জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ভাল না খারাপ?

জ্বরের ওষুধ কি?

সামান্য জ্বর হলেই যে জ্বরের বাজার চলতি বড়ি খেয়ে ফেলতে হবে এ ধারণা একেবারেই ঠিক না, ওষুধ খেতে হবে ডাক্তারের পরামর্শমত, বেশি ওষুধ দিয়ে প্রথমেই জ্বরটাকে musk করে দিলে অনেক সময় জ্বরের গতিপ্রকৃতি বুঝে চিকিৎসা করা মুশকিল হয়ে পড়ে | তবে বেশি জ্বর হলে ওষুধ দিতে হবে কারণ উপসর্গ কমাতে না পারলে রোগীর আবার অন্য ক্ষতি হতে পারে, বিশেষত বয়স্করা এত তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তচাপ কমে গিয়ে আচ্ছন্নভাব দেখা দেওয়ায়্র সম্ভাবনা থাকে | বলা হয় যে জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠলেই অ্যান্টিপাইরেটিক ওষুধ খেয়ে হবে, এরও কোনও বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই | এ ব্যাপারে চিকিৎসকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে | আর বাচ্চাদের বেশি জ্বর কমার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধই দিলে পরে জটিলতা হিসাবে তাদের রক্তাল্পতা বা জণ্ডিস হতে পারে, একে বলে REY’S SYNDROME. এছাড়া গর্ভবতী মহিলা, লিভারের অসুখ আছে এমন নারীপুরুষ এবং বেশি বয়সের মানুষকে জ্বর কমার ওষুধ দিতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান চাই |

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ভাল না খারাপ

জ্বর যেখানে অল্পদিনের এবং রোগী যেখানে এমনিতে সুস্থ জীবন যাপন করছে সেক্ষেত্রে হুট করে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না |যেখানে definite diagnosis হয়েছে সেখানেই আমরা অ্যান্টিবায়োটিক দিই | ৪,৫ দিনের জ্বরে উপসর্গের চিকিৎসা ও নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে শুরু করা হয় | আজকাল অনেক নতুন মানের, বলা ভাল উন্নত মানের অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে, তাতে মানুষের জীবনও বাঁচছে এ কথা অবশ্য অস্বীকার করা যাবে না | যদি এমন হয় যে রোগীর জীবন বিপন্ন, কারণটি কিছুতেই চিহ্নিত করা যাচ্ছে না, তা হলে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হতে পারে (দরকার হতে পারে Combination Antibiotic) | কিন্তু সাধারণ সংক্রমণে যদি super powder antibiotic প্রথমেই ব্যবহার হয়ে যায় তাহলে অনেক সময় resistance হয়ে যেতে পারে | উন্নতিশীল দেশগুলিতে (developing countries) অ্যান্টিবায়োটিকের বড় অপব্যবহার হয় | এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক, এতে অযথা খরচ যেমন বাড়ে তেমনই বিপদের সম্ভাবনাও থেকে যায় | রোগীর মতামত, নানা পরীক্ষানিরীক্ষা, ল্যাবরেটরি রিপোর্ট, এইগুলিকে আগে প্রাধান্য দিতে হবে | আজকাল উন্নত দেশগুলিতেও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যথাসাধ্য কমাবার চেষ্টা করা হচ্ছে |

ডায়েট : এখনকার ডাক্তারি মত

আগেকার দিনে জ্বর হলেই ভাত বন্ধ, কেবল সাবু বার্লি, অন্য খাওয়াদাওয়াও বন্ধ | একটি জানলাবন্ধ ঘুপচি ঘরে রোগীকে রেখে দেওয়া হত তাতে রোগীর আরও ক্ষতি হয়ে যায় | এখন ক্ষেত্রবিশেষে জ্বরের রোগীকে এ সি বা ঠাণ্ডা ঘরেও রাখতে বলা হয় | বমি বা ডায়রিয়া না থাকলে স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়াই করতে বলা হয় — রোগীর বিশেষ পথ্যের প্রয়োজন পড়ে না | হাম বা চিকেন পক্সে আগেকার কালে দেওয়া হত বিশুদ্ধ নিরামিষ আহার — থিওরিও এখন অচল, বরং প্রোটিন কম হলে রোগীর অন্য অসুবিধা হতে পারে | জল বা জলীয় জিনিসও বেশি করে খেতে বলা হয় | শরীরে ক্যালরির ঘাটতি হলে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে |

জ্বরবিকার বা প্রলাপ কেন হয়

বেশি জ্বরে কারও কারও জ্বরবিকার বা ভুল বকা জাতীয় জটিলতা দেখা দিতে পারে | ব্যাপারটা খুব জটিলও নয়, ভয়েরও নয় | মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামিক সেট পয়েন্ট গড়বড় হয়ে গেছে (এলিভেটেড হয়ে রয়েছে), তাই ডেলিরিয়াম অর্থাৎ উলটো পালটা প্রলাপ বকা, কনফিউশন অর্থাৎ লোক বা স্থান-কাল সম্বন্ধে ভুল করে ফেলা, ইত্যাদি নানা উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া সম্ভব | এগুলি হয় বিশেষত বৃদ্ধদের বা দুর্বল শরীরের লোকেদের, সেক্ষেত্রে দেখতে হবে এটি স্নায়ুর সংক্রমণ (সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ইনফেকশন) কিনা | দীর্ঘসময় ধরে অনেক জ্বর থাকলে বয়স্ক লোকেদের হার্ট, কিডনি বা রেসপিরেটরি ফেলিওর ত্বরান্বিত হতে পারে |

তড়কা মানে কি

অনেক বাচ্চার জ্বর হলে হাত পায়ের খিঁচুনি হয় | আর যদি এপিলেপসি রোগ থাকে তাহলে জ্বরে তো কনভালশন হবেই এবং আরও বেশি বার | তবে এতে বেশি ভয় না পেয়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিকিৎসা করালে ভাল ফল পাওয়া যায় | যাদের জ্বর হলেই কনভালশন বা তড়কা হয়, তাদের আমরা বলি ফিব্রাইল কনভালশন | এগুলি কোল্ড স্পঞ্জ বা প্যারাসিটামল দিয়ে কন্ট্রোল করা দরকার |

ঠাণ্ডা লাগা কাকে বলে

কথাটির খুব বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই | বারবার সর্দি কাশি হলে ভাইরাল ইনফেকশন বা অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশন ভাবা যেতে পারে, বা থাকতে পারে প্রি-এগজিস্টিং প্যারান্যাসাল ইনফেকশন | যেখানে সংক্রমণ হয়েছে, সেখানে ত্রাণ পৌঁছতে পারে না, তাই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতাও কমে যায় | বার বার সর্দিকাশি (জ্বর থাকতে পারে বা হয়ত জ্বর নেই) হলে দেখতে হবে কোনও অ্যালার্জি আছে কিনা | অ্যালার্জির কারণ হতে পারে ফুলের রেণু যা ধূলিকণা, সূক্ষ্ম উড়ে যাওয়া তুলোর অংশ, কোনও উগ্র চড়া গন্ধ |

জলপট্টি, আইসব্যাগ, মাথা ধূয়ানো ঠিক না ভুল

বিজ্ঞানসম্মত নয় | যা অল্প জ্বরে কাজ হতে পারে | আসল দরকার সারা শরীরের কোল্ড স্পঞ্জিং | কলের জলে বার বার তোয়ালে ভিজিয়ে সারা গা মাথা মুছে দেওয়া — প্রত্যেক গৃহিণীর এই তথ্যটি বিশেষভাবে অবগত হওয়া উচিত |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here