আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার (৩৫০০) বছর আগে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ নাগাদ (বর্তমান কলোম্বিয়ার রেস্ত্রেপো ও দারিয়েন শহর সংলগ্ন অঞ্চলে) কালিমা নদীর তীরে একটি কৃষিপ্রধান গ্রামীন সভ্যতা গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিকরা যার নাম দেন কালিমা সভ্যতা। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে সভ্যতা যত এগোয়, ততই বদলায় এখানকার জীবনযাত্রা । কৃষিকাজের পাশাপাশি, বিনিময় প্রথার হাত ধরে বাড়তে থাকে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য। রাজা বা রাজপাটের তেমন কোনও প্রমাণ এখানে না মেলায় ইতিহাসবিদদের অনুমান, এখানে মূলত সামন্তপ্রথা বা দলপতি নির্ভর ছোট ছোট গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে এগিয়েছিল এখানকার সভ্যতার ধারা।

এর অনেক পরে এখানে কালিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষ করা যায়। এই সভ্যতা নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা হলেও, ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল রসদ মিলত কৃষি থেকেই। তবে কৃষিকাজ ছাড়াও এখানকার অধিবাসীরা তাঁত বোনা, শিকার, মৎস্যচাষ ও ধাতুর নানা সামগ্রি তৈরি ও বিক্রয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে এ ছাড়াও স্বর্ণ শিল্প এবং মৃৎশিল্প এ সভ্যতায় অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে মত ইতিহাসবিদদের।

Banglalive-6

Banglalive-8

কালিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে সোনা ও অন্যান্য ধাতুর মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। তবে এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরাসরি বিনিময় ব্যবস্থাও চালু ছিল। এই সভ্যতায় স্থাপত্য ও নির্মাণ কাজে টেরাকোটার ব্যবহার করা হতো। এখান থেকে ১৯৯২ সালে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু সামগ্রী বা ভগ্নাবশেষে যার প্রমাণ মিলেছে।

Banglalive-9

কালিমা থেকেই কলম্বিয়া নাম। সেখানেই একটি আখের খেত থেকে উদ্ভার হয়েছে প্রায় চার টনের আস্ত সোনার মুখোশ। এই ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। কলম্বিয়ার ককা উপত্যকায় ঘটে এই ঘটনা। এই ঘটনার জেরে প্রায় ৫০০ বর্গমিটার বিস্তৃত চাষের জমি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের স্বীকৃতি পায়।

সেখানে একটি আখের খেতে ট্রাক্টর চালাচ্ছিলেন এক কৃষিজীবী। সেখানে চাষ করতে গিয়েই প্রায় চার টনের আস্ত সোনার মুখোশ উদ্ধার হয় মাটির নীচ থেকে। প্রথম দিকটায় এই সোনার মুখোশ প্রথম লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই কৃষক। কিন্তু কোনওভাবে এই খবর প্রকাশ্যে চলে আসে।

আরও পড়ুন:  চাইলে গাছেদেরও ঠিকানাবদল করা যায়‚ দেখিয়ে দিলেন বিজ্ঞানী

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে সোনার মুখোশকে কেন্দ্র করে একের পর এক খুন, সোনা খুঁজে পাওয়ার লোভে লুঠ হতেই থাকে, ধ্বংস করে কয়েকশো সমাধি। আরও বেশি সোনা খুঁজে পাওয়ার লোভে লুঠ হতেই থাকে। এই ঘটনার জেরে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এলাকায়। এরপরেই এই এলাকায় গবেষণা শুরু করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের গবেষণার পর তাঁরা জানান, এখান থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে জানা গিয়েছে এটি ‘কালিমা’ সংস্কৃতির চিহ্ন। ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দ প্রায় ৬০০ বছর পর্যন্ত স্থায়িত্ব ছিল এই সভ্যতা। খননকার্যের সময় এই সভ্যতার আরও নানান সামগ্রী তাঁরা পেয়েছিলেন। মালাগানা সংস্কৃতির বেশ কিছু অজানা তথ্যও তাঁরা জানতে পারেন।

গবেষকরা আরও জানান, ওই স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৫০টি মুখোশ ও গয়না এবং পাওয়া গিয়েছিল সেই সময়কার আড়াই কোটি টাকা মূল্যের মু্দ্রাও। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম ছিল একটা সোনার চিমটে, যা ভ্রূ ঠিক করতে ব্যবহার করতেন তৎকালীন অভিজাত ব্যক্তিরা। তবে এই সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে অকর্ষণীয় ছিল সোনার মুখোশটি। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই সময়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ব্যবহার করতেন এই ধরনের বড় মুখোশ।

বর্তমানে এই স্থানে কড়া পাহারা থাকলেও লুঠের চেষ্টা হয়েছে বার বার। সম্প্রতি এই সোনার মুখোশ-সহ অন্যান্য সামগ্রীগুলি নিয়ে একটি প্রদর্শনীও করার কথা ভাবছে স্থানীয় সরকার।

NO COMMENTS