পুরো শুটিং শেষ না করেই কি রিলিজ হল ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’?

durgeshgorer guptodhon film review

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা জানেন, এরকমটা মাঝে মধ্যেই হয়। নানা সময় শুটিং চলতে চলতে হঠাৎ করে কোন কারণে বন্ধ হয়ে যায় শুট। এরপর হিসেব করে দেখেন সবাই, কতটা অবধি শুট হয়েছে, আর কতটা রয়েছে বাকি। তারও পর প্রশ্ন আসে, যে অংশটা বাকি আছে, সেই শুট কী করতেই হবে, নাকি সেটা বাদ রেখেও ছবি এডিট করে রিলিজ করা যাবে!

অনেক সময় এরকমটা হতে দেখেছি যে, ছবির বেশ কিছুটা শুট হয় নি, তবু সেই অসম্পূর্ণ ছবিখানাই জোড়াতালি দিয়ে এডিট করে রিলিজ করা হল। তবে ঠিক কী কারণে যে এমন হয়, সে আলোচনায় এখানে এখন ঢুকতে চাই না আমি।

এবার সোজাসুজি এই ছবির কথায় আসুন। ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ ছবির ক্ষেত্রেও শুটিং অসমাপ্ত রেখে দেওয়ার মতো কিছু ঘটেছে কিনা, সেটা আমার জানা নেই কিছু ঠিকই। তবে সাধারণ এক দর্শক হিসেবে সিনেমাটা দেখতে গিয়ে চমকে গিয়েছি খুব। গল্পের মাঝবরাবর খুব ভাইটাল একটা সিকোয়েন্স যে ছবির মধ্যে নেই! এমন অ্যাডভেঞ্চার ছবির থেকে রোমাঞ্চকর একটা দৃশ্য বেমালুম যদি বাদ পড়ে যায়, তখন দেখতে সেটা কেমন লাগে বলুন?

সেইজন্যেই এমন ধাঁধা, আর শিরোনামে এমন একটা জিজ্ঞাসা তুলে দেওয়া।

ছবির সেকেন্ড হাফের ওই সিনটায় চলুন। সোনাদা (আবীর চট্টোপাধ্যায়), আবীর (অর্জুন চক্রবর্তী), ঝিনুক (ঈশা সাহা) হাজির হয়েছে দুর্গেশগড়ে এসে। ওদের সঙ্গে আছে অপুদা (খরাজ মুখোপাধ্যায়) আর বিচ্ছু ছেলে কুচো (বিহান)। চারপাশে গভীর বন, ভালুকডুংরির টিলা। মাঝে মাঝেই নাকি ভালুক বেরোয় এখানে। এবার সেই বনের মধ্যে হঠাৎ করে দৌড় দিল কুচো। আর ওকে ধরতে ওর পিছু পিছু দৌড় লাগালো ঝিনুক এবং আবীর।

জঙ্গলের মধ্যে দৌড়ে যখন হারিয়ে গেছে ওরা, তখন আপনি দেখতে পাবেন ওদের কোন হদিশ না পেয়ে সোনাদার চিন্তা হচ্ছে খুব। মোবাইল আনরিচেবল পুরো, তাই চিন্তা আরও বেশি। এরপর একঝলক এটা দেখা যাবে যে ওদের খুঁজে বের করতে ব্যস্ত সোনাদা কী কারণে নিচু হয়েছে একটু, আর তাঁর দিকে লক্ষ্য করে একটু একটু এগিয়ে যাচ্ছে ফোরগ্রাউন্ডে একটা হাতের পাঞ্জা।

এরপরে যে কী হল, সেই অংশটাই হাওয়া!

আরও কিছুক্ষণ পরে এটা দেখবেন যে, কুচো, আবীর, ঝিনুক, সোনাদা – সবাই মিলে পড়ে রয়েছে ওই জঙ্গলের ভেতরে বিরাট এক গহ্বরে! সেখান থেকে গাছের ডালপালা, শিকড়-বাকড় বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছে সোনাদা আর ওপর থেকে সেগুলো কেটে দিচ্ছে দুষ্টু লোকজনেরা, মানে কালনেমি কুণ্ডু (লামা) আর তার রোগাপটকা শাগরেদ ল্যাটা (অমিত সাহা)।

সে তো বুঝলাম, কিন্তু এতগুলো লোকজন ওখানে ওই গর্তের মধ্যে গিয়ে পড়ল কী করে, সিনেমায় মোক্ষম সেই সিনটাই নেই?  

একটু যদি ভেবে দেখেন তো বুঝতে পারবেন যে, বনের মধ্যে একটু তফাতে পরপর দৌড়তে থাকা তিনজন – কুচো, ঝিনুক আর আবীরকে ধাক্কা মেরে একটা বিশেষ গর্তে ফেলে দিচ্ছে দুটো রোগাপটকা লোক, এই সিনটা ঠিকঠাক অ্যারেঞ্জ করে শুট করা কিন্তু মহা হ্যাপার কাজ। এরপর স্টোরির যে হিরো, সেই সোনাদা’কেও একই রকম ধাক্কা খেয়ে গর্তে পড়তে দেখানোটাও বেশ ঝঞ্ঝাটের সিন। এসব শুট সামলে ওঠা মুশকিল বলেই পুরো সিকোয়েন্সটা বাদ পড়ে গেল নাকি?

জঙ্গলের এবড়ো-খেবড়ো ওই গর্তে আছাড় খেয়ে পড়ার পরেও চারজনের কারুর কিন্তু চোট লাগে না কোন! কেটে-ছড়ে যেতে দেখি না কোথাও! জঙ্গলের মধ্যে এত বিশাল গর্ত এল কী করে, বানাল কে, সেটারও কোথাও ব্যাখ্যা দেওয়া নেই। সেই গর্তে আবার একটা বিশাল ভালুক হাজির! এই সিনটা দেখতে গিয়ে প্রথম যেটা মনে হল যে, ভালুকটা কি এই গর্তেই থাকে, নাকি ওকেও আগের থেকে ধাক্কা মেরে এই গর্তে ফেলে দিয়েছিল কালনেমি আর ল্যাটা?

ভালুক যদি এত নিচু গর্তে থাকে তো, বনের মধ্যে চরার জন্যে সেই গর্ত থেকে ওপরে উঠে আসে কী করে সে?

সত্যি, মনে কী রকম সব প্রশ্ন আসছে, বলুন?

ভালুক আছে মানেই যদি ভেবে বসেন এবার ভালুকের সঙ্গে সোনাদা আর বাকি টিমের তুমুল ফাইট, তবে সে গুড়ে দাদা বালি! একে তো ভালুকটা হল সাজানো ভালুক, অনেকটা সেই ‘ইয়েতি অভিযান’-এর (২০১৭) ইয়েতিগুলোর মতো। আর সাজানো এই ব্যাপারটা চট করে যাতে ধরা না পড়ে, সে জন্যে সিনগুলো এখানে প্রায় অন্ধকার করা আছে!

ভালুকটা এগিয়ে আসবে ঝিনুকের দিকে, আর ঝিনুক শ্বাস বন্ধ করে মড়ার মতো শুয়ে থাকবে মাটিতে। ভাবছিলাম এখানে ছোট করে কথামালার সেই গল্প হচ্ছে নাকি। এদিকে আবার লাথিয়ে আর ধাক্কা মেরে সেই গর্তের একদিকের পাথর-মাটি ধসিয়ে দিচ্ছে সোনাদা এবং আবীর। ভালুকটা ওই পাথর-মাটিতে চাপা পড়েই কাবু হয়ে গেল কিনা, বোঝা গেল না ঠিক। তবে এটা দেখে ফের একবার হাঁ হয়ে গেলাম, যে গর্তের দেওয়াল ভেঙে যেতে বাইরে দিব্যি সেই একই লেভেলে রোদ ঝলমলে বাইরেটা দেখা গেল!

গর্তের দেওয়াল ভেঙে বাইরের রোদের দিকে চেয়ে আছে সোনাদা, এরকম ফ্রেম রয়েছে স্ক্রিনে।

ব্যাপারটা হজম হতে চাপ হবে না বলুন? একতলা বাড়ির দেওয়াল ভাঙলে বাড়ির পাশের রাস্তাখানা দেখতে পারেন আপনি। তাই বলে বনের মধ্যে গভীর গর্তে পড়ে সেই গর্তের দেওয়াল ভেঙেও ফের বাইরেটা দেখা যাবে? ইতিহাস নিয়ে তৈরি ছবিতে ভূগোল যে ঘেঁটে ঘণ্ট হয়ে গেল!

এরকম সব জোড়াতালি মেরে ম্যানেজ করার কেস এ ছবিতে গণ্ডা গণ্ডা আছে! আচ্ছা দাদা, ছোটদের জন্য তৈরি বলে কি স্ক্রিপ্ট লেখায় মনোযোগ দেওয়া বারণ ছিল নাকি?

যেমন ধরুন এর আগের ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’তে (২০১৮) আপনি দেখতে পেয়েছিলেন কলকাতা থেকে বেশ দূরের জায়গা মণিকান্তপুরের ‘আই সি’ সঞ্জয় সরকারকে (জয়দীপ কুণ্ডু)। এই ‘দুর্গেশগড়ে’ আবার বেশ বড় একটা রোলে দেখতে পাবেন তাঁকে। কিন্তু মণিকান্তপুরের ‘আই সি’ কেন দুর্গেশগড়ের কেস সামলাচ্ছেন, কেন কলকাতায় তাঁর থাকার এখন এলাহি আস্তানা, এই বেসিক লজিক কোথাও খুঁজে পাবেন না আপনি। পুলিশের উদ্ধার করা একটা দুর্মূল্য ছোরা কেন তিনি থানায় না রেখে বাড়িতে নিজের কাছে রাখেন কিংবা কেন অচেনা একটা লোকের সামনে হুট করে সেটা বের করে দেন, সেগুলোও কিছু স্পষ্ট হয় না কোথাও।

তাঁকে একসময় মনে হতে থাকে মহা-গামবাট বলে। তাঁর বাড়িতে তাঁর সামনে সেই ছোরা হাতসাফাই হয়ে গেলেও টের পাচ্ছেন না তিনি! ছোরাটা আসলে কোথা থেকে এল, ক্লু পাচ্ছেন না কোন! খবরের কাগজে যে খবর ছাপা হচ্ছে, এমনকি সেই খবরও আসছে না তাঁর কাছে! ছোরাটা যে বনপুকুরিয়ার দেবরায় বাড়ির ছোরা, খুব কাকতালীয় একটা ঘটনার জেরে সেটা জানতে পারে সোনাদা আর তাঁকে জানায় তখন সেটা। তবে তিনি তা’ জানেন। এখন আপনি বলুন, এ লোকটা পুলিশ না আর কিছু?

স্ক্রিপ্ট যখন লেখা হয়, তখন এগুলো কেউ খেয়াল করে নি, না?

স্ক্রিপ্টের আরও বড় সব খামতি বলছি শুনুন। ছবির প্রায় গোড়া থেকেই একটা ক্যারেক্টারকে দেখান হল ঘোর বিষয়ী এবং দুর্ব্যবহারের শিরোমণি লোক বলে। কে সেটা, বলে দিচ্ছি না আমি। শুধু এটুকু লিখি যে, ছবির লাস্ট সিনে পৌঁছে হঠাৎ দেখবেন, উইদাউট এনি রিজন, লোকটা ‘ভাল’ হয়ে গেল জাস্ট! আরে দাদা, এভাবে লোকের বিহেভিয়ার কারণ ছাড়া পালটে যায় নাকি?

পুরো ছবিতে যে লোকটা রসিক এবং আমুদে টাইপ, লাস্ট সিনে তাকে ‘ভিলেন’ হিসেবে অ্যাপিয়ার হতে দেখলে অসুবিধে নেই কিছু। বুঝতে পারি, নিজের ধান্ধা সফল করতে এতক্ষণ নিজের স্বরূপ লুকিয়েছিল সে। কিন্তু যে লোকটা দীর্ঘকাল ধরে বাড়ির সো-কল্‌ড ‘ব্যাড বয়’ বলে স্ট্যাম্প্‌ড, লাস্ট সিনে এসে নিজের আইডেন্টিটি হঠাৎ পুরো পালটে ফেলে সে গুড বয় হবে কেন?

বছরে একটা করে তো সিনেমা বানান, তার পরেও এরকম সব ভুলভাল কেস তাতে?

দুর্গাপুজোর ছুটি। ক্লাসের এক ছাত্রের থেকে নেমন্তন্ন পাওয়ার পর, আবীর আর ঝিনুককে সঙ্গে করে কলকাতা থেকে কিছুটা দূরে বনপুকুরিয়া পৌঁছচ্ছে গিয়ে সোনাদা। সেখানে পুরনো জমিদারবাড়ি, সেই বাড়ি জুড়ে বনেদী পুজোর ঘটা। এর মধ্যেই শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক গুপ্তধনের খোঁজ।

এখানে এটা মানতে হবে যেভাবে পুরনো দিনের পুজোর গানের কথাগুলোকে ডিকোড করে গুপ্তধনের সংকেত পায় সোনাদা, দেখতে সেটা ভালোই লাগে বেশ। মা দুর্গার পরিবার নিয়ে যে বিশ্লেষণ ছবিতে রয়েছে, সেটাও উপভোগ্য খুব। কিন্তু শেষ অবধি তো এটা একটা ট্রেজার হান্টের ফিল্ম? ফাইনাল এক্সিকিউশন করার সময় সিন ঝুলে গেলে চলবে?

যেমন ধরুন ঘোর আঁধারে বহু বছরের পুরনো পুকুরে ডুব দিয়ে গুপ্তধনের খোঁজ করবার সিন। পুকুরটাকে অন স্ক্রিন দেখে তখন ভয়ে ছম-ছম করে গা। কলকাতার নামী ক্লাবে সবে সাঁতার শিখেছে আবীর। গা-শিরশিরে আদ্যিকালের সেই পুকুরে নামতে কিন্তু আবীর তখন ঘাবড়াচ্ছে না মোটে!

আপনি বলুন, আবীরের ক্যারেক্টারের সঙ্গে আদৌ কি এটা যায়? সোনাদা হল সাহসী আর আবীর হল ভীতু, সেরকমই তো জানি! হঠাৎ করে নিজের স্বভাব পালটে ফেলে বেমক্কা আবীর ‘ব্রেভ বয়’ হয়ে গেল?

ঠিক একই রকম উলটো কাণ্ড আগের ছবি ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’তেও ছিল। সারাক্ষণ ইতিহাস নিয়ে জ্ঞানের ফোয়ারা বিলিয়ে বেড়ান যে প্রোফেসর, মনে আছে তো, গুপ্তধনের খোঁজ পেতে গিয়ে তিনিই আবার গুলি চালিয়ে চুরমার করেন শাহ সুজার ঐতিহাসিক রত্নপেটিকার ডালা!    

একটা স্ক্রিপ্ট লেখার আগে প্রধান চরিত্রগুলোর ‘ক্যারেক্টার ডায়মন্ড’ নিয়ে যে হিসেবটা করতে হয়, তার একটুও কি সোনাদা সিরিজের ছবিগুলোতে আছে? ভাল কথা, ‘ক্যারেক্টার ডায়মন্ড’ যে কাকে বলে, ছবির নির্মাতারা সেটুকু জানেন তো?

ছবির ডায়ালগও কোথাও কোথাও নড়বড়ে আছে বেশ। একটা উদাহরণ দিই শুনুন। ফেরত চলুন আবার সেই পুকুরঘাটের সিনে। সবে জলের তলা থেকে উঠে এসেছে আবীর। ওর জন্য সবার তখন উৎকণ্ঠা চরম। এদিকে সোনাদা’কে তখন আবীর জানাল, জলের নিচে কেউ একজন টেনে ধরেছিল ওর পা! এবার এটা শুনে সোনাদা’র রেসপন্স তো এটা হওয়া উচিৎ ছিল যে, বলিস কী রে, জলের তলায় তোর ওপর অ্যাটাক হয়েছে নাকি? তার বদলে এখানে দেখবেন সোনাদা বলছে, ‘আমি আগেই তোকে বারণ করেছিলাম নামতে…’ আর তারপর কথাবার্তা ঘুরে যাচ্ছে অন্য সব দিকে! জলের তলায় অ্যাটাক হওয়ার মতো অমন মেজর ঘটনা নিয়ে কোথাও আর কোন শব্দ নেই!

আর জলের তলায় ওটা আপনি কী দেখালেন স্যর? কয়েকশো বছরের পুরনো দীঘিতে রাতের বেলা ডুব দেওয়া মাত্র চোখের সামনে গুপ্তধনের সংকেত এসে হাজির! আবীরের হাতে জলের তলায় কী জ্বলছিল ওটা, টর্চ? ওর আলোয় তো মনে হচ্ছিল, পাথরে খোদাই সেই সংকেতে আজ একটু শ্যাওলা অবধি নেই!

‘বাচ্চাদের সিনেমা’ বলে এসব ব্যাপার দেখে না দেখার ভান করে চুপ করে থাকব কিনা, বলুন?

ইতিহাসের একটা চরিত্রের নাম মুখে বলতে শোনাচ্ছেন ‘মহাতপ চাঁদ’। এদিকে তলায় ইংরেজি সাবটাইটেলে সেই নামটাই লেখা হচ্ছে ‘মেহতাব চাঁদ’ বলে! ‘মহাতপ’ নাকি ‘মেহতাব’, কোনটাকে ঠিক বলে ধরবো বলুন এখন?

‘সোনাদা’ ছবির থিম মিউজিকটা দিব্যি। কিন্তু কী অস্বস্তি যে লাগছিল ছবির গান শুনতে শুনতে! হচ্ছে পুজোর ছুটির গল্প, কিন্তু গানে বেশ জমিয়ে এটা বলা হচ্ছে যে, ‘হিসট্রির প্রোফেসর সুবর্ণ সেন / গরমের ছুটিতে ফের ফিরলেন’। গানটা শুধু প্রমোশনাল গান হলে অসুবিধে হতো না তেমন। ছবির সঙ্গে গানটা অ্যাটাচ করায় কনফিউশন হচ্ছিল খুব। মনে হচ্ছিল, যেটা আসলে পুজোর ছুটির গল্প, সেটাকে এভাবে ‘গরমের ছুটি’ বলে আন্ডারলাইন করতে থাকার কি কোন এক্সট্রা ফায়দা আছে?

‘সোনাদা’ সিরিজের আগের ছবিটার মতো এই ছবিটারও লুক-ফিল ঝকঝকে আর রঙিন। ধুনুচি নাচের দৃশ্য, সিঁদুর খেলা, কিংবা কিশোর প্রেমের মোমেন্টগুলো বেশ ‘ফিল গুড’ সব সিন। আহা, কোলা কোম্পানির অ্যাডের মতন যেন!

কিন্তু একটা ব্যাপার দেখে একটু কেমন-কেমন লাগছিল যে, বাড়ির সবার জমায়েত হওয়ার সিনগুলো ডিরেক্টর জাস্ট একটা মাস্টার শট মেরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ফাস্ট। মানে একটা লং শট, যেখানে হয়তো একসঙ্গে হাজির ছ’টা-সাতটা লোক, হয় এ ওর সঙ্গে কথা বলছে বা ও এর সঙ্গে, আর ডিরেক্টর শট না কেটে পুরোটা এক ফ্রেমে ধরে শেষ অবধি টেনে দিচ্ছেন সিন। শট কেটে কেটে না নেওয়ার ফলে শুটিংয়ের সময় বাঁচছে ঠিকই, কিন্তু চোখে হালকা ধাক্কা লাগছে যে! এমন একটা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এত শর্ট কাট না মারলে কি হতো না, বলুন ভাই?

আগের ছবিটার মতো এই ছবিটারও শুরুতে টু-ডি অ্যানিমেশনে উঠে এল ইতিহাসের একটা টুকরো। হ্যাঁ, সেই অংশটুকু এককথায় অনবদ্য যেন। পুরো ছবির মধ্যে শুধু ওই দৃশ্যেই গায়ে কাঁটা দিয়ে গেছে আমার।

সোনাদা’র ভালোর জন্য একটা কথা বলছি, শুনুন। খুব দ্রুত পালটে যাচ্ছে পৃথিবী। ছোটদের সামনে বিনোদনের হরেক পুরিয়া হাজির হচ্ছে আজ। তার মধ্যে বাংলার মাটির গন্ধ মাখা এমন একটা সিরিজ তৈরি কম কথা নয়, জানি। তাই অনুরোধ করছি যে, যতটা সম্ভব যত্ন নিয়ে বানান এটা প্লিজ।

সোনাদা’র পরের অভিযানে যেন এরকম জোড়াতালি না থাকে।

ছবি তৈরিতে অবহেলার চিহ্ন দেখলে এখনকার পাবলিক মুখ ঘোরাতে কিন্তু সময় নেবে না কোন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here