প্রসবের ১ ঘণ্টা পরেই বুথে নতুন মা‚ সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে ভোটদান

বেলা বারোটায় তিনি জন্ম দিয়েছেন ফুটফুটে এক পুত্রসন্তানের। এরপরই সকলকে চমকে দিয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন ভোটের লাইনে। বেলা একটায় ভোট দিলেন হরিয়ানার মনীষা রানি। হাসপাতালের বেড থেকে সদ্যপ্রসূতির এহেন কাণ্ডে চমকে গিয়েছেন বুথের অফিসাররাও। গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোয় ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। পঞ্চম শ্রেণিতেই পড়াশোনা সাঙ্গ করা এক দম্পতি তা সম্যক অনুভব করায় তাঁরা প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন মনীষা ও তাঁর স্বামীকে।

গত রবিবার হরিয়ানায় ছিল লোকসভা নির্বাচনের দিন। বারোটার সময় পুত্রসন্তানের জন্ম দেন মনীষা। নর্মাল ডেলিভারি হয়। এরপরই তিনি ভোট দিতে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। স্বামী পবন কুমারেরও আপত্তি ছিল না। যেহেতু মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ ছিল, তাই চিকিৎসকরাও সম্মতি দেন। তবে সঙ্গে দেন একজন নার্সকে। অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদের গাড়িতেই বুথের উদ্দেশে রওয়ানা হন মনীষা ও পবন। স্বাভাবিক ভাবেই মনীষার কোলে ছিল সদ্যোজাত সন্তানটিও।

প্রসঙ্গত, এটি মনীষার দ্বিতীয় সন্তান। তাঁর স্বামী একজন পোশাক বিক্রেতা। সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় পোশাক বিক্রি করে বেড়ান। হরিয়ানার কৈথাল জেলার ধন্দ টাউনের ভট কলোনির বাসিন্দা তাঁরা। ধন্দের ২৩ নম্বর বুথ থেকে মনীষার হাসপাতালের দূরত্ব এক কিলোমিটারের চেয়ে সামান্য বেশি। বেশ গরম ছিল। তবুও পিছপা হননি মনীষা। ভোটদানের পরে তিনি জানান, ‘‘আমি কিছুক্ষণ আগেই একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছি। কিন্তু আমি ভোট দিতে প্রবল আগ্রহী ছিলাম।’’

বুথ লেভেল অফিসার অনিল কুমার ভোটদানে সচেতনতা বাড়ানোর ক্যাম্পেনিং চলাকালীন মনীষার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মনীষা কথা দিয়েছিলেন, তিনি ভোট দেবেন। অনিল কুমার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘আমরা খুব খুশি যে উনি কথা রেখেছেন।’’

খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। মা ও সন্তান সুস্থ থাকায় কেউই আপত্তি করতে পারেননি। বরং তাঁরা খুশি হন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে মনীষার সচেতনতা দেখে। মনীষার সঙ্গে যিনি বুথ পর্যন্ত গিয়েছিলেন সেই নার্স সুনীতা জানিয়েছেন, ‘‘ওঁর এই পদক্ষেপ অন্যদের জন্য সুন্দর উদাহরণ হয়ে থাকবে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here