‘ বিদেশি ভূত চতুর্দশী’ হ্যালোউইন প্রচলিত ছিল খ্রিস্টপূর্ব যুগ থেকেই

1530

প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ দিন সাহেবদের ভূত চতুর্দশী | পোশাকি নাম হ্যালোউইন |  মাঝে একদিন | তারপর অল সোলস ডে | খ্রিস্টানদের পরম পবিত্র দিন | কিন্তু জানেন কি হ্যালোউইন পৌত্তলিক পার্বণ ?

# ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচলনের দীর্ঘ আগে থেকেই ছিল এই উৎসব | প্রাচীন কেল্টিক জনজাতির মধ্যে | নাম ছিল ‘ Samhain’ | বন ফায়ার করে‚ উদ্ভট পোশাক পরে ভয় দেখানো হতো অশরীরী আত্মাদের |

# এখন যেখানে আয়ারল্যান্ড‚ গ্রেট ব্রিটেন‚ উত্তর ফ্রান্স‚ দু হাজার বছর আগে সেখানে বসতি ছিল কেল্টদের | তাদের নতুন বছর শুরু হতো ১ নভেম্বর |

# অষ্টম শতকে পোপ তৃতীয় গ্রেগরী এইদিন শুরু করলেন অল সোলস ডে | তার সঙ্গে জুড়ে গেল হ্যালোউইনও | পৌত্তলিক সভ্যতা থেকে প্রবেশ করল খ্রিস্টধর্মে |

# প্রাচীন কেল্ট বিশ্বাস ছিল নতুন বছরের প্রথম দিনের আগের দিন আত্মারা ফিরে আসেন | মিশে যায় ইহলোক ও পরলোক | তাদের কাছে নভেম্বর মানেই ছিল শীত | শীত মৃত্যুরই সমার্থক তাদের কাছে |

# শস্য কাটার পরে খেতে আগুন জ্বালাতো কেল্টরা | প্রধানত শীত থেকে বাঁচতে | পরে সেটাই হয়ে যায় আত্মাকে ভয় দেখানো |

# ৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা অধিকার করে কেল্টিক জনপদ |  দুই সভ্যতার উৎসব পার্বণ মিলেমিশে যায় |

# খ্রিস্টাব্দ কয়েক শতক ধরে All Martyrs Day পালিত হতো নভেম্বর মাসে | সেই দিনটি মিশে যায় অল সোলস ডে-এর সঙ্গে |

# প্রোটেস্ট্যান্টদের দাপটে হ্যালোউইন অনেকদিন সীমাবদ্ধ ছিল নির্দিষ্ট চৌহদ্দিতে | উনিশ শতকের দ্বিতীয় অর্ধে আমেরিকায় বাড়তে থাকে শরণার্থীর স্রোত | বিশেষ করে আইরিশদের | তাদের মাধ্যমে হ্যালোউইন ছড়িয়ে পড়ল নতুন ভূখণ্ডে |

# আমেরিকায় পরিচিত হওয়ার পরে সার বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি এই উৎসব | আজ‚ ভয়ের থেকেও এই পার্বণে মিশে আছে মজা | কুমড়ো দিয়ে বাতি হোক | বা উদ্ভট কেক | কিংবা মজারু সাজে মানুষ | হ্যালোউইন এখন বিশ্বজনীন |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.