‘ ডাইন + অসুর = ডাইনোসর‚ আবিষ্কর্তা স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা !’ দাবি ভূতত্ত্ববিদের গবেষণাপত্রে

255

পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আশু খোসলা ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস ‘বায়োটিক এসেম্বলাগেজ ফ্রম দ্য ডেকান ট্রাপ-অ্যাসোসিয়েটেড সেডিমেন্টারি সিকোয়েন্সেস অব পেনিনসুলার ইন্ডিয়া’ নামক এক গবেষণাপত্র পেশ করেছেন। সেই অধ্যাপক সম্প্রতি তাঁর এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, ঈশ্বর ব্রহ্মাই সর্বপ্রথম ডাইনোসর আবিষ্কার করেছিলেন।

ভূতত্ত্ববিদের এই মন্তব্যকে ঘিরে উঠেছে অনেক প্রশ্ন, বিজ্ঞান কংগ্রেসের মতো এক আদ্যন্ত সিরিয়াস প্ল্যাটফর্মে এই সব ‘গবেষণাপত্র’ কী করে স্থান পায়, তাই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আবার অনেকেই আশু খোসলা-র থিওরি প্রসঙ্গে ছুঁড়ে দিয়েছেন নানান প্রশ্ন। ‘বেদ’-এ ডাইনোসরের উল্লেখ কোথায় রয়েছে? ব্রহ্মাই যে ‘বেদ’-এর রচয়িতা, তার প্রমাণটাই বা কোথায়? এই সব প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছে পাঠকদের মনে। আশু খোসলা এ সকল প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ভগবান ব্রহ্মাই ডাইনোসর আবিষ্কার করেছিলেন। ‘বেদ’ যেহেতু কাগজে লেখা হয়নি, লেখা হয়েছিল ভূর্জপত্রে, সেহেতু কোনও হাতেনাতে প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আশু খোসলা এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে ডাইনোসরদের উৎপত্তি ও অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তিনি ও তাঁর গবেষক দল গুজরাতের খেড়া জেলায় এমন এক ডাইনোসরের ফসিল পেয়েছেন, যা মার্কিন গবেষকদের অজানা। তাঁরা এই ডাইনোসরের নামকরণ করেছেন ‘রাজাসরাস নর্মদা এনসিস’। রাজাসরাস টির‌্যানোসরাসের প্রজাতির। ২০০১ সালে নর্মদা নদীর তীরে এই মাংসাশী ডাইনোর ফসিল খুঁজে পান তাঁরা। এমন কি তিনি এটাও বলেন ডাইনোসরদের উল্লেখও রয়েছে ‘বেদ’-এ। ‘ডায়ান’ (ডাইনি) ও ‘অসুর’ (রাক্ষস)— এই দুইয়ে মিলেই তৈরি হয়েছে এই ডাইনোসর শব্দটি। বেদ ব্রহ্মার মুখনিঃসৃত। সুতরাং প্রজাপিতা ব্রহ্মাই সর্বপ্রথম জানতেন ডাইনোসরদের কথা। আর ভারতবর্ষ ছিল ডাইনোসরদের স্বর্গরাজ্য। অধ্যাপকের দাবি মার্কিনী ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ‘বেদ’ থেকেই ডাইনোসরের ধারণা লাভ করেছেন। কারণ সে যুগে ‘রাজাসরাস’ নামে ডাইনোসরই ছিল ভারতেরই বাসিন্দা।

‘বেদ’ রচিত হওয়ার ৬.৫ কোটি বছর আগে পৃথিবী থেকে ডাইনোসরদের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যায়। ঈশ্বর ব্রহ্মা তাঁর দৈব ক্ষমতার দ্বারা এই ডাইনোসর সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করেন। তিনি আরও বলেন, বেদের অস্তিত্বের প্রমাণ বেদ নিজেই। ঠিক যে ভাবে রামায়ণের পুষ্পক রথ থেকে এরোপ্লেনের ধারণা পাওয়ার কথা জানা গিয়েছে। আসলে বেদ কাগজে লেখা ছিল না, ফলে একে বিজ্ঞান দিয়ে যাচাই করা সম্ভব নয়।বলছে আশুর গবেষণাপত্র |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.