দুগ্গাপুজোয় কেমন ভাবে সাজাবেন আপনার ছোট্টটিকে?

দুগ্গাপুজোয় কেমন ভাবে সাজাবেন আপনার ছোট্টটিকে?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

একরত্তি বলে মোটেই হেলাফেলা করবেন না | কারণ, পুজো এবং পুজোর সাজ তো ওদেরই! আর আজকের খুদেরাও সেরকম | মনপসন্দ সাজ না হলে রীতিমত মুখ ভার হয়ে যায় ওদের! পুজোর আগে বড়দের মত বাচ্চাদের পোশাকেও বাজার ছেয়ে গিয়েছে | কী নেই সেই তালিকায়! হট প্যান্ট থেকে পালাজো, মিনি-মিডি-মাইক্রো, ড্রেস, এমনকি লেহেঙ্গাও রয়েছে ওদের জন্য | এ তো গেল খুদে মহারানিদের কথা | মহারাজেদের জন্য এবারের লেটেস্ট ফ্যাশন কী? জিন্স থেকে ধুতি-পাঞ্জাবি-শেরওয়ানি—লিস্টিটা নেহাত খুব ছোটো নয়! এবার শুধু গায়ে তোলার পালা—

পুজোর গন্ধ এসেছে— ষষ্ঠী-তে অনেক পাড়া বা ব্লকে পুজো শুরু হয় ফাংশন দিয়ে | আপনার পাড়াতেও সে সবের আয়োজন হয়েছে? তাতে আপনার বাড়ির ছোট্ট সদস্য অংশ নিলে সাজ হবে অনুষ্ঠান অনুযায়ী | আর যদি দর্শক হয় তাহলে ইচ্ছে মত সাজাতে বাধা কোথায়? বাঁধনছাড়া এই ক’দিনের প্রথম সাজ হোক ফ্রিল দেওয়া বড় ঘেরের শর্ট ড্রেস দিয়ে | পায়ে ম্যাচিং ব্যালেরিনা আর মাথায় স্টোন বসানো বেবি ক্লিপ যদি থাকে তাহলে তো সাজ জমে কুলফি! একইভাবে ছেলের পরনে থাকবে জিন্সের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট আর গেঞ্জি | পায়ে কিটো | এতেই ষষ্ঠী মাত |

সেজে স্মার্ট— এ তো জানা কথা, সারা সকাল পুজোর চারটে দিন বন্ধু ফেলে প্যান্ডেল ছাড়া কোত্থাও নড়বে না কচি মুখগুলো | কারণ, সারা বছর পড়ার চাপে আড্ডা মারার ফুরসত ওরা কোথায় পায়? তাই সকালটা ওদের মনের মত করে কাটাতে দিন | আর ওই সময় ঝকমকে পোশাক পরানোর কথা মাথাতেও আনবেন না | মেয়ের জন্যে অনেক বেছে কিনে আনা নরম গেঞ্জির প্যাডেল-পুশ আর স্লীভলেস টিউব টপ সপ্তমীর জন্য যথেষ্ট | শিউলি সকালে রোদের হালকা ঝাঁঝে প্রজাপতির মত সুন্দর লাগবে পোশাকে গোলাপি, সাদা, আসমানি, সমুদ্র-সবুজর রং থাকলে | ছেলে কী পরবে? কেন? জিন্সের ফুল প্যান্ট, টি-শার্ট সপ্তমীর সকালের জন্য যথেষ্ট নয়!

বিকেলের জন্য কিছু বেছেছেন কি? আজ বিকেলে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা আছে | একটু নটি নটি সাজ তাহলে চলতেই পারে | ওয়ারড্রব খুলে বের করুন পালাজো-স্লিট কাটের লং কুর্তি | পায়ে নিউ কাট জুতো | চুল বড় হলে পনি টেল | ছোটো চুলে ফুলের বড় মোটিফ দেওয়া হেয়ার ব্যান্ড | বেবি এক্কেবারে ডল | এবার ছেলের সাজ | সাজের কথা উঠলেই আজকালকার পুঁচকেগুলো রীতিমত গম্ভীর গলায় বলে, সাজ তো শুধু মেয়েদের | আমাদের জন্যে তো কিচ্ছু বানানো হয় না | ব্র্যান্ডেড কটন প্যান্ট আর পুরো হাতার চেক শার্ট-এ সাজান | আপনার হাত ধরে যখন বেরোবে পাড়ার রিনি-রিমিরা ঘুরে তাকাতে বাধ্য |

ঝিনচ্যাক অষ্টমী— আপনাকে দেখে আপনার মেয়েও বুঝি বায়না করেছে সকালে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেবে? শাড়ি পরার আবদারও করছে নাকি? সমস্যা কোথায়? কী সুন্দর সুন্দর স্টিচড শাড়ি বেরিয়েছে! সেরকম-ই কিছু পরিয়ে দিন | লাল পাড় সাদা শাড়ি যেমন আছে | আছে শিফনের ওপর স্টোন-এর  কারুকাজ | যেটা মন চায় তাতেই সাজুক কন্যে | সঙ্গে নাই বা থাকলো সাতনরী হার, ফুলের বাহার কিংবা রুপোর হাঁসুলি— ফাইবার বা হালকা মেটালের গলা-হাতের গয়না তো আছেই | রংমিলন্তি খেলা হোক শাড়ির সাথে সে সব পরিয়ে | ছেলের দিকেও তাকান এবার! অষ্টমীর সকাল ধুতি-পাঞ্জাবি ছাড়া জমে? ভয় নেই | কেননা, খুলে একাকার হওয়ার কোনো চান্স নেই | বাচ্চা-বড় সবার জন্যই ষ্টিচড ধুতি আছে তো | সঙ্গে আঙরাখা, বেনিয়ান কিংবা প্লেন কাটের তসর অথবা সিল্কের পাঞ্জাবি পরিয়ে দিন | তাতে ছুঁচ-সুতোর হালকা ফোড় অবশ্যই থাকবে | পায়ে কোলাপুরি বা স্টাইলের স্যান্ডল | বাবুর বাবুয়ানি ঠেকায় কে?

বিকেলে তা বলে কচি শরীরে আর শাড়ির আড়াই প্যাঁচ নয় | এবার ও পরবে ঝিনচ্যাক লেহেঙ্গা বা স্টোন-জারদৌসি কাজের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন কিছু | বাচ্চাদের জন্য-ও বড় ফুল বা স্টোন মোটিফের চোকার আছে | এই ড্রেসের সঙ্গে সেরকম কিছু পরিয়ে দিতে পারেন | সাজ যথেষ্ট স্টাইলের হবে | বাবুরা এই বেলা কুর্তি-পাজামায় সাজুক | একটা জহর কোট যদি গলিয়ে নিতে পারে, সাজ নিয়ে আর কোনো কথা হবে না | এই সাজের সঙ্গেও পায়ে কোলাপুরি বা স্টাইলের স্যান্ডল মাস্ট |

খুদের ফ্যাশানে কাঁপবে দুনিয়া— আজই তো সাজের শেষ দিন | তা বলে সক্কাল সক্কাল সাজের বন্যা বইয়ে দেবেন না | কাল অনেক রাত জেগে ঠাকুর দেখেছে | আজও দেখবে | তাই আগে ঘুমিয়ে চাঙ্গা হয়ে নিক | তারপর ফুলো ফুলো চোখ-মুখ নিয়ে যখন প্যান্ডেল-এ বসবে তখন হট প্যান্ট আর গেঞ্জি ওকে আরাম দেবে | ছেলের জন্যে কটন থ্রি-কোয়ার্টার আর স্লিভলেস গেঞ্জি থাক | পায়ের আরামের জন্য দু’জনের পায়েই মোটা সোলের নরম চপ্পল পরিয়ে দিন |

সারাদিন রেস্ট নিয়ে বিকেলে প্যান্ডেল হপিং-এর জন্যে দু’জনেই ফিট | শেষ দিনের ফিনিশিং টাচ হোক আনারকলি বা শিফনের ফ্লোরাল প্রিন্ট লং ড্রেসে | ছেলে সাজবে শেরওয়ানি-তে | মেয়ের পায়ে ডিজাইনার জুতো | ছেলের জন্যে কাবলি চপ্পল | আজ চুলেও বাড়তি চমক | অল্প চুল নিয়ে বেশ কয়েক গুছি বিনুনি বেঁধে দিন | বিনুনির ফাঁকে রঙিন বিডস বা স্টোনের কাঁটা ঝিকমিক করুক | স্মার্ট লুক আনতে দস্যি ছেলে চুলে স্পাইক করবে বলছে নাকি? একটা দিন হোক না সাজ-বদল | চুলের সামনে অল্প জেল লাগিয়ে বাড়িতেই এই স্পাইক করতে পারেন |

ঢাকের তালে কোমর দোলে— বুঝুক চাই না বুঝুক মা যে এবছরের মত টাটা-বাইবাই বলছেন, এটা বোঝার ক্ষমতা খুদেদের বেশ আছে | প্যান্ডেল ফাঁকা হয়ে টুনি বাল্বগুলো যখন একটা একটা করে নিভতে থাকে ওদের মুখের আলো-ও যেন মুছতে থাকে | আবার পড়া, আবার স্কুল. আবার বকা, আবার, ভুল | কচি মুখে খুশির আলো জ্বালতে আজ লিনেনের পোশাক দু’জনের জন্য | বিকেলে প্রতিমার পায়ে প্রণামের সময় ষষ্ঠীর মতই অল্প সাজে শেষ হোক এবারের পুজোর গপ্পো |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।

Pradip autism centre sports

বোধ