গন্তব্য পাল্টে কসাইখানা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে নতুন জীবন অবলা প্রাণীদের

71

পাঁচ একর জায়গা জুড়ে অসুস্থ, পরিত্যক্ত এবং বিপর্যস্ত পশুদের রক্ষা করার উদ্দেশে ইজরায়েলে খোলা হয়েছে এক পশু সংরক্ষণ উদ্যান। এই পশুখামারে ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে কসাইখানা থেকে উদ্ধার হওয়া বা হাত-পা ভেঙে অকেজো হওয়া, রাস্তায় পড়ে থাকা বেশ কিছু প্রাণী।

মধ্য ইজরায়েলের মোশাভ ওলেশ অঞ্চলে অসহায় পশুদের নিশ্চিন্ত আশ্রয় এই ফ্রিডম ফার্ম। এই ফার্ম-এর প্রতিষ্ঠা করেন বাহান্ন বছরের বিজনেস একজিকিউটিভ আদাত রোমানো এবং আটত্রিশ বছরের প্রযুক্তি কর্মী মেইতাল বেন। প্রধানত বিকলাঙ্গ ও বয়স্ক পশুদের নিরাপদে থাকার জন্যই এই খামার গড়েছিলেন এই দুইজন। আপাতত এই খামারে আশ্রিতদের সংখ্যা দুশো চল্লিশ। এদের মধ্যে বেশিরভাগকেই কসাইখানায় জবাই হওয়ার আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

আদাত এবং বেন ছাড়াও স্থানীয় চাষিরা এইরকম সমস্ত প্রাণীদের উদ্ধার করে পৌঁছে দিয়ে যান এই খামারে। সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে আর্থিক সাহায্যও পাচ্ছে ফ্রিডম ফার্ম। ইজরায়েলের ফ্রিডম ফার্মে পৌঁছলেই সেখানখার দৃশ্য দেখে মুদ্ধ হন পর্যটকরা। তারা জানিয়েছেন, তিনটি পায়ের গাধা মেরি, অন্ধ একটি ছাগল নাম ওমর-এর সঙ্গে খড়ের গাদার উপর লাফালাফি করছে। গোটা খামার জুড়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফার্মের বাসিন্দারা। কয়েকদিনের মধ্যেই নবাগতদের সঙ্গে বেশ ভাব জমে উঠছে তাদের।

আদাত এবং বেন জানিয়েছেন, এই ফ্রিডম ফার্ম চালানোর জন্য বছরে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় সত্তর লক্ষ টাকার সমান। এখানে এই পশুদের জন্য নিয়ে আশা হয় বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের যারা এদের জন্য অনুষ্ঠানও করেন। ইজরায়েল এবং বিদেশের থেকে পাওয়া অনুদান এবং স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের উপর নির্ভর করেই চলছে এখানকার প্রাণীদের চিকিৎসা-সহ বাকি খরচ। বিপর্যস্ত ও আশ্রয়হীন প্রাণীদের নিরাপদে থাকার জন্য হাত বাড়িয়েছে প্রচুর সাধারণ মানুষও। এমনই বিপর্যস্ত পশুদের রক্ষা করতে পেরে তৃপ্ত তাঁরাও।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.