স্বল্পবাসে চটুল নাচ থেকে নিয়মিত ধর্ষণ ! হোমের আবাসিকদের কদর্য রোজনামচা

1361

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের একটি অডিট রিপোর্টে ১০ বছর ধরে চলা বিহারের এই সরকারি হোমে নাবালিকাদের ওপর যৌন অত্যাচারের কাহিনি সামনে এসেছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হোমের আবাসিক ৪২টি মেয়ের মধ্যে ৩৪ জনের ওপরেই চালানো হয়েছে যৌন অত্যাচার।

সম্প্রতি বিহারের মুজঃফ্‌ফরনগরের হোমের ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সিবিআই-এর তদন্তে। তদন্তে জানা গিয়েছে, কিশোরীদের খোলামেলা পোশাক পরিয়ে তাঁদের চটুল গানের সঙ্গে নাচ করতে বাধ্য করা হত। শুধু তাই নয়, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নিয়মিত চলত ধর্ষণ। হোমের প্রধান কর্তা প্রভাবশালী রাজনীতিক ব্রজেশ ঠাকুরের নাম উঠে এসেছে, পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের নাম। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ৭৩ পাতার একটি চার্জশিট গঠন করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই আবাসিকের কিশোরীদের খোলামেলা পোশাক পরিয়ে চটুল ভোজপুরী গানে নাচ করতে এবং সেইসঙ্গে নেশা করতে বাধ্য করানো হত। পরে ব্রজেশ ঠাকুরের অতিথিরা ওই নাবালিকাদের ধর্ষণ করত। বাধা দিতে গেলে জুটত মারধর ও অত্যাচার, বলে জানায় সিবিআই। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদীদের কপালে জুটত শুকনো রুটি আর নুন, আর যাঁরা রাজি হত তাঁদের জন্য বরাদ্দ থাকত সুস্বাদু সব খাবার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্রজেশ ঠাকুর ছাড়াও হোমের কর্মী-সহ মোত ২০ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। সিবিআই-এর দাবি প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছিল ওই হোম। আর এই দীর্ঘ সময় ধরেই এমন যৌন নির্যাতন চলে আসছে বলেও আশঙ্কা সিবিআই-এর। তদন্তে নেমে ব্রজেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।হোমের আবাসিক কিশোরীদের অন্যত্র সরিয়ে হোমটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ।  শীর্ষ আদালতের দেওয়া নির্দেশে বলা হয় যে, ব্রজেশ ঠাকুরকে যেন বিহারের বাইরের কোনও জেলে রাখা হয়। ব্রজেশ যথেষ্ট প্রভাবশালী। বিহারের মধ্যে থাকলে, পুলিশি তদন্তে প্রভাব খাটাতে পারে সে।

এই হোম কেলেঙ্কারি ধরা পড়ার পর নীতিশ কুমারের দলের বিরুদ্ধে সরব হয় আরজেডি। তাঁদের অভিযোগ দলের মদতেই দিনের পর দিন এমন কুকর্ম করতে সাহস পেয়েছে ব্রজেশ। অন্য দিকে বিহারের সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী মঞ্জু বর্মার স্বামী চন্দ্রশেখের বর্মার কল রেকর্ডস ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, অভিযুক্ত ব্রজেশের সঙ্গে বহুবার ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। আর এরপরই মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মঞ্জু বর্মা। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, এই ঘটনার জেরে বিহারের রাজনীতির জগতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.