ভারতে এই প্রথম হাতির জন্য ‘জুতো আবিষ্কার’

এর আগে ভারতে তৈরি হয়েছে পশুদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল। অত্যাধুনিক মানের প্রযুক্তির হাত ধরে পশুদের জন্য সুচিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করে ওই হাসপাতাল। আর এবার পায়ের সংক্রমণ রোধে হাতির পায়ের মাপে তৈরি হবে জুতো!

হাতির পায়ে হওয়া সংক্রমণ নিয়ে বরাবরই চিন্তিত থাকতেন বনদফতরের কর্মীরা। এত বড় এবং ভারি শরীর নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শই হাতির পায়ে তৈরি হত বিভিন্ন ক্ষত এবং তা থেকে ছড়াত সংক্রমণ। পায়ের এই সংক্রমণ রোধ করার সবথেকে কার্যকরী উপায় হল, জুতো। আর তাই উত্তরাখণ্ডের রামনগর বনদফতরের পক্ষ থেকে হাতির পায়ে জুতো পরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। নিঃসন্দেহে দেশে এই প্রথম এইরকম চিন্তাভাবনা নিয়ে এসেছে রামনগর বনদফতর কর্তৃপক্ষ।

গত বছর থেকেই উত্তরাখন্ড হাইকোর্টের নির্দেশে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কয়েকটি হাতিকে উদ্ধার করে অস্থায়ীভাবে রাজাজি ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত রামনগর বনদফতরের পক্ষ থেকে মোট আটটি হাতি ধরা পড়েছে বলে জানা যায়। উদ্ধারের পর হাতিগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেন উত্তরাখন্ড হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানা যায় যে, হাতিগুলিকে নিয়মিত চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হত। তাদের মধ্যে কয়েকটি হাতি আবার অন্ধও। জানা যায়, অসুস্থ অবস্থাতেও তাদের বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করত করবেট টাইগার রিজার্ভ এলাকার কিছু রিসর্ট মালিকরা। আইনজীবী সি কে শর্মা এবং ধর্মেন্দ্র বার্থওয়াল-এর কথায়, এই ঘটনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন (১৯৭৫)-এর ৪০ এবং ৪২ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া হাতিগুলির মধ্যে একটি হাতির পায়ে এমন সংক্রমণ হয়ে গিয়েছিল যে, হাতির পায়ে জুতো পরানোর সিদ্ধান্ত নিল রামনগর বনদফতর। পূর্ণবয়স্ক ভারতীয় হাতির গড় ওজন ৫৪০০ কেজি। এই ভারি শরীর বহন করার জন্য হাতির পায়ের গঠনও অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় আলাদা। কিন্তু তাও অনেক সময় সংক্রমণ দেখা দেয়। বনকর্মীদের কথায়, হাতির পায়ে যদি কোনও ক্ষত সৃষ্টি হয়, তাহলে জল এবং ধুলোর হাত থেকে তাকে বাঁচাতে পারে জুতো। তবে এই জুতো আদৌ কতখানি কার্যকরী হবে তা সময় বলবে বলে জানান বনকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

pakhi

ওরে বিহঙ্গ

বাঙালির কাছে পাখি মানে টুনটুনি, শ্রীকাক্কেশ্বর কুচ্‌কুচে, বড়িয়া ‘পখ্শি’ জটায়ু। এরা বাঙালির আইকন। নিছক পাখি নয়। অবশ্য় আরও কেউ কেউ