বছর দশেক আগের কথা । মোরাদাবাদ থেকে ডালহৌসি ক্লাব হয়ে ছেলেটা তখন খেলার সুযোগ পেয়েছে টাউন ক্লাবে । অল্প কিছু টাকাতেই টাউন সই করিয়ে নিয়েছিল এই প্রতিশ্রুতিমান ফাস্ট বোলারকে । প্রথমদিকে কলকাতায় থাকার জায়গা ছিল না, তাই টাউনের সচিব দেবব্রত দাসের বাড়িতেই থাকতেন মহম্মদ সামি । দেবব্রত বাবু পরে জায়গা করে দেন দঃ কলকাতার একটি মেসে । ” শান্ত স্বভাবের ছেলেটিকে যা বলতাম মেনে নিত। প্রচন্ড পরিশ্রমী আর সব সময় শেখার একটা সহজাত মানসিকতা নিয়ে এসেছিল মহম্মদ সামি । ” এখনও মনে পরে দেবব্রত দাসের।

Banglalive

এক মরশুম খেলার পরেই বাংলার সেই সময়কার নির্বাচক প্রধান সম্বরণ ব্যানার্জির নজরে পড়ে যান সামি । ” টাউন বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ চলছিল । আমার এখনও মনে আছে নতুন বলে দুই দিকেই অনায়াসে স্যুইং করাচ্ছিল উত্তর প্রদেশের ছেলেটা । পুরনো বলে দেখলাম রিভার্স স্যুইং করাতে । তখনই বাকি নির্বাচকদের বলি ছেলেটাকে বাংলা দলে নেব । ”

সেই প্রথম বড় সুযোগ কেরিয়ারে । বাংলা দলে শুরুতে ঢাকা পড়ে ছিলেন দিন্দা, রণদেবদের আড়ালে । সামির কেরিয়ার বদলে যায় যখন কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দলে নেয় মূলত রিজার্ভ ক্রিকেটার হিসেবে । শুরুতে খেলার সুযোগ পাননি কিন্তু নেট প্র্যাকটিসে নজরে পড়ে গেলেন কেকেআরের বোলিং কোচ ওয়াসিম আক্রমের । স্যুইংয়ের সুলতান সামিকে শেখালেন কী করে এই বিষয়টিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে । অল্পবিস্তর রিভার্স স্যুইং সামি আগেই করছিলেন, আক্রমের হাতে মোরাদাবাদের ছেলেটি শিখলেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যাটসম্যানদের এই অস্ত্রে কেমন করে কুপোকাত করতে হবে। প্রথম বছর নাইট রাইডার্সে তেমন সুযোগ না পেলেও বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে নেমে প্রয়োগ করলেন আক্রমের থেকে শেখা অস্ত্র । উইকেট এল ঝুড়ি -ঝুড়ি। ভারতীয় ক্রিকেটে সবাই জেনে গেল মহম্মদ সামি বলে এক বোলার এসে গেছেন ।

আরও পড়ুন:  রত্ন চিনতে ভুল হয়নি ঈশ্বরচন্দ্রের জহুরি-চোখের‚ বাঘ না মেরেও তিনি বাংলার বাঘ

ভুল বললাম। ভারতীয় ক্রিকেটে তখনও সবাই জানতেন এই বোলারের নাম মহম্মদ সামি আহমেদ। আসলে বিষয়টা গোলমেলে। টাউন ক্লাবে খেলার সময় ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভুল করে সিএবি-তে সামির নাম মহম্মদ সামি আহমেদ হিসেবে নথিবদ্ধ করে ফেলে । এরপর রেকর্ড বুকে দীর্ঘদিন সামি এই নামেই খেলেছেন । এমনকি ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরেও কমেন্টেটর থেকে শুরু করে স্কোরার, সবাই সামিকে সামি আহমেদ হিসেবেই চিনতেন । এমনকি বোর্ডের থেকে চেকও ইস্যু হত এই নামেই । ফলে ব্যাঙ্কে হলফনামা দিতে হয়েছিল সামি-কে যে মহম্মদ সামি ও সামি আহমেদ আসলে একই ব্যাক্তি ।

ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দুরন্ত স্যুইং বোলিং করে ধীরে -ধীরে দলের একনম্বর ফাস্ট বেলার হলেন টেস্ট ক্রিকেটে ।

যারা দেখেছেন, সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নেন যে মিতভাষী ছেলে সামি । লাজুক স্বভাবের এই ফাস্ট বোলারের বিরুদ্ধেই এখন চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ। সব অভিযোগই এনেছেন তাঁর স্ত্রী হাসিন জাহান । ২০১২ সালে নাইট রাইডার্সের এই চিয়ার লিডারের সঙ্গে মন দেওয়া নেওয়া হওয়ার দুবছর পর বিয়ে করেন সামি । হাসিন তখন বিবাহবিচ্ছিন্না ও দুই কন্যার মা । সামির থেকে প্রায় দশ বছরের বড় হাসিনের সঙ্গে বছর চারেক ভালই সময় কাটছিল। তাল কাটল কয়েকদিন আগে ।

দেওধর ট্রফি খেলতে সামি ধরমশালা যাওয়ার পর সামির একটি গাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে হাসিন ধরে ফেলেন সামির প্লে বয় ইমেজ । হাসিনের অভিযোগে উঠে এসেছে এই ফাস্ট বোলার একাধিক নারী সঙ্গে লিপ্ত । ভিন্ন রাজ্য, ভিনদেশী নারীদের সঙ্গে সামির উত্তেজক সব হোয়াটস্ অ্যাপ চ্যাট ফাঁস করে হাসিন এখন শিরোনামে । যার পুলিশি অভিযোগ বোর্ডের সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট থেকেও দূরে সরিয়ে রেখেছে সামিকে।

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে প্রশ্ন সামি কেন আসামী ? কেউ বলছেন ধরা না পড়লে স্বামী আর ধরা পড়লেই সামি ।

আরও পড়ুন:  ফিরে আসেনি সাজু-রূপাই‚ আঙুরলতার নক্সীকাঁথা আপাদমস্তক ঢেকেছে পরিত্যক্ত নিঃসঙ্গ পাহাড়ি গ্রামকে

মামলা শুধু বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে থেমে নেই ,যোগ হয়েছে ভয়ঙ্কর সব ধারা। আর জীবনের সবথেকে খারাপ সময় উপস্থিত সামির চারপাশে ।

অনেক ভক্তরই মনে হচ্ছে হোয়াটস্অ্যাপ চ্যাট ডিলিট কেন করে দিতেন না সামি । ধরমশালায় ফোন নিয়ে গেলেও তো এই কাণ্ড হয় না । উল্টে এখন পাকিস্তানি গার্লফ্রেন্ড থেকে দঃ আফ্রিকান গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ । যত কাণ্ড কলকাতায়, কিংবা বলা যায় যত কান্ড কাটজুনগরে । মানে যাদবপুরের যেখানে সামির ফ্ল্যাট । স্ত্রীর অভিযোগের পর থেকে উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় ফিরতেও পারেননি । গ্রেফতারির আশঙ্কাও রয়ে যাচ্ছে ।

হোয়াটস্অ্যাপ চ্যাট মোবাইল থেকে ডিলিট না করেই যত সর্বনাশ !

সামির জীবনের ম্যাচ রিভিউ করতে গিয়ে সবাই একই কথা বলছেন, ” কপালের নাম গোপাল হলে যা হয় ।”

NO COMMENTS