হতদরিদ্র অবস্থায় জীবন থেকে বিদায় নিতে হয় যে প্রতিভাদের

হতদরিদ্র অবস্থায় জীবন থেকে বিদায় নিতে হয় যে প্রতিভাদের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সীমাহীন প্রতিভার মালিক হয়েও অনেককে চলে যেতে হয়েছে হতদরিদ্র অবস্থায় | কেউ কেউ স্বীকৃতি পেয়েছেন‚ আর্থিক সুখ পাননি | কেউ কেউ দুটোর কোনওটারই মুখ দেখেননি | এরকম দশ জনের মধ্যে প্রথম পাঁচ জনের কথা ছিল প্রথম পর্বে | বাকি পাঁচ জনকে নিয়ে শেষ পর্ব |

(প্রথম পর্বের পরে)

হার্মান মেলভিল:

মৃত্যুর ৩০ বছর পরে লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পান মবি ডিক-এর স্রষ্টা | যখন কলম ধরতেন‚ কেউ জানত না তিনি লেখক | ১৯ বছর ধরে কাস্টমস ইন্সপেক্টর-এর চাকরি করে সংসার চালিয়েছেন তিনি | ১৮৯১ সালে যখন তিনি প্রয়াত হন‚ মার্কিন সাহিত্য জগতে তিনি কার্যত পরিচয়হীন |

জোসেফ গ্যান্ডি :

এখন তাঁকে অন্যতম সেরা ‘আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং’-এর শিল্পী বলে মানা হয় | অথচ‚ উনিশ শতকের শুরুতে তিনি যখন ব্রিটেনে একের পর এক সেরা ড্রয়িং করছেন‚ কেউ চিনত না তাঁকে | অর্থকষ্টে থাকা এই প্রতিভার শেষ কটা দিন কাটে গরাদহীন পাগলা গারদে | সেখানেই রেখে এসেছিল তাঁর পরিজনরা | এমনকী‚ কোথায় তাঁর সমাধি‚ তাও কেউ জানে না |

স্টিফেন ফস্টার :

তাঁকে বলা হয় আমেরিকান সঙ্গীতের জনক | সঙ্গীতের হল অফ ফেম-এ অনায়াসে স্থান করে নেওয়া এই গীতিকার জীবনকালে যা পারিশ্রমিক পেতেন তাতে সংসারে অনটনের বদলে স্বচ্ছলতা আসেনি | ১৮৬৪-তে নিউ ইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে মারা যান তিনি | শেষ সময়ে পকেটে ছিল ৩৮ ডলার আর একটা টুকরো কাগজ | লেখা ছিল‚ ‘Dear friends and gentle hearts’…

যোয়ান গুঠেনবার্গ :

তাঁর ছাপাখানা আবিষ্কারকে অনেকেই বলেন বিশ্বের ইতিহাসে সেরা আবিষ্কার | মানবসভ্যতাকে তিনি যে এক ধাক্কায় বহু যোজন এগিয়ে দিয়েছিলেন‚ তাতে কোনও সন্দেহ নেই | কিন্তু শেষ দিকে দেনার দায়ে হাতছাড়া হয়ে যায় সাধের ছাপাখানা | এমনকী‚ মুদ্রিত বাইবেলের অর্ধেকের উপরেও তাঁর মালিকানা চলে যায় | হতদরিদ্র অবস্থায় ১৪৬৮ সালে মৃত্যু হয় মুদ্রণের জনক গুঠেনবার্গের | যে গির্জায় সমাহিত হন‚ সেটি ধ্বংস হয়ে যায় | কোথায় তাঁর সমাধি‚ হারিয়ে গেছে ইতিহাসের অন্ধকারে |

অ্যান্তোনিও মেউস্যি :

টেলিফোনের আবিষ্কারক কে‚ জানতে চাইলে সবাই বলবে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল | কিন্তু প্রায় কেউই জানেন না অ্যান্তোনিও মেউস্যির কথা | এই ইতালিয়ান বিজ্ঞানী টেলিট্রোফোনো আবিষ্কার করেছিলেন | বলা হয়‚ তিনি তাঁর পেপারস পাঠিয়েছিলেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের অফিসে | উদ্দেশ্য ছিল‚ আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য | কিন্তু অভিযোগ‚ গ্রাহাম বেল তাঁর আবিষ্কার চুরি করে নিজের বলে প্রচার করেন | গ্রাহাম বেল একদিকে চলে আসেন লাইমলাইটের কেন্দ্রে | আর মেউস্যি‚ আইনি লড়াইয়ে হেরে‚ কপর্দকহীন হয়ে জীবন থেকে বিদায় নেন ১৮৮৯-এ |

(সমাপ্ত)

(প্রথম পর্বের লিঙ্ক:http://www.banglalive.com/News/Detail/9793)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।