প্যারোডি তো বহুদিনই বঙ্গজীবনের অঙ্গ‚ তবে এখন এত শোরগোল কীসের ! বিজ্ঞাপন বলে ?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ফ্ল্যাটের বিজ্ঞাপনকে ঘিরে তুমুল জলঘোলা চলছে । শ্রীরামপুরের সোলারিস সিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় দ্বিজেন্দ্রগীতি ‘ধন ধান্য পুস্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা…’ র সুর ব্যবহার করে দেখানে ফ্ল্যাটের দাম, শ্রীরামপুরের কোথায় রয়েছে এই ফ্ল্যাট, সুযোগ সুবিধা কী, কী পাওয়া যাবে, ইত্যাদি বলা হয়েছে । বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার, অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং জনপ্রিয় অভিনেতা ও চিকিৎসক বাসুদেব মুখোপাধ্যায় । এবং প্রযোজনা করেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ।

প্রথমে পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন যে, ছোটবেলায় যে গান শুনে তাঁর প্রথম চোখে জল এসেছিল সেই গানের এমন বিকৃতি সত্যিই ভীষণ লজ্জার । তাঁর কাছে রবি ঠাকুরের সার্থক জনম গানটির থেকেও এই দ্বিজেন্দ্রগীতিটি অনেক বেশি কাছের । আর সেই দেশাত্মবোধক গানের কথায় যদি বসে শপিং মল, সুইমিং পুল, পাঁচ লাখ টাকা ইত্যাদি তাঁর পুরনো স্মৃতিগুলিকে যেন কেউ জং ধরা পেরেক দিয়ে আটকে দিল । ফেসবুকে সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়ের এই পোস্টের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিনেতা ঋদ্ধি সেন, নাট্যকার শতরূপা সান্যাল প্রমুখ বিদ্বজনেরা তাঁদের ক্ষোভ উগড়ে দেন । তবে শতরূপা সান্যালের কথায়, তাঁর গানে যেভাবে দেশপ্রেম, বিশ্ব-পৃথিবী যেভাবে ঘুরে ফিরে এসেছে, তাতে এমন সস্তার ভাবনা ঢোকানো মানে প্যারোডি ছাড়া আর কিছু নয় ।

যদিও সোলারিস কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এটেছেন। তাঁদের বক্তব্য এই বিজ্ঞাপনটি নিতান্ত তাঁদের ফ্ল্যাটটি প্রোমোট করার জন্য তাঁরা করেছেন, তাতে যদি কারোর আবেগে আঘাত লেগে থাকে তার জন্য তাঁরা দুঃখিত । ইতিমধ্যেই ইউটিউবে প্রায় কয়েক হাজার নেতিবাচক মন্তব্যে ভরে গিয়েছে। সকলেরই এক কথা যে, এমন একটি ঐতিহ্যপূর্ণ দেশাত্মবোধক গান যা, আপামর দেশবাসীর কাছে এক অত্যন্ত আবেগের জায়গা, সেখানে এই ধরনের কথা কেমন করে স্থান পেতে পারে !

https://www.youtube.com/watch?v=-a4f3eRcQYQ

তবে একটা কথা বলতেই হয় যে, এর আগেও বাংলায় প্যারোডি করে বিখ্যাত হয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী মিন্টু দাশগুপ্ত । তাঁর কন্ঠে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, ‘ময়না বলো তুমি কৃষ্ণ রাধে’ প্রভৃতি গানের প্যারোডি চূড়ান্ত জনপ্রিয় । অদ্ভূতভাবে‚ ইউটিউবে তাঁর গানের নীচে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যাবে না । বরং সবাই তাঁর গায়কী এবং সৃজনশীলতাকে বাহবা জানিয়েছেন । দিন-কাল বদলে গিয়েছে, কে কখন কীসের জন্য সমালোচিত হয়‚ বোঝা মুশকিল | আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার হাওয়ামোরগ এখন বড় নির্ধারক|

2 COMMENTS

  1. এটাকে প্যারোডি বলে না। প্যারোডিতে কোনো কমার্শিয়াল add দেওয়া হয় না। প্যারোডিতে একটা হিউমর থাকে, শ্লেষ থাকে। এটায় আছে কি? সব দোষ সোশ্যাল মিডিয়ার ঘাড়ে চাপালে চলে না। যে গানের সাথে আমাদের দেশবাসীর আবেগ জড়িয়ে সেই গানের সাথে এইরকম সস্তা লেভেলের ব্যবসায়িক ক্রিয়েটিভিটি সত্যিই ন্যক্কারজনক। সোলারিস সিটির সাহস থাকলে জাতীয় স্তোত্র এবং জাতীয় সংগীত নিয়ে এমন কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন বানিয়ে দেখাক দেখি।

  2. na ekta bhul er jonya aar ekta bhul ke somorthon kora jai na….DL roy ei gan ta sotti eeibhabe jodi flat kenar jonya change korte hoi tar theke kharap kichu hote pare na… asha kori sobai eta bujhbe…kalke bandematam ba jana gana mana niyeo to gaan hote pare parody er…tokhon amra ki setao mene nebo? kothay chole jachi amra? ektu behbe dekhben please

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here