চুল পড়া একটি খুবই সাধারণ ব্যাপার। দিনে গড়ে ৫০-১০০ টি চুল পড়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আপনি যদি অনুভব করেন যে স্নান করে চুল আঁচড়ালে বা দিনের যেকোনও সময়ে চুল আঁচড়ালে মাথা থেকে গোছা গোছা চুল উঠে যাচ্ছে, তাহলে তা অবশ্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাজারে চলতি কেমিকেল-যুক্ত সুগন্ধী তেলও যদি আপনার চুল পড়ার সমস্যার সমাধান করতে না পারে তাহলে এই কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে এই অবাঞ্ছিত চুল পড়ার হাত থেকে বাঁচতে পারেন। এগুলি হল-

* নিম

ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে সাধারণত মাথায় খুশকির সমস্য়া হয়ে থাকে। আর তা থেকেই জন্ম নেয় চুল পড়ার সমস্যা। মাথার চুলে ও ত্বকে নিয়মিত নিম তেল ব্যবহারে খুশকি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। এছাড়া মাথার তালুর যেকোনো ধরনের সংক্রমণ বা চুলকানির সমস্যা দূর করতেও নিম তেলের জুড়ি মেলা ভার। চুলে শ্যাম্পু করার সময় তাতে কয়েক ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে নিয়ে মাথায় মেখে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে, কিছুদিন পর থেকেই চুল পড়ার হার কমতে শুরু করবে। এভাবে ব্যবহারে উসকোখুসকো ও প্রাণহীন চুলও তার ঔজ্বল্য ফিরে পেতে পারে। এছাড়াও চুল বেশি মাত্রায় পড়ছে দেখলেই ১০-১২ টা নিমপাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জলে চুল ধুলেও মিলবে সুরাহা।

* দই

Banglalive-8

২ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রনটা ভাল করে চুলে লাগিয়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার করলেই চুল পড়ার হার কমতে শুরু করবে।

Banglalive-9

* মেথি

চুল পড়া আটকাতে মেথি খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দু’চামচ মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস জলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে । পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানাতে হবে। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া তো কমবেই, সেই সঙ্গে নতুন চুলও গজাবে।

আরও পড়ুন:  জানেন কি খাওয়ার পর শেষ পাতে কেন মৌরি দেওয়া হয় ?

* আমলকি

চুল পড়া আটকানোর পাশপাশি চুলের বৃদ্ধিতেও আমলকির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা চুলের পুষ্টি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, ফলে চুল পরার পরিমাণ কমে। প্রসঙ্গত, দেহে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি দেখা দিলে চুল পড়া বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে ১ চামচ আমলকির রসের সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রনটি ভাল করে চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিয়ে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফল পাবেন রাতারাতি।

* অ্যালোভেরা

এতে রয়েছে এমন কিছু এনজাইম, যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে চুল পড়লেও মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অ্যালোভেরা স্কাল্পের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল পড়ার হার কমে। পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে স্কাস্পে লাগিয়ে ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে হালকা গরম জলে ভাল করে মাথাটা ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই ভাবে অ্যালোভেরা জেল মাথায় লাগলে খুব ভাল উপকার পাওয়া যায়।

NO COMMENTS