দলিত হয়ে ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে গিয়ে একঘরে পরিবার

বিয়ে করতে গিয়েছিলেন চব্বিশ বছরের মেহুল পারমার। ঘোড়ায় চড়ে। পর দিনই গ্রামের মুখিয়া (সরপঞ্চ) সহ অন্য মাতব্বরদের হুমকির মুখে পড়তে হল তাঁকে। হাজার হোক, দলিত বলে কথা। সে যাবে ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে? উঁচু জাতের প্রতিনিধিরা দিলেন হুকুম, বড় বাড় বেড়েছে এই দলিতদের। এবার থেকে এরা পুরো একঘরে। কেউ এদের কাজ দেবে না। খেতে দেবে না। গাড়িতে উঠতে পর্যন্ত দেবে না। যে সাহায্য করবে তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। শুনতে যতই অকল্পনীয় মনে হোক, এমনই ঘটনা ঘটেছে গুজরাতের মেহসানা জেলার লোর গ্রামে। এই ২০১৯-এও নিম্নবর্গীয় মানুষদের কতটা অন্যায় অত্যাচার সইতে হয়, এই একটা ঘটনাই যেন সেটা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়।

গত ৭ মে মেহুলের বিয়ের দিন ছিল। নতুন বরকে একটা ঘোড়ায় চড়িয়ে শোভাযাত্রায় বেরিয়েছিলেন‌ তাঁর আত্মীয়রা। পরের দিনই গ্রামের মন্দিরে এসে মুখিয়া বিনু ঠাকোর ও সহ-মুখিয়া বরদেব ঠাকোর গ্রামের সকলকে জমায়েত হতে বলেন। বলাই বাহু‌ল্য, সেখানে ডাক পাননি ‘হরিজন’(দলিত)-রা। পঞ্চায়েতের সেই জমায়েতে মুখিয়া গর্জে উঠে জানান, দলিতরা তাদের সীমা লঙ্ঘন করে ফেলেছে। এতে গ্রামের এই সব দণ্ডমুণ্ডের কর্তাব্যক্তিরা যারপরনাই বিরক্ত। সকলেই একমত এবার দলিতদের একেবারে একঘরে করে ফেলতে হবে।

সেই সভার কথা লুকিয়ে জেনে ফেলেন তিন জন দলিত ব্যক্তি। দেখা যায়, পরদিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে সামাজিক ভাবে দলিতদের বয়কট করার প্রক্রিয়া। এক দলিত রমণী ময়দার দোকানে গিয়ে জানতে পারলেন তাঁকে ময়দা দেওয়া যাবে না। অন্য একজন মুদির দোকানে গিয়ে একই ব্যবহার পেলেন।

মেহুলের বাবা মনুভাই পার্মার থানায় গিয়ে এফআইআর করেছেন মুখিয়া সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। আজকের দিনেও এমন ঘটনার কথা জেনে নড়েচড়ে বসেছেন সমাজকর্মীরা। জেলার পুলিশ সুপারিটেন্ডেন্ট নীলেশ জাজাদিয়া জানিয়েছেন, শিগগিরি ওই পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়র্থ ব্রাদার্স সংস্থার লেটারহেড

মায়ার খেলা

চার দিকে মায়াবি নীল আলো। পেছনে বাজনা বাজছে। তাঁবুর নীচে এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়াচ্ছে সাদা ঝিকমিকে ব্যালে