মহারাজা টয়লেটে যাবেন ! ওরে কে আছিস ? ওঁর পায়জামার ফিতের গিঁট খুলে দিতে হবে…

এই পর্বেও আছে এক মহারাজার কথা | তবে তার আগে রাজরাজড়াদের পোষ্যদের পর্ব | ব্রিটিশ ভারতে ভারতীয় রাজন্যদের বিলাসিতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছিল‚ তার এক টুকরো নমুনা দেখুন |

গুজরাতের জুনাগড় প্রাসাদে বসেছিল রাজকীয় বিয়ের আসর | জাঁকজমকের আর কিছু বাকি নেই | মহামূল্যবান অলঙ্কারে সজ্জিত কনে | গলায় ঝুলছে কয়েক লক্ষের মুক্তো-কণ্ঠহার | নাম তার রোশেনারা | বসে আছে বরের অপেক্ষায় |

জুনাগড়ের নবাব নিজে গেছেন স্টেশনে | বরযাত্রীদের স্বাগত জানাতে | একটা ট্রেন ভাড়া করে তারা আসছে ম্যাঙ্গালোর থেকে | প্রায় আড়াইশো জন বরযাত্রী নামল কামরা থেকে | বর সমেত তাদের বিশেষ অভ্যর্থনায় নিয়ে যাওয়া হল প্রাসাদে |

ধূমধামে বিয়ে হয়ে গেল | জুনাগাড়ের রাজার পোষা কুক্কুরীর সঙ্গে ম্যাঙ্গালোরের রাজার পোষা কুকুরের | খরচ হয়েছিল সেকালের যুগে কয়েক লাখ টাকা |

ঠিকই পড়ছেন | রোশেনারা ছিল জুনাগড়ের রাজার পোষা কুক্কুরী | সালঙ্কারা হয়ে বিয়ে করে গিয়েছিল ম্যাঙ্গালোর প্রাসাদে | বিয়ের সাক্ষী থাকতে ট্রেন ভাড়া করে আনা হয়েছিল ২৫০ জন কুকুর-বরযাত্রীকে |

এ বার অন্য পর্ব | জুনাগড়ের প্রাসাদ থেকে চলে আসুন পঞ্জাবের কাপুরথালায় | একবার কাপুরথালার মহারাজাকে আমন্ত্রণ জানানো হল বাকিংহাম প্যালেসে | গ্রেট ব্রিটেনের রাজারানির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন | কাপুরথালার রাজার সাজ একেবারে দেখার মতো |

অফিশিয়াল সাজে রাজা পরেছেন চুড়িদার-পায়জামা‚ হিরে বসানো ব্রোকেডের আচকান‚ নীলকান্তমণি বসানো পাগড়ি‚ গলায় মুক্তোর কণ্ঠহার | কোমরবন্ধনী থেকে ঝুলছে ঐতিহাসিক তলোয়ার | ওই কোমরবন্ধনী ও তরবারি রাজার পূর্বপুরুষরা উপহার পেয়েছিলেন পারসিক আক্রমণকারী স্বয়ং নাদির শাহ-এর কাছ থেকে |

বাকিংহামের দ্বার থেকে সসম্মানে কাপুরথালার রাজাকে রাজারানির কাছে নিয়ে গেলেন লর্ড চেম্বারলেইন | আদর-আপ্যায়ন-মদিরা সেবনে রাজা তখন কিঞ্চিৎ মন্দ্রিত | আবেশে নেচে চলেছেন শ্বেতাঙ্গিনী সুন্দরীদের সঙ্গে |

এর মধ্যেই মনে হল একবার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হবে | কিন্তু নাচের আসরে রাজা একা আমন্ত্রিত | তাঁর কোনও চাকর বাকর বা সাহায্যকারীর প্রবেশাধিকার নেই | রাজা মহা সমস্যায় পড়লেন | পায়জামার ফিতের গিঁট কেউ না খুলে দিলে তিনি কী করে যাবেন !

ব্রিটেনের রাজার ব্যক্তিগত সচিবকে সব বললেন কাপুরথালার মহারাজা | সচিব সে কথা জানাতে লর্ড চেম্বারলেইন ভিতরে ডাকালেন ইন্দর সিংকে | তিনি ছিলেন কাপুরথালার মহারাজার মুখ্য সহায়ক | বাইরে গাড়িতে চালকের সঙ্গে অপেক্ষায় ছিলেন ইন্দর |

যাই হোক‚ আলাদা কক্ষে গিয়ে কাপুরথালার মহারাজার পায়জামার ফিতের গিঁট খুলে দিলেন ইন্দর সিং | তারপর টয়লেটে গেলেন রাজা | ইন্দর সিং দাঁড়িয়ে থাকলেন‚ রাজা বের হলে আবার ফিতে বেঁধে দেবেন | এটাই ছিল রীতি | রাজারা পায়জামার ফিতে বাঁধার কাজটুকু অবধি নিজে করতেন না |

পায়জামার ফিতেই যখন পারতেন না বাঁধতে‚ তখন পাগড়ি তো দূর অস্ত | মহীশূর থেকে আসত রেডিমেড পাগড়ি | সেগুলোই পরতেন কাপুরথালার মহারাজারা | তবে সেই রেডিমেড পাগড়ি পরিয়ে দেওয়ার জন্যেও নিযুক্ত থাকত আলাদা দুজন লোক |

রাজ অলিন্দের আরও কালিমা : ২৯৩০ টি হিরের দুর্মূল্য কণ্ঠহার‚ ২০ টি রোলসরয়েস থেকে ৩৩২ জন যৌনদাসী…বিলাসব্যসনের আর এক নাম মহারাজা ভূপিন্দর সিং https://banglalive.com/indias-kinkiest-maharaja/

পরকীয়ার মহিমা ! প্রেমিকের সঙ্গে সংসার পেতে বিবাহিতা রাজকন্যা হয়ে গেলেন ঘুঁটে কুড়ুনি https://banglalive.com/from-riches-to-rags-2/

মেয়েদের কৌমার্য হরণ ছিল নেশা ! সেই কামুক রাজার শেষ জীবনে এ কী রূপান্তর ! https://banglalive.com/the-transformation-of-lecherous-king/

ম্যা গো ! সভায় বসে রাজকার্য পরিচালনার সময় নবাব এটাও করতেন একইসঙ্গে ! https://banglalive.com/his-highness-the-nawab-his-toilet-seat/

 
 
 
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

pakhi

ওরে বিহঙ্গ

বাঙালির কাছে পাখি মানে টুনটুনি, শ্রীকাক্কেশ্বর কুচ্‌কুচে, বড়িয়া ‘পখ্শি’ জটায়ু। এরা বাঙালির আইকন। নিছক পাখি নয়। অবশ্য আরও কেউ কেউ

Ayantika Chatterjee illustration

ডেট