ডুব দিন আইসক্রিমে….বাঁচবেন অনেকদিন!?

1724
ice cream health benefits

কেউ ক্যাডবেরি, আইসক্রিমের প্রতি অনুরক্ত শুনলেই হাঁ হাঁ করে উঠি আমরা, এসব বিষ। শরীর, দাঁতের পক্ষে ক্ষতিকর। আরও অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই সব বলে। ক্যাডবেরি যে অপকারের থেকে উপকার করে বেশি পুষ্টিবিজ্ঞান তা অলরেডি প্রমাণ করে ফেলেছে। বাকি ছিল আইসক্রিম। তারও শংসাপত্র মিলেছে সম্প্রতি। আইসক্রিম নাকি বহুগুণা। তাই এটি খেলে আপনি সমস্যা নয় শতায়ুর পথে এগোবেন। অতএব বছরভর ডুব দিন নানা স্বাদের আইসক্রিমে। জীবন জমে যাবে—–

চলন্তফিরন্ত ক্যালোরি: এক এক স্বাদের আইসক্রিমে ক্যালোরির মাপ এক এক রকম। যেমন, ১০০ গ্রাম ভ্যানিলায় ২০৫, চকোলেটে ২১৮, স্ট্রবেরিতে ১৯৭, কুকি স্যান্ডুইচে ২৪২, ক্রিম স্যানডেতে ২৫২, ক্যারামেস চকোলেটে ১৯৩, ক্রাঞ্চি নাগেটে ৩৫২ ক্যালোরি থাকে।

বহুগুণার গুণাগুণ—

১. ভিটামিনে ভরপুর: নিয়মিত আইসক্রিম খেলে আপনার শরীর পুষ্ট হবে ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিনের মতো খনিজে। যেমন, ডার্ক চকোলেট আইসক্রিম মানেই প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরে জমে থাকা ব্যাড কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়।

২. এনার্জি বাড়ায়: গরমে হা-ক্লান্ত? নিমেষে এনার্জি বাড়াতে চান? ঝটপট বেছে নিন যেকোনও ফ্লেভারের আইসক্রিম। এই খাবারে সুগারের পরিমাণ বেশি থাকায় দ্রুত এনার্জি লেভেল হাই করে।

৩. রোগ বলে বাইবাই: নানা ভিটামিন, খনিজে ভরপুর হলে সেই খাবার তো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেই। আইসক্রিম যে এমনটাই। তাই আইসক্রিম মানেই প্রচুর পুষ্টি, খেয়ে-খাইয়ে সন্তুষ্টি। আর আপনিও তন্দরুস্ত।

৪. ধারালো মগজাস্ত্র: পেতেই পারেন আইসক্রিমের সৌজন্যে। ঠিক যেভাবে শরীরের এনার্জি বাড়ায় সেভাবেই আইসক্রিম উদ্দীপিত করে মগজাস্ত্রকেও। তাই কখনও যদি মনে হয়, আপনি টেনশনে টানটান, একটা আইসক্রিম ট্রাই করুন। মাথা থাকবে ঠান্ডা। বুদ্ধি খুলবে বেশি।

৫. হাড় শক্ত করে: আইসক্রিমের প্রধান উপাদান দুধ। আর দুধ মানেই ক্যালসিয়ামের আকর। তাই বাচ্চা থেকে বড়ো—-দুধ না খেতে চাইলেও কুছ পরোয়া নেই। দুধের গ্লাসের বদলে হাতে থাক আইসক্রিম। একই পুষ্টি মিলবে। ক্ষয় কমে হাড় হবে পোক্ত।

৬. ক্যান্সার ক্রুসেডার: পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সার এড়ানো যায়। আইসক্রিমে ক্যালসিয়াম প্রচুর। অর্থাৎ, মারণরোগও পিছু হটবে আইসক্রিম খেলে। আর আপনি হবেন শতায়ু!

৭. ওজন কমায়: সারাক্ষণ আপনার মুখ চলে। আর মুখ চালাতে চালাতে আপনি মোটা। উপায়? একটা আইসক্রিম। দুধের এই প্রোডাক্টে আরও নানা উপাদান থাকায় এটি অনেকক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। কম খেলে আপনি তো রোগা হবেনই।

৮. এমনি এমনিই খান: মন ভালো নেই? টেনশন, অবসাদে মুখ ব্যাজার? তুলে নিন মনপসন্দ ফ্লেভারের একটি আইসক্রিম। এক কামড়েই শরীরে মাত্রা বাড়বে সেরোটোনিন হরমোনের। যা মন ভালো করে দেবে নিমেষে।

তারপরেও….

কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে আইসক্রিমের—

রোজ খেলে ওজন বাড়বে হুড়মুড়িয়ে। কারণ, এর মধ্যে থাকা হাই ক্যালোরি।

সেই মেদ বেশি জমবে পেটে।

একসঙ্গে অনেকটা করে খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেবে। গ্যাসের সমস্যায় ভুগবেন।

বাড়তি ক্যালোরি মানেই ব্যাড কোলেস্টেরল। এবং, হার্ট ব্লকেজ সহ নানাবিধ হৃদরোগ। অতএব রয়ে-বসে খান।

সুতরাং—

ক্যালোরি যাতে কম শরীরে যায় তার জন্য দু’স্কুপের বেশি আইসক্রিম খাবেন না।

কম মিষ্টির আইসক্রিম খান।

সপ্তাহে দু’দিনের বেশি আইসক্রিম খাবেন না।

ক্যালোরির মাপে বাইরের আইসক্রিমের থেকে কিন্তু ঘরে বানানো আইসক্রিম অনেক নিরাপদ।

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.