মহিলাদের শরীরে নিজের শুক্রাণু ঢুকিয়ে ৪৯ সন্তানের পিতা এই চিকিৎসক

1158

প্রাকৃতিকভাবে যেসব মহিলা গর্ভধারণ করতে পারেন না, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বেছে নিতেন আইভিএফ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ডোনারের শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণ করা সম্ভব। সেইমতো নেদারল্যান্ডস-এর চিকিৎসকের ক্লিনিকেও বহু মহিলা আসতেন আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করতে। কিন্তু ডোনারের বদলে নিজের শুক্রাণুই ঢুকিয়ে দিতেন তাঁর ক্লিনিকে আসা মহিলাদের শরীরে।

ঘটনাটি নেদারল্যান্ডের নিজমেগন শহরের। জানা গিয়েছে, নিজের স্পার্ম ব্যবহার করে ঊনপঞ্চাশজন সন্তানের বাবা হয়েছে ওই চিকিৎসক। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালেই মারা যান কারবাট নামে ওই ডাচ চিকিৎসক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তবে তাঁর রটারডাম ক্লিনিক অবশ্য তাঁর মৃত্যুর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালেই বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন তথ্য কারচুপির অভিযোগে। সম্প্রতি, নেদারল্যান্ডের নিজমেগন শহরের একটি হাসপাতালে চলা একটি ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে জানা গিয়েছে, আইভিএফ পদ্ধতিতে মা হওয়া ৪৯ জন মহিলার গর্ভের সন্তানই নাকি ওই চিকিৎসকের বংশধর। ডিফেন্স ফর চিলড্রেন নামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই সংস্থার উপদেষ্টা ইয়ারা দে রিট জানিয়েছেন যে, ওই চিকিৎসক মৃত্যুর আগে এই কথা স্বীকার করে গিয়েছেন।

আরও জানা গিয়েছে যে, ওই চিকিৎসক নিজের জীবদ্দশায় ডিএনএ পরীক্ষা করে জানতে পেরেছিলেন যে তিনি নাকি ষাটজন সন্তানের বাবা হয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি, ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন এমন কিছু মহিলা নিজের সন্তানদের পিতৃত্বের পরীক্ষা দাবি করলে তার সঙ্গে কারবাটের ডিএনএ রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হলে প্রকাশ্যে আসে প্রকৃত তথ্য । ওইসব মহিলাদের মধ্যে একজনের সন্তানের কথায়, চিকিৎসক কারবাটের প্রতি তার কোনও ক্ষোভ নেই। তাঁর জন্মের জন্য একজন শুক্রাণু দাতার প্রয়োজন ছিল। সেটা যে কেউ হতে পারেন। আর সেই কাজটিই করেছেন কারবাট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.