সরষের তেলের অনেক গুণ, খাবেন না মাখবেন?

4649

রান্নাতে তো বটেই, তিলে তিলে তিলোত্তমা হতে কিংবা শরীরের হাজারো ব্যাধি সারাতে সরষের তেলের ধারপাশ ঘেঁষতে পারে না আর কেউ| ইলিশ ভাপা থেকে মুড়িমাখা যেমন স্বাদু হয় এই তেলের গুণে তেমনি ত্বক থেকে মাথার চুল অথবা গাঁটের ব্যথা কমাতে সরষের তেল সত্যি-ই এক এবং অদ্বিতীয়| জেনে নিন কী কী উপকার মেলে এই তেল থেকে—

রোগ অনেক সমাধান এক

মগজাস্ত্র শানাতে চান? তাহলে আজ থেকে রান্নাটা সরষের তেলেই সারুন| চিকিত্সা বিজ্ঞান বলছে, এই তেল মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী| বিশেষ করে অবসাদ কাটাতে, স্মৃতিশক্তি আর মন:সংযোগ বাড়াতে এই তেল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে | আজ থেকে তাই রান্নায় মাস্টার্ড তেল মাস্ট|

কিছুতেই খিদে বাড়ছে না? আর তার জন্য আপনার বাচ্চা রোগা হয়ে যাচ্ছে? প্রাকৃতিক উদ্দীপক হওয়ায় এই তেল রান্নায় ছড়িয়ে খেলে খিদে বাড়বে| হজম হবে তাড়াতাড়ি| বাচ্চা থেকে বড় তাই চোখ বুজে আজ থেকে সরষের তেলের শরণ নিন| শরীর ভালো রাখতে|

৩০ পেরলেই হাড়-এ ক্ষয়| ফর্টি প্লাস প্লাস হলেই গাঁট-হাত-পা জুড়ে আরথ্রাইটিস-এর ভয়ানক ব্যথা| আর শীত পড়লে তো কথাই নেই| এ ব্যথা কি যে ব্যথা, বোঝেন শুধু সেই জন যিনি ভুক্তভুগী| ব্যথার চোটে অনেকেরই হাঁটা-চলা বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়| সরষের তেলের মালিশ কিন্তু এই সমস্যাও কমাতে পারে| রোজ অস্থিসন্ধি আর আরথ্রাইটিস-এ আক্রান্ত অঙ্গে ঈষদুষ্ণ সরষের তেল মালিশ করুন ভালো করে| তারপর রোদে বসুন | অনেক আরাম পাবেন| পেশি সচল হবে |

বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা জানিয়েছে, ক্যানসার প্রতিরোধের অনেক গুণ সরষের তেলে রয়েছে | এই তেলে থাকা লিনলেনিক অ্যাসিড ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হলে তা স্টমাক আর কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে |

আচমকা চোট পেয়ে হাত-পায়ের পেশি অবশ হয়ে গেছে? সরষের তেল হালকা গরম করে ব্যথার উপর মালিশ করুন| অবশ্যই হালকা করে| দ্রুত সাড় ফিরে আসবে অসাড় অঙ্গের|

সরষের তেলে প্রচুর পরিমাণে মোনো-স্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ও সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে| তাই রান্নায় রোজ সরষের তেল খেলে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়| এছাড়াও, সরষের তেল শরীরের খারাপ কোলেস্টরেল-এর পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়| এতে হার্ট ভালো থাকে| চট করে হার্টের অসুখে ভোগার সম্ভাবনাও কমে যায়|

শীত আর সরষের তেলের সম্পর্ক চিরকালের| ভাবছেন, একথার মানে কি? শীত পড়লেই সবাই অল্প-বিস্তর সর্দি-কাশিতে ভোগেন| অনেকের বুকে সর্দি বসে যায় | আরাম পেতে সরষের তেলে রসুন থেঁতো করে ফুটিয়ে নিন| ঈষদুষ্ণ অবস্থায় বুকে-পিঠে মালিশ করুন | তারপর ভারী জামা পরে গা ঢেকে নিন| রোজ রাতে শোয়ার সময় এই টোটকা ব্যবহার করলে বুকে জমা কফ উঠে আসবে | একই ভাবে গলায় সরষের তেল মালিশ করলে কাশি-টনসিল-এর ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়|

শীতে মিঠে-কড়া রোদ পোয়াতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু sunscreen না মেখে রোদে বেরোলে ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে স্কিন ক্যানসার হওয়ার চান্স থেকেই যায়| সরষের তেল এই সমস্যাও সমাধান করতে পারে| তেল মেখে রোদে বসুন| রং তো পুড়ে যাবেই না উপরন্তু sunscreen-এর কাজও করবে|

সরষের তেলে anti-bactirial, anti-fungal উপাদান আছে | এই উপাদান এলার্জি, রাশ কমাতে সাহায্য করে| শীতে অনেকেই তাই সরষের তেল মেখে স্নান করতে পছন্দ করেন | অন্য তেলের তুলনায় এই তেল ভারী হওয়ায় এই তেল মাখলে ত্বকের ময়েশ্চার বজায় থাকে | ত্বক ফাটে কম | শুষ্কতা-চুলকানি অনেকটাই কমে যায় |

যাঁদের সাইনাস আছে তাঁরাও সরষের তেলের সাহায্যে আরাম পেতে পারেন | ফুটন্ত জলে কয়েক চামচ সরষের তেল দিয়ে নিন | এবার তোয়ালে বা গামছ দিয়ে মাথা-মুখ ঢেকে ভেপার নিন | তেলের ঝাঁঝে সর্দি পাতলা হয়ে বেরিয়ে আসবে | সাইনাস কমবে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.