ওরা আরও ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে আসছে

114

পূর্ব মুম্বইয়ের সমুদ্রতটে প্রতি বছরই আসে বহু পরিযায়ী পাখি | তারমধ্যেই থাকে ফ্লেমিঙ্গো | গত বছরের অক্টোবর থেকে বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির ( বি এন এইচ এস ) পক্ষ থেকে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে পরিযায়ী ফ্লেমিঙ্গোর সংখ্যা বেড়েছে | অক্টোবরে যেখানে সংখ্যা ছিল ৪৫‚০০০ জানুয়ারিতে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২ লক্ষতে |

মনে করা হচ্ছে ফ্লেমিঙ্গোর সংখ্যা বাড়ার কারণ হল মুম্বইয়ের সদ্যনির্মিত থানে ক্রিক ফ্লেমিঙ্গো স্যাংচুয়ারি | তদন্তকারী দলের মুখপাত্র ও বি এন এইচ এসের সহকারী পরিচালক রাহুল খোট জানিয়েছেন ছোট আকারের ফ্লেমিঙ্গোর তুলনায় বড় আকারের ফ্লেমিঙ্গোর সংখ্যা কমেছে | হতে পারে বড় আকারের ফ্লেমিঙ্গোগুলি অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে | ২০ জনের এই  দলটি ছোট নৌকায় করে সমীক্ষা করতে বেরোতেন | সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের মাটিতে কোনও ভারী ধাতু ও অণুজীবের উপস্থিতির হার পরীক্ষা করে দেখছেন তাঁরা | অন্যান্য প্রজাতির পাখিদের তুলনায় ফ্লেমিঙ্গোরা দূষণ সহনশীল হলেও মাটিতে অতিরিক্ত পরিমাণে ভারী ধাতু পাওয়া গেলে তা তাদের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই জানান রাহুল |

থানে ক্রিক অঞ্চলে ম্যানগ্রোভের বাড়বাড়ন্তও ফ্লেমিঙ্গোর সংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে | ফ্লেমিঙ্গোরা অল্প জলে মাটির মধ্যে থাকা খাবার খুঁজে খেতে পছন্দ করে | সেক্ষেত্রে গাছপালা বাড়লে জলের গভীরতা কমে যাবে | সেওরি জেটি অঞ্চলের নির্মাণকার্যেও ফ্লেমিঙ্গোদের উপর প্রভাব পড়েছে | আগে যেখানে সেওরি জেটির ৫০ থেকে ৬০ মিটারের মধ্যেই ফ্লেমিঙ্গোদের দেখা যেত‚ বর্তমানে নির্মাণকার্যের ফলে সেওরি জেটির বদলে তার উল্টোদিকের সমুদ্রতটেই ফ্লেমিঙ্গোদের দেখা যাচ্ছে |

রাহুল আরও জানান বড় আকারের ফ্লেমিঙ্গোদের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে ১০ টি বড় আকারের ফ্লেমিঙ্গোকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে | এর ফলে তাদের পরিযানের ধরণ সম্পর্কেও বহু তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে | বর্তমানে ওই অঞ্চলে মাছ ধরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে | যার ফলে নৌকায় করে পর্যটকদের ওই অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় | পাখিরাও নিরিবিলি পরিবেশে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে | 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.