চিকেন পক্স হলে তার থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায়

চিকেন পক্স একটি ছোঁয়াচে রোগ। এর সংক্রমক ভাইরাসের নাম ভ্যারিসেলা ভাইরাস। সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। সারা শরীরে ছোট ছোট ফোসকার মতো লালচে গোটা দেখা যায়। একেই আমরা মূলত চিকেন পক্স বলি। এর সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, মাথাব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা হয়।

চিকেন পক্সের সবথেকে বড় সমস্যা হল লালচে ফোসকা বা ফোঁড়াগুলির চুলকানি। লালচে ফোসকা বা ফোঁড়াগুলি ফেটে গেলে এর ভিতর থেকে একরকমের জলীয় পদার্থ বেরোয় ও সেই পদার্থটি অন্য জায়গায় লাগলে সেখানেও ফোসকা বা ফোঁড়া বেরোয়। বাচ্চারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। ডাক্তারের পরামর্শ তো আবশ্যিক। তা ছাড়াও রইল চিকেন পক্স হলে তার থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায়।

১| স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার ( যেমন চর্বি যুক্ত মাংস ও ফুল-ফ্যাট দুধ ) খেলে ভ্যারিসেলা ভাইরাস সহজেই আমাদের শরীরকে আক্রমণ করতে পারে। তাই চিকেন পক্স সংক্রমণের সময় এই ধরণের চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।

২| আরজিনিন নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে যা চিকেন পক্সের ভাইরাসকে আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। আরজিনিন যুক্ত খাবার ( যেমন, চকোলেট, বাদাম এবং বীজ জাতীয় যে কোনও খাবার ) এই সময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

৩| অতি অবশ্যই বাচ্চাকে চিকেন পক্সের প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন | ছোটোবেলায় প্রতিষেধক টিকা দেওয়া থাকলে চিকেন পক্স না হওয়ার জন্য দেহে প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হবে |

৪| চিকেন পক্স হলে ডিহাইড্রেটেড হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই চিকেন পক্স হলে দিনে কম পক্ষে ১০ গ্লাস জল খান। বেশি করে জল খেলে শরীরের ক্ষতিকারক টক্সিন শরীর থেকে দূর হবে।

৫| চিকেন পক্স হলে দিনে কম পক্ষে ৩ গ্লাস ফলের রস খাওয়ার চেষ্টা করুন। ফলের রস শরীরে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা দূর করবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়াবে।

৬| চিকেন পক্স হলে অনেক সময়ই ডাক্তাররা ক্যালামাইন লোশন লাগাবার উপদেশ দেন। স্নান করার জলে বেকিং সোডা দিয়ে স্নান করলেও গায়ের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ির ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যায়।

৭| স্নানের সময় ১ বালতি জলে ১ কাপ ওটমিল মিশিয়ে নিয়ে তাতে স্নান করলেও গায়ের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ির সমস্যায় উপশম পাওয়া যায়।

৮| চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে মহৌষধি হল নিম পাতা। এর ভেষজ গুণের জন্য চিকেন পক্সের চিকিৎসার ঘরোয়া উপশমে বহুকাল ধরে নিম পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম পাতা বেটে নিয়ে গায়ে লাগাতে হবে। তাহলেই চুলকুনির উপশম হবে। অন্তত দিনে ১ বার করে নিম পাতা বাটা গায়ে লাগানোর চেষ্টা করুন।

৯| চায়ের সঙ্গে পাতিলেবুর রস‚ মধু‚ দারচিনি মিশিয়ে চা খেলেও আরাম পাবেন।

১০| এছাড়া গায়ের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি কমাতে খুবই কাজে আসে চন্দন। চন্দন বেটে নিয়ে গায়ে লাগাতে হবে। লাগাতে পারেন ঈষদুষ্ণ নারকেল তেলও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here