতা দেখা যায়।এই জায়গায় কখনও আমি আসতে চাই না।এমন একটা ভাষায় আসতে হবে যেখানে মেকার অডিয়েন্সের মধ্যে কমিউনিকেশন তৈরি হয়।

আপনি ইউরোপিয়ান সিনেমার কথা বললেন।সেই সমস্ত ইউরোপিয়ান মাস্টারদের ছবি দেখে কি মনে হয় ওগুলো কমিউনিকেটিভ?

ইন্দ্রাশিস : দেখুন গোদার নিজেই আজ একজন প্রতিষ্ঠান।ওনার মতো ছবি বানালে একটা অভিযোজনের প্রয়োজন।যেটা গোদার এক মাত্র ওইখানে তৈরি করেছেন।কিন্তু ওই সময় থেকে আপনি ত্রুফো, বুনুয়েল দেখলে বুঝতে পারবেন তাদের ছবি দুর্বোধ্য নয়।এর পরবর্তী সময় দেখবেন সিনেমার ভাষাগত একটা পরিবর্তন এসেছে।একটা “realistic art form”- এসে গেছে।এখানে ইমেজ একটা ডিসকোর্সের দিকে যাচ্ছে।এবং এই পদ্ধতি সিনেমাকে একটা ইন্টারেস্টিং জায়গায় নিয়ে এসেছে। 

ভাষার পরিবর্তন বা ইমেজ থেকে ডিসকোর্সের যাওয়ার প্রসেস কি আমাদের এখানেও হয়েছে

আরও পড়ুন:  'ভারত'-র শুটিং সেরে কিনা খেলার মুডে ভাইজান,দেখে নিন সেই ভিডিও

ইন্দ্রাশিস : আমাদের দর্শক কতটা মর্ডান সিনেমা দেখেন,সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।সিনেমা বিনোদন বাদেও সেপারেট একটা মিডিয়া।আমাদের এখানে সেটাও একটা সংশয়ের জায়গা।সিনেমার উত্তরণ এখানে ঘটানো একটু মুশকিল।দর্শকের মর্জি মতো ছবি বানানো হলে ভাষাগত পরিবর্তন আসা কঠিন।যে দর্শক সারা জীবন ডাল ভাতে অভ্যস্ত সে দর্শককে নতুন খাবার খাওয়াতে গেলে সে খাবে না। এই  ভ্যারিয়েশন বা কর্পোরেট ভাষায় যাকে বলা হয় চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট,সেটা করা দরকার।এর জন্য একটা লম্বা প্রসেসের প্রয়োজন।অন্যরকম ছবি  বানিয়ে দর্শকের ইন্টারেস্ট গ্রো করাতে হবে।সিনেমাকে “As an art’ হিসেবে দেখতে হবে।নট অনলি এন্টারটেইনমেন্ট।আমি কিন্তু  সিনেমার মধ্যে আঁতলামো করতে বলছি না।কিন্তু art form-এর মধ্যে এ্স্থেটিক খুব দরকার।এন্টারটেইনমেন্ট,এ্স্থেটিকের ব্যালেন্সটা  খুব ইম্পরটেন্ট।সেই সঙ্গে ভেরি ভেরি ইম্পরটেন্ট সাউন্ড আর ভিস্যুয়ালের ব্যালেন্স। 

এই ব্যালেন্সটা আপনি ঠিক কতটা করতে পেরেছেন?

ইন্দ্রাশিস : আমি এমন একটা নতুন ক্রাফট করলাম যেটা কেউ বুঝল না।লোকে ছুঁড়ে ফেলে দিল।তাহলে তো আমি আর পরে প্রোডিউসার  পাবো না।এটা খুব শক্ত লড়াই।আমার ছবি বিলু রাক্ষসেরসময় অনেক সিনেমাপ্রেমী মানুষ এবং বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন যে  বিলু রাক্ষসবাংলা ছবির নিদর্শন হয়ে থাকবে।এই ছবি প্রথমে খুব একটা কেউ গ্রহণ করেনি।এখন বিলু রাক্ষসএকটা জায়গা পেয়েছে।বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেছেন ,রিসেন্ট টাইমে ওনার দেখা শ্রেষ্ঠ ছবি।বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর কমেন্ট পাওয়া মানে খুব একটা ইম্পরটেন্ট কমেন্ট।এই ছবি স্কটল্যাণ্ডের একটা ফেস্টিভ‍্যালে সিলেক্ট হয়েছে।ভবিষ্যতে  আরো এর চাহিদা তৈরি হবে।

আপনার বক্তব্যের মধ্যে থেকে একটা লাইন ভেসে উঠেছে।সেটা হোল লিভিং বিয়ন্ড দ্য লাইন।এটাও আপনার একটা ছবির নাম।এই ছবিও আপনার ব্যক্তি জীবনের ছায়া।ছায়া থেকে ছায়াছবি হয়ে ওঠার মধ্যবর্তী স্তরগুলোকে কী কী?

ইন্দ্রাশিস : আমি গোদারের চার পাঁচটা ছবি পর পর দেখেছি।তার পর বুনুয়েলের অনেক ছবি দেখেছি।তারপর দেখলাম বার্গম্যান।আমি ইতিহাস ধরে ধরে ছবি দেখেছি।এই ভাবে একটা ট্রান্সফরমেশন হয়েছে।এ ব্যাপারে আমি বিজ্ঞ বা পণ্ডিত নই।তবু বলি ক্রস্টিফিউ বলে একজন  রোমানিয়ান পরিচালক আছে।তিনি খুব অল্প বয়সে চার পাঁচটা ছবি করেছেন।প্রত্যেকটা ছবি কানে অ্যাক্সেপ্টেড।এখনকার সময়কে যদি আমি yধরি।আর xকে ধরি পূর্ববর্তী সময়, তাহলে এক্স টু ওয়াই একটা ট্রান্সফরমেশন হয়েছে। সেই ওয়াইয়ের চারপাশে যে  রেডিয়াস  সেটা খুব ইম্পরটেন্ট।এখন ইউরোপের দর্শক আর এখানকার দর্শক এক নয়।ইউরোপে ষাট সত্তর পারসেন্ট লোকের  খাওয়া পরার অভাব নেই।এখানে খাওয়া পরার অভাব থাকা সত্তেও আপনি ওই ভাবেই দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চাইলে একটা কনফ্লিক্ট  আপনার মধ্যে চলে আসবে।

দ্বন্দ্বটা ঠিক কী?

ইন্দ্রাশিস : দ্বন্দ্বটা হল আপনি এ্স্থেটিককে আগে দেখবেন নাকি বিজনেসকে দেখবেন।এখন এক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা হলেও এ্স্থেটিক বিসর্জন দিতে হবে।এই কারণেই এখানে একটা প্যারালাল ইন্ডাস্ট্রী খুব দরকার হয়।উত্তম কুমার,সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, তরুণ মজুমদার,অজয় কর এনাদের ছবি।এই ইকনমিটা ভালো।এবং তখনকার সময় এগুলো মর্ডান এ্স্থেটিকের ছবি।কিন্তু এই সময়ে আমার মনে হয় সিনেমায় রিয়েল এ্স্থেটিক খুবই কম।এবং আমাদের এখানে সিনেম্যাটিক ল্যাঙ্গুয়েজে ছবি করার প্রয়াস খুব কম।তার থেকে লোকে কীভাবে থ্রিলড হবে সেই দিকে বেশি নজর।যেটা চলছে সেটা খারাপ বলছি না।কিন্তু তার সঙ্গে কুড়ি শতাংশ এক্সপিরিমেন্ট করা দরকার। 

আপনি অজয় করের নাম করলেন।পাশাপাশি ঋত্বিক ঘটকের ছবিও মানুষ সেই সময় তেমন দেখেনি।কিন্তু ঋত্বিক সত্যজিৎ এই নামগুলো বললে সেই সময়ের মানুষের মধ্যে সমীহ আসত।মানুষ না বুঝলেও বোঝার চেষ্টা করতেন।এখন দর্শক মনে হয় অ্যাড ফিল্মের মতো করে সব কিছু দেখেন।কেন এমন মনে হয়?

ইন্দ্রাশিস : একদম ঠিক বলেছেন।এই ক্রাইসিসটার কারণ অতিরিক্ত কম্পিটিশন।মানুষের অবসর নেই।অবসর থাকলে মোবাইলেই বিনোদন দেখে।মোবাইল টেকনিক্যাল রেভুলিউশন।সারাক্ষণ মানুষ মোবাইলে ডুবে থাকে।

মোবাইলে তো সত্যজিতের বা ঋত্বিকের ছবিও পাওয়া যায়।তাহলে সেই দিকে অ্যাটেনশন নেই কেন?

ইন্দ্রাশিস : এখন এত টেনশন যে সেটা আর হয়ে ওঠে না।আগে মানুষের সত্ত্বাগুলো খুব স্বচ্ছ ছিল।যে ভদ্রলোক সারাদিন অফিস করত সেই ভদ্রলোক গানের আড্ডায় গিয়ে তবলা বাজাত।এখন এরকম মানুষ আপনি পাবেন না।এখন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে মানুষ অফিসের কাজ নিয়ে বাড়িতে বসেন।যেটুকু সময় সে পাচ্ছে,সেখনে তার নিজস্ব কিছু করার খামতি ঘটছে।কারণ তার প্রথম প্রায়োরিটি হল ফ্যামিলির সঙ্গে সময় কাটানো।বা তাদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া।তার আর ঋত্বিক দেখা সম্ভবনয়।আর এখনকার জেনারেশনের ঋত্বিক দেখে অ্যানালাইজ করার কথা ভুলে যান। 

সিনেমা চর্চায় শিক্ষিত হওয়া একটা বিষয়।আর সিনেমা ফেস্টিভ্যালে পাঠানোর শিক্ষা অন্য বিষয়।সেই শিক্ষা কীভাবে পেলেন?

ইন্দ্রাশিস : দেখুন এটা আমিও বুঝে উঠতে পারিনি।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ছবিকে যাও বা ওরা পাত্তা দেয়,বাংলা ছবিকে পাত্তাই দেয় না।এটা ডকুমেন্টেড প্রুফ।

কিন্তু এরই মধ্যে তো আপনার ছবি সমাদৃত হয়েছে?

ইন্দ্রাশিস : সেটা হয়েছে।কিন্তু এখনও টপ লেবেলের ফেস্টিভ্যালে আমার ছবি যায় নি।করলোভি ভ্যরি,ভেনিস সেখানে তো আমার ছবি যায়নি।আমার ছবির যোগ্যতা নাই থাকতে পারে।ছবি পাঠানোর পর মেইল এসেছে  যে আমার ছবি সিলেক্ট হয়নি।এটা হতেই পারে।কিন্তু ছবির লিঙ্ক খুলে দেখেছি ছবিটা কেউ দেখেই নি।

এরকম কেন হয়েছে বলে মনে হয়?

ইন্দ্রাশিস : আমার মনে হয় ভালো ছবি সিলেক্ট হওয়াটা পারসেপশনের ওপর ডিপেণ্ড করে।আমার নামটা পালটে কোনও বড় ডিরেক্টরের নাম দিলে,সিনেমা সিলেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যেত।এটা খুব সিরিয়াস স্টেটমেন্ট করলাম।এখন ইন্টারন্যাশনল লেভেলে ফিল্মমেকারের পারসেপশন আমার নেই।সেটা যদি কোনওদিন করতে পারি,তাহলে আমার ছবি যাবে।জানি না এই লম্বা প্রসেসে কতোদিন থাকতে পারব।

আপনার ছবিতে অনেক পরিচিত মুখ আছে।প্রদীপ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কনিনীকা পর্যন্ত।এনাদের নেওয়ার কারণ কি ফেসভ্যালু?

ইন্দ্রাশিস : আমার সিনেমাকে আমি যদি কুড়িটা ভাগে ভাগ করি তাহলে তার মধ্যে আঠারোটায় আমি ঝুঁকি নিচ্ছি।বাকি দুটোর মধ্যে অভিনয়ের ব্যাপারে ভালো অভিনেতা নিলে ওয়ার্কশপ করাতে হয় না।আমার অভিনেতারা কেউ স্টার নয়।এদের অভিনয় এবং চরিত্রগত সামঞ্জস্য আছে বলেই এদের নিচ্ছি।আমার বিলু রাক্ষসছবিতে নতুন অভিনেতা আছে।পিউপাতেও নতুন অভিনেতা অভিনেত্রী আছে।কিন্তু সব নতুন অভিনেতা নিলে আমি হয়ত আমার ডেস্টিনেশনে পৌছাতে পারব না।

প্রদীপ্তর বাকিটা ব্যক্তিগতছবি সিনেমা হলে চালাতে দম বেরিয়ে গেছে।ভালো ছবির ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে এই অবস্থা কতদিন চলবে? 

আরও পড়ুন:  সারা আলি খান ও কার্তিক আরিয়ানের সাক্ষাৎ করালেন লাভ - গুরু রণবীর

ইন্দ্রাশিস : সেটাই তো বলছি।ভালো ছবি দেখার ভ্যারিয়েশন কেউ করতে চায় না।আমি এন্টারটেইনমেন্টের পথেই হাঁটছি।কিন্তু তার পাঁচ মাইল দূরে একটা এ্স্থেটিকের লাইন যাচ্ছে; সেটায় পৌঁছাতে হবে।আমার ভাগ্য ভালো আমি দু’বছরে পর পর দুটো ছবি করেছি।আমাদের এখানে কোনও ডিরেক্টরের সাথে কোনও ডিরেক্টরের একতা নেই।কেউ কারোর সাথে কথা বলে না।সবাই যেন নিজে নিজে বিরাট তাত্ত্বিক বিজ্ঞ হয়ে বসে আছেন।আবার এনারাই বলেন— “এখানে ভালো ছবি বানানোর চেষ্টা হয় না।কিন্তু সত্যি যখন ভালো ছবির চেষ্টা হয় তখন এনারা কেউ  পাশে  দাঁড়ান না।তার মানে তারা চান না যে ভালো ছবি হোক।

পিউপার পরের ছবি কী নিয়ে করতে চান? 

ইন্দ্রাশিস : সেটা এখনই বলতে চাইছি না।আমি আমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে প্রোডিউসারদের দরজায় দরজায় ঘুরছি।দেখা যাক কার ভালো লাগে।

একজন নতুন ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকার নিজের ছবি নিয়ে কীভাবে এগোবে বলে আপনার মনে হয়?

ইন্দ্রাশিস : দেখুন এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।আমাকে অনেক বলেন চাকরি করে সিনেমাটা করার কী দরকার?আমি চাকরি করেছি বলেই নিজের স্বপ্ন কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি।অনেক ট্যালেন্টেড ফিল্মমেকার হয়ত আছেন যারা অর্থের অভাবে বা প্রোডিওসারের অভাবে ছবি করতে পারছেন না।একটা জিনিস বন্ধ হওয়া উচিত।সিনেমা করা মানে সে বিশাল বোদ্ধা এই সেন্সটা বন্ধ হওয়া উচিত।এই অহংবোধ নানা সময়ে রিফ্লেক্ট হয়।প্রোডিউসারের সঙ্গে কথা বলার সময়েও এই রিফ্লেকশন দেখা যায়।

কিন্তু আমি জানি ডিরেক্টররা প্রোডিউসারের কাছে অনুগত থাকে।তাই কি?

ইন্দ্রাশিস : অনুগত সামনে থাকে।বাইরে বেরিয়ে অন্য কথা বলে।এখন পরিচালক ছবি কতটা ভালোবাসা থেকে বানায় বা কতটা অন্য কিছুর জন্য বানায় সেটাও আলোচনার বিষয়।

তাহলে একজন নিউ ফিল্মমেকার কী করবে ?

ইন্দ্রাশিস : ডিজিটাল সময় আসার ফলে সিনেমা বানানো অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখন অনেক ওয়েব চ্যানেল আছে,যেখানে সে ছবি দেখাতে পারে।ইন্টারন্যাশনল প্রচুর চ্যানেল আছে সেগুলো তারা সার্চ করতে পারে।আমার ছবি ফ্রান্সের একটা কোম্পানীতে বিক্রি হয়েছিল।তারা পার মিনিট দশ ডলার বা পনেরো ডলার করে দিয়েছিল।মানুষ ষোলো বছর থেকে আঠারো বছর পড়াশোনা করে।এর জন্য তাকে ইনভেস্ট  করতে হয়।পড়াশোনা করার সময় পয়সা আসে না।সিনেমাটাও সেভাবে করতে হবে।আমার হাতে কোনও ভালো কাজ না থাকলে আমি  লোককে দেখাবো কি করে!একটা ভালো পাঁচ মিনিটের ছবি বানিয়ে ফেস্টিভ্যালে পাঠানো যেতে পারে।বা কলকাতায় স্ক্রিনিং করে ভালো  প্রোডিউসারদের ইনভাইট করা যেতে পারে।মনে হয় এভাবে এগোনো ভালো।

NO COMMENTS