অতিরিক্ত মাত্রায় জল খেলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি, এমনকী মৃত্যুও

2141

প্রতিদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খেলে শরীর সুস্থ থাকে- কথাটি সকলেরই জানা। এমনকী চিকিৎসকরাও বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু কম জল খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর তেমনই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলেও হতে পারে ক্ষতি। অতিরিক্ত মাত্রায় জল খেলে কিডনি, হার্টের ওপর চাপ পড়ে, রক্তের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, শরীরে সোডিয়াম-এর পরিমাণ কমতে পারে, সেইসঙ্গে মাথা যন্ত্রণা এমনকী শ্বাসকষ্টের সমস্যাও হতে পারে।

চিকিত্সকরা বলেন, বেশি পরিমাণে জল খেলে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাব এবং প্রবল মাথা যন্ত্রণা হতে পারে। শুধু তাই নয়, বেশি জল খেলে শরীরে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়। হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। কিডনি আমাদের শরীরে যে ছাঁকনির কাজ করে, অতিরিক্ত মাত্রায় জল খেলে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। শরীরের বিভিন্ন কোষে অতিরিক্ত জল প্রবেশ করলে শরীরের কোষ ফুলতে থাকে, ফুলে যেতে পারে মাথার কোষও। যার ফলস্বরুপ ঘটতে পারে ব্রেন স্ট্রোক। অতিরিক্ত জল শরীরের পটাসিয়ামের পরিমাণও কমিয়ে দেয়। যার ফলে বুকে পিঠে যন্ত্রণা শুরু হতে পারে, দেখা দিতে পারে লিভারের সমস্যাও। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের দাবি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল শরীরে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

তাহলে মনে হতে পারে দিনে তাহলে কত পরিমাণ জল খাওয়া উচিত। এ নিয়ে অনেকের অনেক মত রয়েছে। কেউ বলেন, দিনে ৮ গ্লাস জল খাওয়া উচিৎ, তো কেউ আবার বলেন ২ লিটার জলই শরীরের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের শরীরে জলের চাহিদা সমান নয়। ব্যক্তির শরীরের গড়ন এবং তিনি কী ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত, কী ধরনের খাবার তিনি খান, এই সবকিছুর ওপর শরীরে জলের চাহিদা নির্ভর করে। চিকিত্সকরা বলছেন, যাঁর ওজন যত কেজি, তাকে ৩০ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যাটা পাওয়া যাবে, তাঁকে ঠিক তত লিটার জল দৈনিক পান করতে হবে। কেউ যদি রোজ আধঘণ্টা ওয়ার্কআউট করেন, তাঁকে আরও ৭০০ মিলিলিটার জল অতিরিক্ত পান করতে হবে। শাক-সবজি-ফল বেশি খেলে জল একটু কম খেলে ক্ষতি নেই। কারণ, আমরা যে পরিমাণ জল পান করি, তার ২০-২৫ শতাংশ আসে খাবার থেকে। তাই জল কমও নয়, বেশিও নয়। বিপদ এড়াতে জল পরিমাণ মতো পান করা উচিৎ।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.