শিশুদের পেট ব্যথা মোকাবিলা করার ঘরোয়া পদ্ধতি

দিনের পর দিন বাচ্চার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে এবং খুবই কান্নাকাটি করছে? সমস্যা কোথায় তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এমনটা হওয়ার একটি সাধারণ কারণ হতে পারে ওর পেটে ব্যাথা। বিশেষত সদ্যজাত শিশুদের প্রায়ই পেটে ব্যাথার সমস্যা হয়ে থাকে। কারণ যাই হোক, প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই বরং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিকারের চেষ্টা করুন। ভাবছেন, শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে হেলাফেলা? না, মোটেও তা নয়। বিশেষজ্ঞরাই শিশুদের কথা চিন্তা করে সহজলভ্য কয়েকটি প্রাকৃতিক ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে এর প্রতিকারের পরামর্শ দিয়েছেন।

১) শিশুকে ক্যামোমাইল চা পান করালে পরিপাকনালীর উপরাংশের পেশীতে আরাম পাবে। এটি পেটের খিচুনি এবং সংকোচনের উপশম করে। এছাড়া পুদিনা পাতায় থাকা পিপারমেন্ট শিশুর পেটের ব্যাথা দূর করতে খুবই কার্যকরী। পুদিনা পিত্তরসের প্রবাহ উন্নত এবং খাবার হজমে সাহায্য করতে খুবই উপকারী।

২) চায়ে পুদিনা পাতা দিয়ে শিশুকে পান করান, পেটে ব্যাথা কমে যেতে পারে। এছাড়া দ্রুত ব্যথা কমিয়ে আরাম দিতে আদা চা দিন। আদাতে “জিঞ্জেরল” নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি র‌্যাডিকেল বৃদ্ধি ও এর দ্বারা হওয়া সংক্রামক সারাতে সাহায্য করে। আদায় বিদ্যমান প্রদাহ দূরকারী বৈশিষ্ট্য পাচক রসের উৎপাদন বাড়ায় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড নিবারিত করে। এছাড়াও পেটের অস্বস্তি ও বমিবমি ভাব কমায় আদা।

৩) যেহেতু দু-পাঁচ মাসের শিশুর ক্ষেত্রে দুধ একমাত্র খাদ্য। ঠিক সে কারণেই পেটে ফাঁপার সমস্যা এবং তার থেকেই পেট ব্যাথা হয়েই থাকে। এর জন্য তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। নারকেল তেল অথবা ওলিভ ওয়েল হাতের তালুতে ঘষে নিয়ে আপনার শিশুর সারা শরীরে কল্কওয়াইস মোশনে ম্যাসাজ করে দিন। তেল ম্যাসাজ আপনার শিশুর খাদ্যের সঠিক পাচনে সাহায্য করে।

৪) পেট ব্যথায় মাঝে মাঝে গরম শেক দিয়ে দেখতে পারেন। পেটের ওপর সহনীয় গরম জলের ব্যাগ রাখুন। তাপ ত্বকের উপরিতলে রক্তের সংবহন বাড়িয়ে দিয়ে ব্যথা কমায়।

৫) বদহজমের সেরা প্রতিকার হল দই। প্রতিদিন বাচ্চাকে এক বাটি দই খেতে দিন। দইয়ে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া শিশুর হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে।

৬) বিশেষজ্ঞরা বলেন, শারীরিক সক্রিয়তা পেটে ব্যথার সমস্যা দূর করে কারণ এতে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ট্র্যাক্ট সচলতায় সাহায্য করে। আপনার শিশুর বয়স যদি ৩-৪ বছরের হয় তবে পেটে ব্যাথা নিয়ে টানা বিছানায় শুয়ে থাকলে বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই শিশুকে নিয়মিত বাইরে গিয়ে খেলাধূলো করতে উৎসাহিত করুন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

spring-bird-2295435_1280

এত বেশি জাগ্রত, না থাকলে ভাল হত

বসন্ত ব্যাপারটা এখন যেন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। বসন্ত নিয়ে এত আহ্লাদ করার কী আছে বোঝা দায়! বসন্তের শুরুটা তো