শুধু এই অহিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার অবারিত

12389

হিন্দু ছাড়া একটি মাত্র ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশাধিকার আছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে | কেন এই ব্যতিক্রম‚ সেই নিয়ে প্রচলিত এক আশ্চর্য কিংবদন্তি |

আজ থেকে ৫০০ বছরেরও বেশি আগে গুরু নানক এসেছিলেন পুরীতে | তিনি তখন একেশ্বরবাদের বাণী নিয়ে সারা ভারত ভ্রমণ করছেন | তাঁর সঙ্গে ছিলেন মারদানা নামে এক ভক্ত | মারদানা ছিলেন ক্ষুধার্ত | কিন্তু অহিন্দু বলে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি জগন্নাথ মন্দিরে | মারদানার সঙ্গে নানকও মন্দির থেকে ফিরে চলে এলেন সমুদ্রের পাড়ে |

মারদানা তো শুকনো মুখে বসে আছেন | গুরুর কাছে অনুযোগ করছেন‚ এমন জায়গায় তাঁকে নিয়ে এসেছেন তিনি‚ যেখানে মন্দিরে গিয়ে মহাপ্রসাদ পাওয়া যাবে না | স্মিত হেসে গুরু নানক জানালেন‚ চিন্তা না করতে |


কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা গেল‚ এক সৌম্যদর্শন ব্রাহ্মণ এসে বালির উপরে তাঁদের দুজনকেই খাবার দিয়ে গেলেন | সোনার থালাবাসনে সুন্দর করে পরিবেশিত | হতবাক মারদানা হাপুস হুপুস করে খেতে লাগলেন |

এদিকে পরের দিন ভোরে পুরীর মন্দিরে হৈচৈ কাণ্ড | খোয়া গেছে জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদের সোনার থালাবাসন | কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না | সংবাদ গেল পুরীর রাজার কাছে |

তাঁর তখন মনে এল গত রাতে দেখা এক অদ্ভুত স্বপ্নের কথা | সেখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন স্বয়ং জগন্নাথদেব | তিনি এসে রাজাকে বলছেন‚ তাঁর সোনার বাসন আছে সমুদের পাড়ে | এবং বাসনের কাছে যাঁরা আছেন তাঁদের যেন সমাদরে মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় |

লোক লশকর নিয়ে রাজা স্বয়ং গেলেন সমুদ্রের পাড়ে | বিস্মিত হয়ে দেখলেন সত্যি সেখানে পড়ে আছে জগন্নাথদেবের সোনার বাসনপত্র | তাতে লেগে আছে মহাপ্রসাদের অংশ | বাসনের কাছেই ধ্যানমগ্ন এক বৃদ্ধ |


পুরীর রাজা অপেক্ষা করতে লাগলেন | ধ্যানভঙ্গ হতে রাজাকে দেখতে পেলেন গুরু নানক | তিনি জানালেন কীভাবে মন্দির থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন তাঁরা | তারপর জানালেন কীভাবে এক সৌম্যদর্শন ব্রাহ্মণ এসে দিয়ে গেছেন ওই প্রসাদ |

রাজামশাইয়ের বুঝতে আর কিছু বাকি থাকল না | তিনি বুঝলেন স্বয়ং জগন্নাথদেব এসে ওই প্রসাদ দিয়ে গেছেন অভুক্তদের | তারপর স্বপ্নাদেশ দিয়েছেন রাজাকে |

রাজা বুঝলেন ওই ধ্যানমগ্ন ব্যক্তি কোনও দিব্যপুরুষ | তিনি তখন মহা সমাদরে গুরু নানক ও মারদানাকে নিজের প্রাসাদে নিয়ে গেলেন | তারপরে মন্দিরে | কথিত‚ শিখ ধর্মের বিখ্যাত আরতি গগন মে থাল পুরীতে বসেই রচনা করেছিলেন গুরু নানক |

সেই ঐতিহ্য আজও প্রবহমান | পুরীর মন্দিরে আসেন বহু শিখ পুণ্যার্থীরা | অন্য অহিন্দুদের জন্য এই মন্দিরের দরজা বন্ধ হলেও গুরু নানকের অনুগামীদের জন্য অবারিত দ্বার |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.