ডিজনি ওয়ার্ল্ডের পরিত্যক্ত দ্বীপ লুকিয়ে রেখেছে কোন অজানা রহস্য ?

ডিনি ওয়ার্ল্ড মানেই বহু মানুষের কাছে স্বপ্নের হাতছানি | বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ডিনি ওয়ার্ল্ড | ডিনি ওয়ার্ল্ডের মানচিত্রে বে লেকের কাছে একটি সবুজঘেরা দ্বীপের অস্তিত্বের কথা জানা যায় | ফ্লোরিডার ডিনি ওয়ার্ল্ডের ১১ একরের এই সবুজঘেরা দ্বীপে কারোরই নেই প্রবেশাধিকার | কারণ এই দ্বীপটি পরিত্যক্ত | কিন্তু কোন কারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গার একটি নির্জন দ্বীপ পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায় ? সেইখানেই তো দানা বেঁধেছে রহস্য |

মূল ডিনি ওয়ার্ল্ডেরই অংশ ছিল এই ডিসকভারি আইল্যান্ড | ওয়ার্ল্ড ডিনি ওয়াল্ট পার্কসের এই ডিসকভারি আইল্যান্ড ও রিভার কান্ট্রি নামের অংশদুটিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় | ১৯৭৪ সালে ট্রেজার আইল্যান্ড সিনেমার অনুষঙ্গ রেখেই তৈরি হয়েছিল এই ট্রেজার আইল্যান্ডটি | ১৯৭৬ সালে এর নাম দেওয়া হয় ডিসকভারি আইল্যন্ড | ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে কোনও অজানা কারণে এই বিশেষ জায়গাটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয় | ঠিক কোন কারণে এই দ্বীপটি বন্ধ করা হল তা স্পষ্টভাবে ডিনি কর্তৃপক্ষ না জানানোর জন্য বহু মানুষেরই কৌতুহল উদ্রেক করে এই পরিত্যক্ত দ্বীপটি |

এই দ্বীপে একসময় নানা প্রজাতির পশুপাখির আশ্রয় ছিল | ডাস্কি সিসাইড স্প্যারো‚ ফ্লেমিংগো‚ ককাটু‚ ট্রাম্পেটর সোয়ান‚ ম্যাকাও ও বিরল প্রজাতির গালাপাগোস কচ্ছপের বাসস্থান ছিল এই দ্বীপ | এইসব পশুপাখিদের দেখতে ডিনি কর্তৃপক্ষ পর্যটকদেরকে বোটে করে এই দ্বীপে আসার ব্যবস্থা চালু করেছিল | কিন্তু ধীরে ধীরে পশুপাখির সংখ্যা কমতে থাকলে পর্যটকের সংখ্যাও কমতে থাকে |

পরিত্যক্ত দ্বীপে তারপর বাড়তে থাকে প্রকৃতির রাজত্ব | পরিত্যক্ত বাড়িঘরগুলিকে ঘিরে ফেলতে থাকে গাছপালার আলিঙ্গন | কেমন যেন গা ছমছমে পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেখানে | ধীরে ধীরে গাছপালার গ্রাসে ভেঙে পড়ে বহু বাড়িঘর | মানুষের মনে এই পরিত্যক্ত দ্বীপের প্রতি কৌতূহল বাড়তে থাকে | রোমাঞ্চের আশায় ২০০৯ সালে শেন পেরেজ এই দ্বীপে গিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও কিছু ছবি প্রকাশ করেন | বর্তমানে এই পরিত্যক্ত দ্বীপে জন্তুজানোয়ারদেরই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.