আক্ষরিক অর্থেই সাগরে শয্যা পেতেছেন তিনি | শিশিরকে ডরালে চলবে কেন ! তিনি অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড হ্যারি | বিশ্বের খ্যাতনামা ডুবুরিদের মধ্যে একজন | কর্মরত ছিলেন থাইল্যন্ডে | গুহা থেকে কিশোরদের নিরাপদে উদ্ধারের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরে | কুড়িজনের দলে তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য নাম | 

দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে উদ্ধার করা হয় বারো জন কিশোর ফুটবলার এবং তরুণ কোচকে | শেষ দিন‚ যখন উদ্ধারপর্বের শেষ লগ্নে প্রশিক্ষককে গুহার অন্ধকার থেকে নীল আকাশের নিচে বের করে আনলেন‚ উদ্ধারকারীরা মত্ত প্লাবিত উচ্ছ্বাসে | 

সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সামিল হতে পারলেন না রিচার্ড | তাঁর সামনে তখন আর একটি দুঃস্বপ্ন | সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর বাবার | খবর এসেছিল আগেই | কিন্তু তাঁকে দেওয়া হয়নি | যাতে মনঃসংযোগে ফাটল না ধরে | অপেক্ষা করা হয়েছে মিশন সম্পূর্ণ হওয়া অবধি |

খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন হ্যারি | কিন্তু মচকাননি | দেশে যাওয়ার জন্য ব্যাকুলও হননি | বরং নিশ্ছিদ্র তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া ফুটবলার ও তাদের প্রশিক্ষকের খেয়াল রেখেছেন | তাঁর সামনে যে বিশাল দায়িত্ব, সে দিকেই ব্যস্ত ছিলেন হ্যারি । ফুটবলারদের বাইরে এনে, তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা করে হাসপাতালে পাঠানো- এই সবেই মগ্ন তিনি । 

অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুলি বিশপ হ্যারির এই দুঃসাহসিকতার প্রশংসা করেন । হ্যারি-সহ গোটা টিমকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের তরফে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে | সাগর সেচে ঝিনুক খুঁজে মুক্তো আনেন ডুবুরিরা | হ্যারি এবং তাঁর সঙ্গীরা যা আনলেন‚ পৃথিবীর সব ঐশ্বর্যের জৌলুস তার কাছে নিষ্প্রভ | 

Banglalive
আরও পড়ুন:  গ্রাম প্রধানের আহ্বানে মাঠে নেমে চাষ করছেন নেতা-মন্ত্রীরা!?

NO COMMENTS