ইমোশনাল ইটিং কী? কীভাবে পাল্টাবেন এর প্রবণতা?

349

খেয়াল করবেন কোনও কারণে অতিরিক্ত চিন্তার মধ্যে থাকলে হাতের সামনে যা পান খেয়ে ফেলেন বা অনেক কিছু খেতে ইচ্ছে করে | একে বলে ইমোশনাল ইটিং | অর্থাৎ কোনও ইমোশনাল বা আবেগপ্রবণ অবস্থায় মনের চাপ কমানোর জন্য ক্রমাগত কোনওকিছু খেতে থাকা | ইমোশনাল ইটিং কিন্তু আপনার সমস্যার সমাধানে কোনও সাহায্য করে না বরং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে শরীরের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে | মনখারাপ কাটিয়ে ওঠার জন্যই মানুষের ইমোশনাল ইটিংএর প্রবণতা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে | এবং ঠিক এই সময়ই যত অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার আছে সব খেতে ইচ্ছে করে | ইমোশনাল ইটিং তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ‚ একাকীত্ব‚ মনকেমন বা রাগের অনুভূতি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করতে পারে | কিন্তু আপনি যদি প্রায়শই দুশ্চিন্তায় ভোগেন এবং ইমোশনাল ইটিং হয়ে ওঠে আপনার অভ্যাস‚ তবে তা আপনার স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে | কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ইমোশনাল ইটিংএর ইচ্ছে বেশি করে হয় | আসুন দেখেনি ইমোশনাল ইটিংএর প্রবণতা কোন কোন পরিস্থিতিতে তৈরি হতে পারে |

১| বাবা মা‚ বন্ধুবান্ধব বা নিজের কাছের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে কোনও সমস্যা তৈরি হলে ইমোশনাল ইটিংএর প্রবণতা বাড়ে | এই পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক এমন কিছু স্ট্রেস কেমিক্যাল ক্ষরণ ঘটায় যার ফলে একাকীত্ব ও দুঃখের অনুভূতি হতে পারে |

২| কাজের প্রচন্ড চাপ থাকলেও ইমোশনাল ইটিংএর ইচ্ছে বাড়ে | যদি দেখেন কাজের চাপের মাঝে যখনই সময় পাচ্ছেন তখনই মুখরোচক খাবার খেতে ইচ্ছে করছে তহলে বুঝবেন আপনারও ইমোশনাল ইটিংএর প্রবণতা তৈরি হয়েছে |

৩| মস্তিষ্কের সঠিক ভাবে কাজ করতে পারার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম | যদি আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হয় তাহলেও ইমোশনাল ইটিংএর ইচ্ছে মথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে | ইনসমনিয়া থাকলে বা ঘুমোনোর ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে ইমোশনাল ইটিংএর প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই দেখা যায় |

৪| আপনার জীবনে অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলেও ইমোশনাল ইটিংএর ইচ্ছে বাড়তে পারে | অর্থনৈতিক সমস্যা আপনার জীবনযাপন গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে |

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক ইমোশনাল ইটিংএর প্রবণতাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে | কোনও কারণে মানসিক চাপে থাকলে সবার আগে না খেয়ে বিকল্প কোনও কাজ করার চেষ্টা করুন | যেমন বই পড়ার‚ আলমারির জামাকাপড় গোছনোর‚ টিভি দেখার বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন | এছাড়াও মেনে চলতে পারেন এই টিপসগুলি |

১| সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে খাবার খান | দিনে পাঁচবার খাবার খান | সকালে প্রাতঃরাশের পরিমাণ সবথেকে বেশি হওয়া উচিত এবং তারপর সারাদিনে অল্প অল্প করে খাবারের পরিমান কমান | এতে খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর থাকবে |

২| ব্যায়াম করার অভ্যাস তৈরি করুন | এতে শারীরিক ও মানসিক  উভয়েরই স্বাস্থ্য ভাল থাকবে | ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমতে সাহায্য হয় এবং মনও সতেজ থাকে | যোগব্যায়ামও করলে এ বিষয়ে উপকার পাবেন |

৩| মদ্যপান ও ধূম পানের অভ্যাস ত্যাগ করুন | মদ্যপান শরীরকে ক্লান্ত বোধ করায় | মদ্যপান ও ধূম পান শরীরের ক্ষতি আরও বিভিন্ন ক্ষতি করে | তাই এগুলি এড়িয়ে চলতে হবে |

৪| আপনার কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনি নিজেই | কারণ আপনার শরীর ও মনের দায়িত্ব একমাত্র আপনারই | নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তার প্রতিক্রিয়ায় নিজের শরীর বা মনের ক্ষতি করলে নিজেরই ক্ষতি ডেকে আনা হবে | তাই নিজেকে ভালবেসে ইমোশনাল ইটিংকে বিদায় বলার চেষ্টা করুন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.