হাসপাতালেও হাসিমুখ‚ IV ব্যাগের আতঙ্ক কাটাতে ছোটদের জন্য ‘মেডি টেডি’ বানিয়ে ফেলল ১২ বছরের এলা

157
Medi Teddy IV Bag

সব মা বাবা-ই চান তাঁদের সন্তান সুস্থ শরীরে ভালো থাকুক। কেউ কি আর চায় তার সন্তান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হোক? তবু তো কোনও কোনও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে মাঝে সাঝে। তাঁদের হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হয় চিকিৎসার জন্য। যে প্লাস্টিকের ব্যাগে করে ওষুধ বা রক্ত দেওয়া হয়, সেগুলো দেখতে বাচ্চাদের মোটেও ভালোলাগে না। অনেক বাচ্চা ভয়ও পেয়ে যায়। আমেরিকার এক ছোট্ট মেয়ে একটি মজার সমাধান করেছে এই ওষুধের ব্যাগের আতঙ্ককে জয় করতে। ওষুধের আইভি ব্যাগের সঙ্গে একটি টেডি বেয়ার যুক্ত করে দিয়েছে সে। একটা ফাঁপা খেলনা ভালুক ওষুধের আইভি ব্যাগের সামনের দিকটা লুকিয়ে রাখে। এর নাম ‘মেডি টেডি’। ওষুধ বা রক্ত ভরা বিচ্ছিরি হসপিটাল ব্যাগগুলোর বদলে বাচ্চারা দেখতে পায় টেডির হাসি মুখ।

বছর বারোর এলা ক্যাসানো তৈরি করেছে এই টেডি। সাত বছর বয়স থেকেই সে নিজে এক জটিল রোগে আক্রান্ত। রক্তের প্লেটলেট মাঝেমাঝেই কমে যায় তার, আর এ’ জন্যই রক্তক্ষরণ, চোটের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। প্রতি আট সপ্তাহ অন্তর অন্তর প্লেটলেট নিতে হাসপাতালে যেতে হয় তাকে। প্লেটলেট তিন ধরণের রক্তকোষের মধ্যে একটি। শরীরের কোনও জায়গা কেটে গেলে এই প্লেটলেট-ই ওই ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তপাত বন্ধ করে। যদি প্লেটলেটের পরিমাণ শরীরে কম হয়, তাহলে রক্ত বন্ধ হতেই চায় না। ‘কোনও চিকিৎসা না করালে আমার শরীরে প্লেটলেট সাংঘাতিক পরিমাণে কমে যায়। তাই খুব সাবধানে থাকতে হয় পাছে চোট লেগে রক্ত পড়া বন্ধ না হয়। কিছু কিছু কাজ বা খেলায় আমি অংশ নিতে পারি না এ’ কারণেই। যখন প্লেটলেট খুব নেমে যায় তখন গাছে চড়তে পারি না, সসার, স্লেজিং এসব বাইরের খেলাও বারণ। বাইক চালাতে পারি না, শরীরচর্চার ক্লাসও করতে পারি না’—এলা জানায়।

‘প্রথম যখন ব্লাড ইনফিউশন নিতে হয়েছিল তখন আইভি ব্যাগ আর বাকি সব সরঞ্জাম দেখে খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। অন্য বাচ্চাদেরও ভয় পেতে দেখেছিলাম। তাই আমি ভেবে দেখলাম হাসপাতালেও কীভাবে বাচ্চাদের জন্য মজার পরিবেশ তৈরি করা যায়। বিশেষ করে যাদের আইভি ব্যাগ লাগছে, তাদের মন থেকে কীভাবে ওই ব্যাগের ভয় সরানো যায়। তাই আমি বুদ্ধি খাটিয়ে বানালাম এই ‘মেডি টেডি’। এলার ‘মেডি টেডি’ অনেক বাচ্চাকেই হাসপাতালের গম্ভীর, কষ্টকর পরিবেশে আনন্দ দিচ্ছে, ওষুধ বা রক্তের আইভি ব্যাগটিও তাদের চোখের সামনে থাকছে না। বদলে টেডি বেয়ারের প্রিয় মজাদার মুখ দেখে খেলাচ্ছলে চিকিৎসা নিতে পারছে তারা। অসুস্থতার মধ্যে সন্তানের মানসিক কষ্ট খানিক কম হতে দেখে মা বাবারাও একটু স্বস্তি পাচ্ছেন। এলার এই রকম সৃজনশীলতায় মুগ্ধ আর অবাক হাসপাতাল কর্মীরা। এই ভাবনাটা তাদের খুব পছন্দ হয়েছে। এলাকে আর তার মা’কে আরও টেডি বানাতে উৎসাহ দিচ্ছেন তারা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য শিশুদের জন্য এলার ‘মেডি টেডি’ হয়ে উঠেছে অপরিহার্য।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.