এক ফোনেই সঙ্গ দিতে চলে আসবেন স্বর্ণকেশী সুন্দরীরা

51

দুবাই বিমানবন্দরের বাইরে গাড়িটা থামল | ইমিগ্রেশন পর্ব মিটিয়ে এক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার কর্মকর্তা সবে বেরিয়েছেন | নিজের লাগেজ-পত্তর নিয়ে | সেরকম নামডাক না থাকলেও এই কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরে নিতে আসার কথা | BCCI-এর তরফে কারওর থাকার কথা | ওই কর্মকর্তা দেখলেন দাঁড়িয়ে আছেন সুদর্শনা স্বর্ণকেশী | হাতে প্ল্যাকার্ডে তাঁর নাম লেখা |

বিদেশিনীর দিকে এগোতেই, তিনি রাশিয়ান বা ইতালিয়ান অ্যাকসেন্টে কথা বললেন | কর্মকর্তাকে নিয়ে গেলেন অপেক্ষমান গাড়ির দিকে | এক ঝলকেই কর্মকর্তা বুঝলেন, তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে আছে বেন্টলে গাড়ি | সেই গাড়ি সোজা ছুটল মরুশহরের মসৃণ রাস্তার ওপর দিয়ে | গিয়ে থামল বুর্জ-এল-আরব হোটেলের সামনে |

সেই বুর্জ এল আরব, পৃথিবীর সেরা বিলাসবহুল হোটেলগুলোর মধ্যে যার নাম থাকবে প্রথমেই | কর্মকর্তা যখন রিসেপশনে গেলেন, ততক্ষণে অবশ্য IPL-এর এক সংগঠকের কাছ থেকে ফোন এসে গেছে | হোটেল যদি পছন্দ না হয়, তাহলে বাংলোর বন্দোবস্ত আছে | শুনে তো চক্ষু চড়কগাছ | সে কী? বুর্জ এল আরব পছন্দ হবে না !

ওই কর্মকর্তা ৫ দিন হোটেলে ছিলেন | আয়োজন-সেবা-যত্ন-আত্তির কোনও ত্রুটি ছিল না | এমন আদর-যত্ন যাকে তুলনা করাই যায় হীরক রাজার দেশে-র জামাই আদরের সঙ্গে | এর মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত আর এক কর্মকর্তা জানিয়ে দেন, IPL চলাকালীন তিনি হোটেলে নয়, থাকতে চান বাংলোতে | তাঁর ইচ্ছে ছিল বাংলোটা ঠিক কী রকম? বুর্জ-এল-আরবের থেকেও ভাল?

ইচ্ছেমতো বাংলোতেই নিয়ে যাওয়া হল তাঁকে | দেশের এক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার ওই কর্মকর্তার সেই সাধ ভালভাবেই মিটল | গিয়ে দেখেন, তাঁর সংস্থার স্টেডিয়াম আর অফিসের থেকেও আয়তনে বড় সেই বাংলো | তিন তিনটে সুইমিং পুল | পুল পেরোলেই রাস্তা মিশেছে সোজা সমুদ্রে | আছে দেদার ওয়াটার স্পোর্টস | সুইমিং পুলে স্নান করে যাওয়া যায় সমুদ্র বিহারে | এক ফোনে সঙ্গ দিতে আসবেন সুন্দরীরাও |

এরমধ্যেই ক্রিকেট প্রশাসকদের মধ্যে কারও কারও ইচ্ছে হল পান করার | বললেন, ভাল কিছু পানীয় পাঠাতে | সঙ্গে সঙ্গে সেখানে চলে আসে বিশ্বের সেরা ওয়াইন | এভাবে ৫ দিনের মোচ্ছব সেরে দুবাই থেকে কর্মকর্তারা যখন বিজনেস ক্লাস-এ দেশে ফিরেছেন, তারপরে কি আর শ্রীনির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া যায়?

ফলে শ্রীনির বিরুদ্ধে ওঠা মোশন-এ শ্রীনির পক্ষে ভোট পড়ল ১৪টি| বিপক্ষে মাত্র ১টা| হবেই বা না কেন? শোনা যায়, রাজকীয় আতিথ্যের সঙ্গে ছিল মোটা টাকার ভাতাও | এভাবেই দুবাইতে রাখা হয় বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার কর্মকর্তাদের | তারপরেই BCCI-এর ওয়ার্কিং কমিটিতে তাঁর বিরুদ্ধে ভোট মোশনের বৈতরণী অনায়াসে পার শ্রীনির |

শশাঙ্ক মনোহর যতই চমকান | শ্রীনিবাসন ঠিক এরকমই | এভাবেই নিমেষে ক্রিকেট কর্মকর্তাদের পকেটে পোরেন | রূপকথায় যেমন গাছ ঝাড়া দিলেই টাকা পড়ে, বাস্তবে BCCI-এর শ্রীনির কৃপায় বাস্তবের কল্পতরুও যে কোনও শখই মেটাতে সক্ষম | দরকার শুধু একটাই শর্ত, শ্রীনির তালে তাল মেলানো |

এজন্যই গত দু-বছর ধরে নিরন্তর বিরুদ্ধ চাপ থাকলেও টলানো যায়নি শ্রীনিবাসনের মসনদ | IPL-এর শুরুতে ৫ দিনের দুবাই সফর করেছেন বটে ক্রিকেট কর্মকর্তারা | শ্রীনির তরফ থেকে অবশ্য এরপরও আছে নিমন্ত্রণ | IPL চলাকালীন ক্রিকেট প্রশাসকরা আবারও যেতে পারেন দুবাই | পরিবার‚ বন্ধুবান্ধব যাকে খুশি সঙ্গে নিয়ে | বলছিলেন কোনও এক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার জনৈক কর্মকর্তা | ধন্যি বটে শ্রীনিবাসনের আতিথেয়তা ! রসে বশে কর্মকর্তাদের রাখেন বলেই না মজবুত হয় তাঁর নিজের গদি |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.