‘গল্লি বয়’ দেখে কে বলবে যে রণবীর-আলিয়া সত্যিকারের প্রেমিক-প্রেমিকা নয়!

শুনতে একটু অদ্ভুত ঠেকবে হয়তো। ‘গল্লি বয়’ ছবির কয়েকটা সিন দেখতে দেখতে মনে পড়ছিল পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা। অভিনেতাদের নিয়ে খুব ইন্টারেস্টিং একটা অবজারভেশন ছিল ওঁর। দাঁড়ি-কমা ইনট্যাক্ট রেখে বলতে পারব না আমি। তবে তার নির্যাস ছিল এইটে যে, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে ব্যাক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার একটা অসুবিধে আছে বড়। সেটা হল এই যে, ওঁরা পার্সোনাল লাইফে যে ইমোশন ‘শো’ করেন, সেগুলো সত্যি নাকি মিথ্যে সেটা টের পাওয়া যায় না আদৌ। ক্যামেরার সামনে মিথ্যে মিথ্যে ইমোট করায় তাঁরা দক্ষ থাকেন এত, যে রিয়্যাল লাইফে তাঁদের ইমোশনাল হতে দেখলে আপনার মনে হতেই পারে এটাও হয়তো সেরকম কোন ফেক ইমোশন বলে!

ঠিক এমন ভাবে এই ব্যাপারটা কখনও মনে হয়নি আগে। অথচ শোনার পর মনে হয়েছিল, আরে ভুল বলেননি তো কিছু! কবে শুনেছি, সেই থেকে এই কথাগুলো ভুলতে পারিনি আর।

‘গল্লি বয়’ দেখতে গিয়ে ঋতুপর্ণের এই কথাগুলোই মনে পড়ছিল খুব। কেন পড়ছিল, সেটা জানতে ছবিতে রণবীর সিং আর আলিয়া ভাটের প্রেমের যে সিনগুলো আছে, সেখানে যাই চলুন।

তার আগে দু’কথায় ছবির ধরতাইটা বলি। মুম্বইয়ের নোংরা এবং ঘিঞ্জি বস্তি ‘ধারাভি’র গল্প বলছে ছবি। সমাজের সো-কল্‌ড ওই নিচের তলার লুক আর ফিলে যে সব ক্লেদ-টেদ মিশে থাকে, ছবির ফ্রেমে সে সবও বেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখন সেই বস্তির ছেলে মুরাদের (রণবীর) সঙ্গে তুলনায় উঁচুতলার মেয়ে সফিনা’র (আলিয়া) গাঢ় প্রেম।

আর এই প্রেমের সিনগুলোতেই মজা! হচ্ছেটা কী জানেন, যতই ময়লা ময়লা গরিব পাড়ার গল্প চলতে থাকুক, যে সিনগুলোয় মুখোমুখি চলে আসছে ওই ছেলে-মেয়ে দুটো, মনে হচ্ছে ঠিক যেন আবেশের তারাবাজি এসে ঝিকিয়ে উঠছে ফ্রেমে!

তা সে দুজনে বাসে পাশাপাশি বসে ইয়ার ফোন ভাগ করে গান শোনার সিনই হোক, কি ছোট্ট একটা ব্রিজের মধ্যে একটা পলক দ্যাখা করার সিন। নিরুচ্চারের মান-অভিমানের সিনই হোক, কি লিপ-টু-লিপ পরম আবেশে চুমু খাওয়ার সিন।

জানি না এটা আমার বায়াসনেস কিনা। কিন্তু সত্যি এরকম মনে হচ্ছিল যে, দুজনের মধ্যে অদ্ভুত কোন কেমিস্ট্রি আছে যেন। বাকি পুরো সিনেমা থেকে বিশেষ ওই সিনগুলোর যেন হাজার মাইল ফারাক! ওই সিনগুলো দ্যাখার সময় কে বলবে যে, এই রণবীর সিং আর আলিয়া ভাট রিয়্যাল লাইফ প্রেমিক-প্রেমিকা নয়!

আর এখানেই মোক্ষম সেই খটকা! মিডিয়া রিপোর্টে তো পড়েছি যে, এই রণবীর মানে রণবীর সিংয়ের বিয়ে হয়ে গ্যাছে দীপিকা পাদুকোনের সঙ্গে! আর অন্য আরেক রণবীর, মানে রণবীর কাপুরের গার্লফ্রেন্ড হল আলিয়া। তাহলে চোখের সামনে এসব সিনে এমন ম্যাজিক আসছে কী করে, ভাই?

দু’জনের মধ্যে রিয়্যাল লাইফে প্রেম-ট্রেম কিছু নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও স্ক্রিনে এমন ম্যাজিক তৈরি হল? মিথ্যে কথা, ঝুটা ইমোশন সত্যি বলে দেখিয়ে দিতে এত পাকা লোক এঁরা?

বুঝতে পারছেন তো এবারে, কোথায় ঠিক কী কারণে ঋতুপর্ণের বলা কথাগুলো মনে পড়ছিল আমার। ঠিক কথাই তো বলে গেছিলেন তিনি! যাঁদের করা মিথ্যে মিথ্যে ভানগুলোকেও এরকম নির্ভেজাল সত্যির মতো লাগে, তাঁরা যখন সত্যি সত্যি নিজের আবেগ শো করবেন, সেগুলো তখন রিয়্যাল বলে মানবে কী করে লোকে!

এতক্ষণ যা লিখলাম, সেটা পড়ে বুঝতে নিশ্চয় পারছেন যে কী অবিশ্বাস্য ভাল অভিনয় করেছেন ছবির এই দুই অভিনেতা।

তবে শুধু এই দু’জনই নয়। বাকিরাও যেন ফাটিয়ে দিয়েছেন জাস্ট। কাকে বাদ দিয়ে কার কথা যে লিখব এখানে, ভেবে পাচ্ছি না আমি।

সফিনা’র মা-বাবার কথাই ধরুন। নাসির এবং হামিদা। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইখলাক খান এবং শিবা চাড্ডা। খুব স্বাভাবিক কারণেই ছবিতে এঁদের স্ক্রিন স্পেস বেশ কম, যে ক’টা সিনে আছেন হিরোইনের সঙ্গে সাপোর্টিং ক্যারেকটার হিসেবেই আছেন। কিন্তু ওইটুকুতেই যে অভিনয়টা করে গিয়েছেন, ভুলতে পারছি না ওঁদের।

গৃহবধূ মা আর ডাক্তার বাবাকে লুকিয়ে মুরাদের সঙ্গে রিলেশন চালিয়ে যাচ্ছিল সফিনা। ধরা পড়ে গেল যখন, তখন তিনজনের মধ্যে যে মুহূর্তটা তৈরি হল, সেটা লিখে এখানে বোঝাতে পারব, আমার এত ক্ষমতা নেই।

ডাক্তারের ফ্যামিলি থেকে এবার মুরাদের বস্তিবাড়িতে আসুন। ছোট্ট খুপরি ঘরে ঠাসাঠাসি করে থাকা, এত ঠাসাঠাসি যে, লন্ডন থেকে বেড়াতে এসে বিদেশিরা বস্তির ওই ঝুপড়িটাকেও দর্শনীয় ভাবে। সেলফি-স্টিকে মোবাইল গেঁথে ঘিঞ্জি ঘরের ছবি তুলতে পাঁচশো টাকা ফিও জমা দ্যান তাঁরা! মুরাদদের ঘরের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছেন তাঁরা, মর্মান্তিক এই সিনের মধ্যে মুরাদের ঠাকুমাকে (অভিনয়ে জ্যোতি সুভাষ) এক ঝলক দেখতে পাবেন আপনি। ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে ঢুকে দ্যাখার জন্য এন্ট্রি ফি কত পড়বে, তিনি সেটাও যেমন জানান, ঠিক সেরকম বিদেশি ট্যুরিস্ট হেসে যখন ‘নমস্তে’ বলে, তার উত্তরে, এক ফালি মেকি হাসিও ফিরিয়ে দ্যান বেশ। ছোট্ট এই শটগুলোতে ওঁর এক্সপ্রেশন লিখে এখানে বোঝান যাবে না, যান – হল-এ গিয়ে দেখে আসুন!

এটা ছবির শুরু। এরপরেও এই ঠাকুমাকে আরও অন্য অনেক সিনে পাবেন এবং এমন এমন সব মোমেন্টে এঁকে পাবেন, যখন হাততালি আর সিটির চোটে কেঁপে যাবে পুরো হল!

এই যে মুরাদ, এর বাবা বাবা শাকির হল পেশায় ড্রাইভার। এই ভূমিকায় দেখতে পাবেন নামী অভিনেতা বিজয় রাজকে। এঁর অভিনয় নিয়ে আলাদা করে লেখার তো আর মানে হয় না কিছু। শুধু এটুকু লিখি যে, ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওঁর ক্যারেকটারটির ইন্টারেস্টিং জার্নি রয়েছে একটা।

কেমন সেই জার্নি? ছবির একদম শুরুতেই ঘরে এক বৌ থাকতে-থাকতেই কচি বয়সের নতুন এক বৌকে এনে ঘরে ঢোকায় শাকির। প্রথম বৌ রাজিয়ার (অম্রুতা সুভাষ) সঙ্গে সংঘাতের সেই শুরু। ঝগড়া আর চিৎকার থেকে শুরু করে শুরু হয়ে যায় মারধরের পালা। বাবার হাতে মা’কে মার খেতে দেখে থাকতে না পেরে বাবার গায়ে হাত তুলে বসে মুরাদ।

এই যে বাবার সঙ্গে সমানে সমানে চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে ছেলে, এই সিনগুলো হওয়ার সময় সারা ‘হল’ জুড়ে কী হর্ষোধ্বনি, বাপ্‌স!

তো এরপর মা-ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাবার খুপরি আস্তানা ছেড়ে বেরিয়ে আসে মুরাদ। বাবার সঙ্গে ঘেন্নার চোটে মুখ দ্যাখাদেখি বন্ধ। তারপর আরও ঘটনা একের পর এক। ফাইনালি লাস্ট সিনে যখন স্রোতের মত জনতার মাঝে গান গাইতে মুরাদ স্টেজের ওপর ওঠে, তখন সেই স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শাকিরের চোখে নীরব আবেগ যেন লক্ষ টাকার ফ্রেম!

শুধু এই ক’জনই নন, ছোট-বড় আরও বহু চরিত্র আছে ছবিতে। অল্প একটু সময়ের জন্যে স্ক্রিনে আসেন কলকি কেকলাঁ, তাঁর চরিত্রের নাম ‘শ্বেতা’ ওরফে ‘স্কাই’। মুরাদকে গায়ক হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ‘পুশ’টা তাঁরই দেওয়া। এমনকি র‍্যাপ গায়কের নাম হিসেবে যে ‘মুরাদ’ চলে না, কেত দ্যাখান অন্য একটা নাম দরকার, সে কথা ভেবে ‘গল্লি বয়’ নামটা রাখেন তিনিই। মুরাদের লাইফের মোড় কিছুটা তাঁর কারণেই ঘোরে।

এরকম ক্যারেকটারগুলোর কথা বাদই দিন, শুধু একটা সিনের দেড় খানা শটে দেখছি যাঁকে, তাঁর অভিনয়ও দেখে মনে হয় বাঁধিয়ে রাখার মত! ঠিক জানি না অভিনয়ের এই ক্রেডিটগুলো আলাদা করে অভিনেতাদের প্রাপ্য, নাকি পুরো এই ডিজাইনটার পেছনে আছে পরিচালকের হাত।

এমনিতে যদি দ্যাখেন তো, ছবির গল্পে কিন্তু সেরকম আহামরি কিছু নেই। বস্তিবাসী ছেলের সঙ্গে ফ্ল্যাটবাসী মেয়ের প্রেম আগে দ্যাখেননি, বলুন? বা সংসারের হাজার ঝক্কি পেরিয়ে উঠে সিনেমার হিরো গায়ক হওয়ার লড়াই লড়ছে, এ গল্পটা তো এর আগে বোধহয় আপনার-আমার অগুন্তিবার শোনা!

আমার তো ছবিটা দেখতে দেখতে এই কথাটাও মনে হচ্ছিল, যে ছবির মূল নির্যাস ‘কুংফু পাণ্ডা’ (২০০৮) নামের ছবি থেকে নেওয়া নাকি। গল্পের বেসিক প্যাটার্নটা মিলিয়ে দেখুন প্লিজ। সেটা ছিল চাউমিন বিক্রেতা বাবার ছেলের কুংফু বীর হয়ে ওঠার স্টোরি, আর সেটা একটু পালটে নিয়ে এটা হচ্ছে কার ড্রাইভার বাবার ছেলের র‍্যাপ গায়ক হওয়ার জার্নি। মিল আছে না, বলুন?

মনে মনে এটা ভাবার একটু পরেই নেট সার্চ করে দেখতে পাচ্ছি, পরিচালকের নামে গল্প চুরির অভিযোগও উঠে গ্যাছে! ‘৮ মাইল’ (২০০২) নামের একটা ছবি থেকে নাকি নেওয়া হয়েছে এই ছবিটার স্টোরি। সেটাও ছিল এক র‍্যাপ গায়কের নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখার গল্প। আর এটাও তো এক্কেবারে তাই! একটু যদি গুগ্‌ল করেন, দেখতে পাবেন, সেই ছবির সঙ্গে এই ছবির প্লটের কী কী মিল রয়েছে, এক-দুই-তিন করে সে সব হিসেবও দেখিয়ে দেওয়া আছে!

কিন্তু আসল কথাটা কী, জানেন? গল্প কিংবা মূল প্লটটা যেখান থেকেই নিন না কেন, এ ছবিতে সেটা এনে ফিট করার ট্রিটমেন্টটা যে অনবদ্য, ভাই!

একেকটা সিকোয়েন্স দেখে মনে হচ্ছিল, ডায়ালগ হয়তো বলা হল মোটে চারটে, কিন্তু এর সঙ্গে না-বলা আরও চল্লিশটা ডায়ালগ যেন শোনা গেল খুব স্পষ্ট!

ছবির পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা অগুন্তি কত কথা। টেক্সটের সঙ্গে কিলো কিলো যেন সাবটেক্সটের ভিড়! সোচ্চারে সেগুলো হাইলাইট করা হয় নি কোথাও ঠিকই। কিন্তু খুঁটিয়ে দেখলে টের পাবেন এক ঝুপড়ি-বাসীর গায়ক হওয়ার গল্পের মাঝে সমাজের আরও কত নির্বাক ছবি আছে!

হিরো-হিরোইনের ফ্যামিলি দুটোই ধরুন! মুরাদ আর সফিনা, দুজনেই মুসলিম বটে, কিন্তু দুজনের সোশ্যাল স্ট্যাটাস মেপে দেখুন, আকাশ-পাতাল ফারাক! ‘নোকর’ শাকির তার ছেলে মুরাদকে ‘নোকর’ই বানাতে চায়! তার পরিবারে মেয়েরা এখনও সংস্কারের অন্ধ মোড়কে ঢাকা ক্লীব মালপত্রের মত। ওদিকে সফিনা’র বাবা হামিদ কিন্তু নিজের মেয়েকে নিজের মতই ডাক্তার করে তোলার স্বপ্ন দ্যাখেন! হিজাব দিয়ে সফিনা মাথা ঢেকে রাখে ঠিকই, কিন্তু বাবার খাতিরে মেডিক্যাল কোর্সে নিজের পড়াটা দিব্যি বেশ চালিয়ে যেতেও থাকে।

স্ক্রিপ্ট আর সিচুয়েশনের ছোট্ট আঁচড়ে দুটো আলাদা পৃথিবী মুহূর্তে এসে ধরা পড়ে যায় যেন! আর হ্যাঁ, পুরো ছবিটা কিন্তু শুধু এটুকু নয়, আরও বহু বহু ঘটনা এবং লেয়ার দিয়ে ঠাসা।

মুরাদের জীবন নিংড়ে র‍্যাপ গানের জন্ম হওয়ার প্রসেসখানা সুপার্ব। ছবি শুরুর আগে ডিরেক্টর অন-স্ক্রিন এটা জানিয়ে দ্যান যে ছবিটা নাকি মুম্বইয়ের র‍্যাপার গায়ক ডিভাইন আর নেইজি-র লাইফ থেকে নেওয়া। এটা সত্যি কিনা জানি না সেটা আমি। অনেকে তো বলছে শুনছি, বিদেশি ছবির প্লট চুরির দায় এড়াতে এটা নাকি ছোট্ট একটা চাল! কিন্তু সে যাই হোক না কেন, এটা কিন্তু সত্যি যে, মুরাদের গান শোনা, গান লেখা আর গান গাওয়ার সব মুহূর্তগুলো দেখতে দেখতে আমি অন্তত এটা ভাবছিলাম যে, রিয়্যালিটিতেও র‍্যাপ গায়কের জার্নিটা ঠিক এরকমই হয় কিনা!

মেনস্ট্রিম হিন্দি ছবিতে যে রকম হয়, এখানেও সে রকম একের পর এক ইচ্ছে পূরণের স্টোরি। আর ছবির একদম শেষে মুরাদ এসে পৌঁছয় এক কম্পিটিশনের স্টেজে! এবার এটা দেখে তো তখন আমার মনে হচ্ছে, যাহ, এত ভাল একটা ছবির শেষটা কিনা এরকমের ক্লিশে? হিরো কম্পিটিশনে নেমেছে মানে ফার্স্ট হওয়া তো বাঁধা!

কিন্তু সেখানেই ফের একবার ট্রিটমেন্টের চমক! লাস্ট সিনে যে ক্লিশেটা দেখব বলে ভয় হচ্ছিল, পরিচালক কী নিপুণভাবে সেই ক্লিশেটা এড়িয়ে গেলেন পুরো! কী ভাবে যে ক্লিশে মোমেন্টস এড়িয়ে গিয়ে ছবি বানানো যায়, এ ছবি বোধহয় ভবিষ্যতে তার ম্যানুয়াল বুক হবে!

লেখার শেষে একটা কথা স্বীকার করে রাখি যে, পার্সোনালি র‍্যাপ মিউজিক আমার তেমন পছন্দসই নয়। কিন্তু এ ছবির একেকটা গানে গায়ে কাঁটা দিয়ে গেল জাস্ট! জানি না সেটা কীসের গুণে, কথা, সুর, নাকি অজানা অচেনা অন্য কিছুও আছে। আর আমার কথা ছাড়ুন, এই গানগুলো হওয়ার সময় বাকি ‘হল’-এর অবস্থা কী জানেন? পুরো ‘হল’ তো তখন ইউফোরিয়ায় ভেসে যাচ্ছিল ভাই!

মনে পড়ছিল ‘রক অন’ (২০০৮) আর ‘রকস্টার’-এর (২০১১) কথা। মিউজিকের সেই ম্যাজিক যেন নতুন মোড়কে এই ছবিতে ফেরত এল ফের।

একা নয়, প্রিয় বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ‘গল্লি বয়’ দেখে আসুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here