‘FINALLY ভালোবাসা’ : অসুখ নিয়ে ছবি, অথচ অসুখ সম্পর্কে মিনিমাম রিসার্চটুকু নেই?

সিনেমার গল্পে তিনটে আলাদা আলাদা ট্র্যাক। সেই তিনটে ট্র্যাকের নাম রাখা হয়েছে তিনটে আলাদা অসুখের নামে। এককথায় বলতে গেলে ওই তিনটে অসুখ নিয়েই তৈরি হয়েছে পুরো প্লটের ভিত।

অথচ কাণ্ড দেখুন, অসুখ নিয়ে গল্প ফাঁদতে গিয়ে এমন সব ব্যাপার ঘটেছে স্ক্রিনে যে দেখেশুনে মনে হচ্ছে, অসুখ নিয়ে মিনিমাম পড়াশুনোটুকুও করে নি কেউ স্ক্রিপ্ট লেখার আগে!

ছবির একটা ট্র্যাকের নাম ‘ইনসমনিয়া’। একটা ট্র্যাকের নাম ‘আরথ্রাইটিস’। এই অবধি অসুবিধে নেই কোন। গোলমাল হল শেষ ট্র্যাকটায় এসে। এটার নাম অঞ্জন রাখলেন ‘এইচ আই ভি পজিটিভ’। প্রথম দুটো ক্ষেত্রে অসুখের নাম লিখে এবেলা অসুখের নাম মুখে না এনে কেন ভাইরাসের নামে ট্র্যাকের নাম রাখলেন অঞ্জন, বুঝতে পারছিলাম না আমি।

তিনটে নামে সমতা বজায় রাখতে হলে এই ট্র্যাকটার নাম রাখতে হত ‘এড্‌স’। অথবা, কনশাসলি তিনটে নামে সমতা এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে কোথাও কোন ক্লু দিতে হত ছবিতে। ছবির আগাপাস্তলা সেরকম কিন্তু কোথাও কিচ্ছু নেই।

অসুখ নিয়ে আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু খবরের কাগজ পড়ার একটু হ্যাবিট থাকলে এটা আপনি জানতে পারবেন ‘এইচ আই ভি পজিটিভ’ হওয়া আর ‘এড্‌স’ হওয়া এক ব্যাপার নয়। বহু মানুষ ‘এইচ আই ভি পজিটিভ’ হিসেবে সারা জীবন কাটিয়ে গেছেন, কখনও এড্‌স হয় নি তাঁদের। এটা নিয়ে গুগল সার্চ মারতে গেলেই দেখতে পাবেন স্ক্রিনে বড় করে দেখান হচ্ছে যে, ওই দুটো ব্যাপার কখনও সমার্থক নয়। ‘এইচ আই ভি ইজ দ্য ভাইরাস দ্যাট কজেস এড্‌স।’

নেট থেকেই যেটা জানতে পারছে লোকে, পুরো একটা ছবি বানাতে গিয়ে নির্মাতারা সেটা কিছুই জানতে পারলেন না কেন, সেই হল গিয়ে প্রশ্ন। অসুখ নিয়ে স্ক্রিপ্ট লিখতে গেলে উপদেষ্টা হিসেবে কোন ডাক্তারকে অবশ্যই রাখা উচিৎ। টেকনিক্যাল সব খুঁটিনাটিগুলো চেক করে নিয়ে মেডিক্যাল ব্যাপারগুলো ভ্যালিডেট করে দেবেন যিনি। এই ছবিতে সে রকম আদৌ কি কেউ ছিল?

ছবি দেখে ভয়ানক এই ভুল ধারণাটা তৈরি হবে যে ‘এইচ আই ভি পজিটিভ’ মানেই হচ্ছে মারক অসুখ ‘এড্‌স’! যে চরিত্রটা এড্‌সে ভুগছে, সে বেশ পড়াশুনো জানা মানুষ, কথায় কথায় এর-ওর থেকে কোটেশন ঝাড়ে খুব। কিন্তু নিজের অসুখ নিয়ে বলতে গিয়ে তাঁকে অবধি বলতে শুনছি, ‘আমার ‘এইচ আই ভি’ হয়েছে জানার পর বাবা আর আমার সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখেন না’। পুরো ছবিতে একবারও এই লোকের মুখে কোথাও ‘এড্‌স’ শব্দটা নেই! এখন এটা দেখে তো মনে হবেই যে, এত লেখাপড়া জানা একটা লোক, সে নিজের অসুখের নামটা অবধি জানে না?

ছবির শেষ দৃশ্যে ওই চরিত্রের বাবার মুখে ‘এড্‌স’ শব্দটা শুনতে পেয়ে কেউ কেউ আবার ভাববেন, ও আচ্ছা, ‘এড্‌স’ রোগেরই অন্য একটা নাম কি তাহলে ‘এইচ আই ভি’?

ছবিটা তৈরি করার সময় যত্ন ছিল কতটা, এত অবধি পড়ে নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে সেটা। আমার তো দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল সিনেমা নয়, অঞ্জন যেন টেলিফিল্ম বানিয়ে দিলেন কোন। সেই কোন একটা ঘরের মধ্যে বা রাস্তার এক কোণে দাঁড়িয়ে দুটো মানুষ কথা বলে যাবে শুধু, আর তারপর ঝুপ করে গিটার বাজিয়ে গান শুরু করে দেবে কেউ। আর এই ফুটেজগুলো ক্যামেরায় পুরে ডিরেক্টর বলে দেবেন যে, ‘এই নাও, কেমন সিনেমা বানিয়ে দিলাম, দ্যাখো?’

বড় বড় মদের বোতলের ক্লোজ-আপ, সেখান থেকে লোকে মদ ঢালছে আর খাচ্ছে। কুড়ি বছর আগেও ‘মডার্ন বাঙালি’ বলতে এই ডিরেক্টর স্ক্রিনে দ্যাখাতেন মদ-সিগারেট-গাঁজা। আর এই কুড়ি বছর পরেও ‘আরবান বাঙালি’ মানে লোকটার কাছে তাই! টানা কুড়ি বছর একটা লোকের ভাবনায় কোন ইভল্‌ভ হল না, ভাবতে পারেন সেটা?

এবার ছবির গল্পে আসি আসুন। প্রথম যে ট্র্যাকটা দ্যাখান হল, সেখানে সুন্দরী মালবিকাকে (রাইমা সেন) ভুগতে দেখবেন ‘ইনসমনিয়া’ রোগে। নিয়ম করে ঘুমের ওষুধ খান তিনি। এঁর বরের নামটা কখনও শোনান হয় না ছবিতে, একবার শুধু একটা সংলাপে শুনতে পাই ওঁকে ডাকা হচ্ছে ‘সরকার স্যর’ (অরিন্দম শীল) বলে। এই ভদ্রলোক নাকি খুব ‘খতরনাক’ একজন মানুষ, কিন্তু ইনি যে কী করেন সেটা ছবিতে স্পষ্ট করে বলা হয় নি কোথাও। শুধু এটুকু বলা রয়েছে যে, তিনি নিজের নতুন নতুন সেক্রেটারি রাখেন আর তারপর সুযোগ মত খুন করে দ্যান তাঁদের!

বিষম খাবেন না প্লিজ, একটুও বাড়িয়ে বলছি না আমি। এই হল অঞ্জন দত্তের সিনেমার মজা। যে, গল্পের প্রধান একটা লোকের প্রফেশন যে কী, কিংবা তাঁর নিয়োগ করা সেক্রেটারিদের জব প্রোফাইলটা কী, সে সব নিয়ে কোথাও কিছু না বললেও চলে!

ছবির শুরুতে দেখতে পাবেন এই লোকটার নতুন এক সেক্রেটারি অ্যাপয়েন্ট করার সিন। বিবেক ব্যানার্জি (অর্জুন চক্রবর্তী) নাম। পুরো ছবিতে দেখবেন একবার শুধু এ একটা ফাইল সই করাতে নিয়ে যায় সেই সরকার স্যরের কাছে। বাকি সময়টা এর কাজ হচ্ছে আড়াল থেকে উঁকি মেরে সরকার স্যরের বেডরুমে কী হচ্ছে তা’ দ্যাখা!

মাইনে দিয়ে একে পুষেছে ঠিকই, কিন্তু ‘সরকার স্যর’ তো একে কাজের ভার দ্যায় না দেখি কিছু! একটু ফুরসৎ পেলেই বরং জ্ঞান দিতে থাকে ‘শরীর’ কত ইম্পরট্যান্ট, সেইটে নিয়ে। আর কখনও আবার চোখের তারা নাচিয়ে জানতে চায়, কী, আমার বউকে দেখলে কেমন, বল তো?

একটা সময় তো অবস্থা এমন দাঁড়াল যে দেখে মনে হচ্ছিল, বিবেক আসলে কার সেক্রেটারি, ওই ‘খতরনাক’ সরকার স্যরের নাকি তাঁর বউয়ের? প্রথম যেদিন সেই মহিলার সঙ্গে আলাপ হল বিবেকের, সেদিন প্রথম চোটেই মহিলা ওকে শুনিয়ে দিল, ‘তোমার বস কাল রাঁচি যাচ্ছে, তখন এসো। যদি চাও, কাল রাত্তিরে এসো।’ আর রাতে বিবেক যাওয়া মাত্র জানতে চাইল, ‘আমাকে নিয়ে পালাতে পারবে?’ তারপরেই তৈরি হয়ে গেল কাঁচাস্য কাঁচা একটা কিডন্যাপিংয়ের প্ল্যান!

প্রায় হাঁ হয়ে গেছি তখন। এত ফাস্ট ঘটনা ঘটছে, দাদা? ফার্স্ট আলাপেই এত? আরেকটু ধীরে-সুস্থে করলে হত না এসব? পনের-কুড়ি বছর আগের বাসি টেলিফিল্মে যে প্লটগুলো ছেড়ে দিয়েছিলেন, এত বছর পর সেগুলো নিয়েই জাবর কাটতে শুরু করলে ভাল কি লাগে, বলুন?

এরপর ‘আরথ্রাইটিস’-এর স্টোরি। কাণ্ড দেখুন, এটা আবার কাট-পেস্ট প্রায় ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ (২০১১) থেকে ছাপা! সেই একটা অল্প বয়সী মেয়ে, ঘটনাচক্রে এসে উঠেছে আধ-দামড়া বুড়ো লোকের ঘরে। সেখানে সেই মেয়েটা, মানে রঞ্জনা (পার্নো মিত্র) ছিল গায়িকা। আর এখানে এই মেয়েটা, মানে আহিরি (সৌরসেনী মৈত্র) হল একটা গানের ব্যান্ডের ট্রাম্পেট-বাদিকা। সেখানেও বুড়ো লোকটা অঞ্জন, স্ক্রিন নেম ছিল অবনী। এখানেও বুড়ো লোকটা অঞ্জন, স্ক্রিন নেম হল দীনেশ।

সেখানেও শরীর নিয়ে চাপা একটা টেনশন ছিল সর্বদা যে, রঞ্জনাকে নিজের বাড়িতে একলা পেয়ে অবনী তাকে রেপ করে দেবে কিনা। আর এই ছবিতে তো দেখতে পাবেন আহিরিকে নেশার চোটে বেহুঁশ করিয়ে শরীরের সুখ দিয়েই দিয়েছে দীনেশ। সেটা নিয়ে আহিরি কিছু চার্জ করলে দিব্যি আবার এটা বলছে, যে কেন তুমি ব্যাপারটা এনজয় কর নি তখন নাকি? ‘রঞ্জনা’তে দেখতে পাবেন যে, হঠাৎ হঠাৎ বুকের ব্যামোয় কাত হয়ে পড়ছে অবনী। আর এখানে দেখবেন হঠাৎ হঠাৎ দীনেশের শরীরে উঠছে ‘আরথ্রাইটিস’-এর ব্যথা।

সেবার রঞ্জনাকে নিজেদের গানের ব্যান্ডে গাওয়াবে বলে রঞ্জনার এক তুতো ভাই এসে জোটে। তারপর রঞ্জনার ব্যান্ডে গাওয়ার ইস্যুটা নিয়ে অবনী তার সঙ্গে বাওয়াল দ্যায় হেভি। আট বছরের পুরনো সেই বাওয়াল-পর্ব নতুন করে এই ছবিতেও আছে! আহিরিকে ব্যান্ডে ফেরত নিয়ে যেতে যখন ওর ব্যান্ড-মেম্বাররা আসে, তখন যথারীতি তাদের বাওয়াল দ্যান দীনেশবাবু এসে!

সত্যি বলুন, এই ভাবে নিজের পুরনো সিনেমা বা টেলিফিল্ম থেকে টুকে টুকে ছবি বানাতে আদৌ কোন ভাল লাগা আসে কিনা? নাকি এটা সেই যাকে বলে, সারভাইভালের তাগিদে করা পাপী পেটের সওয়াল?

এরপর ‘এইচ আই ভি পজিটিভ’-এর পালা। এখন ট্রেডমার্ক অঞ্জন মানেই তো পার্ক স্ট্রিট আর দার্জিলিংয়ের স্টোরি, তো এই সিনেমায় পার্ক স্ট্রিটটা না থাকলেও দার্জিলিংটা আছে, এই ট্র্যাকটায় আছে। নর্থ বেঙ্গলে পাহাড়ের কোলে এক হসপিসে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে এড্‌সের রোগী জয় (অনির্বাণ ভট্টাচার্য)। আর অষ্টপ্রহর তাঁকে সেবা করে চলেছেন তাঁর পুরুষ নার্স রজত (সুপ্রভাত)। আচ্ছা দাদা, পাহাড়ের কোলে মৃত্যুমুখী মানুষের স্টোরি এর আগেই ‘ফিফটি ফোর মাইলস’ নামে একটা টেলিছবিতে আপনি বলে ফেলেছিলেন না?

এর সঙ্গে এখানে এটা স্পষ্ট লিখি যে, এই ‘এইচ আই ভি পজিটিভ’ অংশে একটা ব্যাপার আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে খুব।

ব্যাপার হল, ছবির যে চরিত্রটার এড্‌স হয়েছে, অঞ্জন তাঁকে দেখিয়ে দিলেন সমকামী বলে! এখন অন স্ক্রিন এসব দেখিয়ে দিলে ফল কী হয় জানেন? একে তো এই জগৎ সংসার হোমোফোবিয়ায় ঠাসা, তার ওপর এগুলো দেখে পাবলিকের পারসেপশনটা এমন হয় যে, দেখলি তো ভাই? হোমো মানে সেই লোকের হবেই হবে এড্‌স!

কোথাও এক লাইনও ছবিতে কেউ বলল না যে, হোমোসেক্সুয়ালিটির সঙ্গে এড্‌সের রিলেশন নেই কোন। কোন রকম যৌন-সম্পর্ক না করে শুধুমাত্র ইনজেকশনের সিরিঞ্জ থেকেও এড্‌স হয়ে যেতে পারে। ইন ফ্যাক্ট কী ভাবে যে এই জয় ছেলেটার এড্‌সের মত অসুখ হল, ছবি দেখে মনে হল, সেটা বলার কোন দায় পরিচালকের নেই!

আর হ্যাঁ, এর সঙ্গে অদ্ভুত একটা ডায়ালগ এটাও শুনতে পেলাম এরকম যে, বাচ্চা হোমোসেক্সুয়াল এটা মানতে না পেরেই নাকি দার্জিলিংয়ে বোর্ডিং স্কুলে তাকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন বাবা! আরে দাদা, কম বয়সের একটা ছেলে হোমো না হেটেরো, সেটা তার বাবা বুঝবে কী করে, ডায়ালগ লেখার আগে বেসিক সেই লজিকটুকু ভাবার কোন ইচ্ছে এল না মনে?

সিনেমার একদম শেষে গিয়ে তিন অসুখের তিনটে ট্র্যাক একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে যেতে থাকে। এখন যে ভাবে সিনেমার এই অংশটা তৈরি হয়েছে, দেখে পুরো মনে হবে, আগে থেকে ঠিক করে রাখা অ্যাজেন্ডা মত ডিরেক্টর এটার সঙ্গে ওটা শুধু জোড়াতালি দিয়ে কাজ সেরে নিলেন ফাস্ট!

তার ওপর স্ক্রিপ্ট বলুন, ডায়ালগ বলুন, একটু খুঁটিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন, গণ্ডা গণ্ডা ভুল। একদম লাস্ট সিনটা ধরেই বলি। বনের মধ্যে একটা লোক গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে আছে দেখেই, অচেনা লোকের আসল পরিচয় দীনেশ বুঝলেন কী ভাবে?

বা ধরুন, নিজের যে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে টানা ফোনে ঝগড়া করে যায় আহিরি, সেই ঝগড়াটা থেকে বয়ফ্রেন্ডের যে ক্যারেকটার এসট্যাবলিশ্‌ড হতে থাকে, আর এরপর সত্যি যখন ছেলেটাকে অন স্ক্রিন দেখিয়ে দেওয়া হয়, সেই ছেলেটা কি আপনার মনে তৈরি হওয়া ক্যারেকটারটির সঙ্গে ম্যাচ করে যায় আদৌ? মিলিয়ে একবার দেখতে যাবেন, দেখবেন কী রকম সব ডিসজয়েন্টেড লাগে!

আর একটা প্রশ্ন না করে থাকতে পারছি না আমি। বছরখানেক আগে প্রথম যখন এই ছবিটা অ্যানাউন্স হয়, তখন ছবির নামের সঙ্গে একটা ক্যাচলাইনও ছিল! ‘হরমোনস রান ফাস্টার দ্যান ইমোশন্‌স’। এখন সত্যি যখন ছবি তৈরি হয়ে রিলিজ হল, তখন দেখি ওই ক্যাচলাইন পুরো হাওয়া! এবং গল্পের সঙ্গেও ওই লাইনের বাহ্যত কোন কানেকশন নেই! তো এটা কী কেস হল ভায়া? লাইনটা কি নিছক একটা গিমিক ছিল নাকি?

এরকম লজঝড়ে একটা ছবির কিন্তু খানকয়েক প্লাস পয়েন্টও আছে! যেমন একটা হল, মারকাটারি সব অভিনয় আপনি দেখতে পাবেন স্ক্রিনে। মরণাপন্ন এড্‌স রোগীর ভূমিকায় জাস্ট কাঁপিয়ে দিয়েছেন অনির্বাণ। আহিরির ভূমিকায় সৌরসেনীকে নিয়েও কথা হবে না কোন।

পাশে বরং অর্জুন চক্রবর্তীকে কিছুটা ম্লান মনে হতে পারে। মনে হতে পারে, সেই ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’তে (২০১৮) সোনাদার অ্যাসিস্ট্যান্ট আবীরের ক্যারেকটার যে ম্যানারিজম দিয়ে প্লে করেছিলেন, এখানে সেটাই কিছুটা কপি করে ফের বসিয়ে দিলেন যেন!

অভিনয় ছাড়া যেটা আলাদা করে বলতে হবে, সেটা হল ছবির ছবির ডায়ালগে লুকিয়ে রাখা হিউমারের মোমেন্টগুলোর কথা। না, কাতুকুতু দিয়ে কোথাও হাসাতে চায় নি কেউ। কিন্তু এমন এমন সব মোমেন্ট স্ক্রিনে তৈরি হয়েছে যে হাসি আর হাততালিতে আকুল হয়েছে লোক।

ঠিক এখান থেকেই সবচেয়ে মেজর প্রশ্ন আসে। এই যে এত লোকের এত ক্ল্যাপ আর হাসি শুনতে পেলাম হল-এ, তার মানে কি ছবিটা এঁদের ভাল লেগে গেছে খুব?

সরস্বতী পুজোর সিজন, প্রায় ভর্তি হল। হয় জোড়ায় জোড়ায় দেখতে এসেছে, আর না হলে ছ-সাতজনের ‘ফুল মস্তি’ কলেজ-পড়ুয়া গ্রুপ। ‘আমার না এরকম স্লো সিনেমা ভাল লাগে না’ বাসন্তী রঙের শাড়ির মুখে শুনতে পেলাম এটা। হল থেকে বেরতে গিয়ে বছর কুড়ির একটা মেয়ে বলছে দেখি, ‘আমি না শুরুর দিকটা বুঝতে পারি নি কিছু। কী হচ্ছিল, কেন হচ্ছিল সব’। শুনে তার পুরুষ-সঙ্গী হেসে বলল, ‘শুরুর দিকটা বুঝতে পারিস নি? আমি তো পুরো সিনেমাটা দেখেই বুঝতে পারি নি কিছু। এসব বই এরকমই হয় – ছাড়!’

কথাগুলো শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল ছবির নাম আর প্যাকেজিং দেখে প্রেমের সিজনে রং জমাতে হল-এ এসেছিলেন এঁরা। টুকরো দৃশ্যে এঁরাই হেসেছেন, ক্ল্যাপ দিয়েছেন জোরে। কিন্তু পুরো ছবিটা দেখে মনের মত রং পান নি খুঁজে।

লাস্ট উইকে কমলেশ্বরের নতুন রিলিজ এক উইকেই ‘হল’ থেকে পুরো হাওয়া। এবার এটার ভাগ্যে ঠিক কী রয়েছে, ক’দিন পরেই বুঝতে পারা যাবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here