লালগ্রহে অনুভূত ভূমিকম্প‚ তবে এই কম্পন ‘মার্সকোয়েক’

এই প্রথম প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গলের মাটিতে অনুভূত হল ভূমিকম্প । সেইসঙ্গে গ্রহ থেকে ভেসে এল একধরণের অদ্ভুত চাপা শব্দ। শুধু একদিনই নয়। চারদিন ধরে দফায় দফায় কেঁপে উঠেছে লাল গ্রহ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কম্পনের অনুভূতি তাঁদের এতদিন ধরে চলা গবেষণার ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক পথ দেখিয়েছে। এই কম্পন অনুভব করার জন্যই বিজ্ঞানীরা গত অর্ধদশক সময় অপেক্ষা করেছেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা তা নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এরপরে বিজ্ঞানীরা এও দাবি করেছিলেন যে মঙ্গলে জলের অস্তিত্ব রয়েছে। মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, অথবা অদূর ভবিষ্যতে মঙ্গলে প্রাণের সঞ্চার ঘটবে কি না সে নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে, নাসা মঙ্গলে পাঠিয়েছিল ‘ইনসাইট’ মহাকাশযান। এই মহাকাশযানেই লাগানো ছিল SEIS-নামে একটি যন্ত্র। এর র‍্যাডারেই ধরা পড়েছে মঙ্গলের কম্পন। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন মঙ্গলের মধ্যে থেকে ভেসে আসা শব্দ হাওয়ার শব্দ নয়, বরং তা ভূকম্পনেরই শব্দ। বিজ্ঞানীরা এই ভূকম্পনের নাম দিয়েছেন ‘মার্সকোয়েক’।

‘মার্সকোয়েক’-এর শব্দ অনুভব করার জন্য বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন। দীর্ঘদিন পরে সাফল্য আসায় স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। তবে কী কারণে এই কম্পন হল সেই বিষয়ে এখনও গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে তাঁদের অনুমান, হয়তো উল্কাপাতের কারণেই এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। ফ্রান্সের স্পেস এজেন্সি সিএনইএস-ও প্রতিনিয়ত SEIS-কে পর্যবেক্ষণ করেছিল। সিএনইএস-এর তরফ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে, কম্পনের তীব্রতা খুব সামান্য হলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here