কেন শুধু লাল কাপড়েই মোড়া থাকে বিরিয়ানির হাঁড়ি ?

1026

রাস্তার ধারে বড় তামার হাঁড়ি আর তার মুখে ময়দার প্রলেপ লাগানো দেখলেই লোভ সামলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আর একবার সেই গন্ধটি পেলে তো আর কথাই নেই। হাজার ডায়েটিং, কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার সব গোল্লায় গিয়ে মাথায় শুধু উঁকি মারে বিরিয়ানি। না না করেও ঠিক মন চলে যায় সেই গন্ধ ওঠা রেস্তোরাঁয়।

কলকাতায় প্রথম বিরিয়ানির আগমন ঘটেছিল ছিল লখনউর নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ-র হাত ধরে। লখনউয়ের রাজত্ব হারিয়ে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। ইতিহাস বলছে, ১৮৫৬ সালের ৬ মে কলকাতায় পৌঁছন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ। এই ওয়াজিদ আলির জন্যই আজ আমরা বিরিয়ানির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। অনেকের মতে, বিরিয়ানিতে আলুর প্রচলন নাকি ওয়াজিদ আলি শাহই করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে বিতর্কও রয়েছে প্রচুর। তবে বিরিয়ানিপ্রেমীরা অত বিতর্কের ধার ধারে না ।

বর্তমানে শহরের রাস্তাঘাটের আনাচে কানাচে, অলিগলিতে বিরিয়ানির দোকান । দোকানের একশো মিটারের মধ্যে এসে পড়লেই নাকে চলে আসে তার গন্ধ আর চোখ পড়তে বাধ্য লাল কাপড়ে মোড়া বিরিয়ানির বিশাল হাঁড়িতে। চিকেন, মটন, আন্ডা, আলু বা ভেজ বিরিয়ানি যাই হোক না কেন, বিরিয়ানির পাত্রটি সব দোকানেই একটা লাল কাপড়ে মোড়া থাকে। এই বিষয়টা কোনও দিন ভেবে দেখেছেন কী, শুধু লাল-ই কেন। অন্য কোনও রঙের কাপড়ে কেন মোড়া থাকে না বিরিয়ানির হাঁড়ি?

কারণ, সম্রাট হুমায়ুনের খাওয়ার পরিবেশনে দরবারি রীতি অনুযায়ী, রুপোলি পাত্রের খাবারগুলোর জন্য লাল কাপড় আর ধাতব ও চিনামাটির জন্য সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে আসা হতো । পরবর্তী কালেও মুঘল দরবারে এই রীতি অনুসরণ করা হয় । খাদ্য পরিবেশনের এই রীতি ও রঙের ব্যবহার লখনউয়ের নবাবরাও অনুসরণ করতেন । সেই থেকেই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে ঢাকার রীতি চলে আসছে।

আবার অনেকেই মনে করেন, ইতিহাস বা ঐতিহ্যের রীতি নয়, ব্যবসার খাতিরে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়। এর ফলে দূর থেকেই তা ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.