ম্যারিটাল রেপ ভিকটিম থেকে বলিউডের টপ স্টান্ট উওম্যান‚ গীতা ট্যান্ডনের অবিশ্বাস্য গল্প

বলিউডের বহু ছবিতে হিরোদের পাশাপাশি হিরোইনদেরও  ভয়ানক সব স্ট্যান্ট করতে দেখা যায় | তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইসব বিপদজ্জনক স্টান্টে আসল নায়িকাদের বদলে বডি ডবল ব্যবহার করতে দেখা যায় | আর সেইসব মারাত্মক স্টান্টে করে থাকেন বি-টাউনের টপ স্টান্ট উওম্যানউওম্যান গীতা ট্যান্ডন | তবে গীতা কে এই জায়গায় পৌঁছাতে শুধুমাত্র কঠিন পরিশ্রমই নয় অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে |

গীতার জন্ম গরিব পরিবারে | মাত্র পনেরো বছর বয়েসে গীতার বাবা ওঁর বিয়ে ঠিক করেন | পাত্র গীতার থেকে বয়েসে দশ বছরের বড় ছিল | গীতার বিয়েতে আপত্তি ছিল না কারণ উনি ভেবে ছিলেন বিয়ের পর অন্তত দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবেন | 

শ্বশুরবাড়িতে খাওয়া পরার অভাব না থাকলেও গীতার স্বামী নিয়মিত ওঁর ওপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যচার করতো | বিয়ের রাতে স্ত্রীকে ধর্ষণ ও করে সে | শ্বশুরবাড়ির কেউ কোনদিনই গীতার পাশে দাঁড়ায়নি | উনিশ বছর বয়েসে এক ছেলে ও এর এক বছর পর এক মেয়ের জন্ম দেন গীতা |

বাচ্চাদের যখন এক ও দুই বছর বয়েস সেই সময় একদিন গীতার স্বামী ওঁর ওপর অকথ্য অত্যচার করে | আর সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে গীতা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান | গীতার কথায় আমি মাত্র দশম শ্রেণী অবধি পড়াশোনা করেছি | তার আগে কোনদিন অর্থ রোজগার করিনি | কী করে দুই সন্তান কে খাওয়াবো তাও জানতাম না | কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি | এরপর বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন উনি | এর মাঝেই একদিন ওঁর আলাপ হয় একটা ড্যান্স ট্রুপের সঙ্গে | বিভিন্ন বিয়ে বাড়িতে ভাংড়া নাচ করতো তারা | গীতাও সেই গ্রুপের একজন সদস্য হয়ে ওঠেন |

২০০৮ সালে গীতার একজন মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় | সে জানতে চায় গীতা স্টান্ট করতে ইচ্ছুক কীনা | গীতা পরে একটা সাক্ষাৎকারে বলেনআমি কোন কাজকেই কোনদিন মানা করিনি | শুধুমাত্র নিজের দেহ অন্য কাউকে কোনদিন বিক্রি করতে রাজি হইনি | আমি রাজি হয়ে গেলাম |

গীতার প্রথম স্টান্টে ওঁকে গায়ে আগুন লাগাতে হয় | এতে শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় | কিন্তু  গীতা হার মানেন না, পুরুষদের পাশাপাশি উনি মারাত্মক সব স্ট্যান্ট ও অ্যাকশন দৃশ্য করে সবাইকে চমকে দিতেন  | গাড়ি চালানো শিখলেন এবং প্রশিক্ষণ ও নিলেন | অনেকবার গুরুতর আহত ও হয়েছেন |

গীতা এখন মাসে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা রোজগার করেন | মুম্বাইয়ের মালাড অঞ্চলে নিজের একটা ফ্ল্যাট ও কিনেছেন | করিনা কপূর হোক বা দীপিকা পাদুকোন বা আলিয়া ভট্ট এঁদের সবার বডি ডবল হিসেবে কাজ করেছেন গীতা | গীতার দুই ছেলে মেয়ে ওঁর সঙ্গেই থাকেন | ভবিষ্যতে মহিলাদের জন্য সেল্ফ ডিফেন্স শেখানোর একটা স্কুল করার পরিকল্পনা আছে ওঁর | 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.