সম্রাট নিরোর প্রাসাদের নিচে মাটির ভিতরে ২০০০ বছরের প্রাচীন চিত্রিত গোপন প্রকোষ্ঠ

রোম শহর যখন পুড়ছিল তখন নাকি তিনি বাঁশি বাজাচ্ছিলেন | সেই সম্রাট নিরোর প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ আবার উদ্ধার করে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে রোমে | সেই কাজেই এ বার অন্য এক আবিষ্কার | খননে আবিষ্কৃত মাটির নিচে গোপন প্রকোষ্ঠ | পশুপাখিদের রঙিন ফ্রেস্কো দিয়ে সাজানো তার দেওয়াল | ফ্রেস্কোগুলির মধ্যে চিহ্নিত করা গিয়েছে স্ফিঙ্কস এবং প্যান্থার |

তবে এই আবিষ্কার একেবারেই অপ্রত্যাশিত | সম্রাট নিরোর প্রাসাদের নাম ডোমাস ওরেয়া বা সোনার মহল | যা আছে রোমের কলোসিয়াম আর্কিওলজিক্যাল পার্কে | সেখানেই খননকার্য চলার সময় কর্মীরা ধ্বংসাবশেষে পা হড়কে পড়ে যান | তারপর সেখানে নতুন করে খননে দেখা যায় লুকিয়ে আছে গোপন ঘর | মাটির নিচে গোপন প্রকোষ্ঠ | তার দেওয়ালেই ফ্রেস্কো সৌন্দর্য | যেখানে জলচর প্রাণী ও পাখির ফ্রেস্কো থাকলেও স্ফিঙ্কসের কারণে ঘরের নাম হয়েছে স্ফিঙ্কস রুম |

যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সম্রাট নিরোর সমসাময়িক‚ তা ঘটেছিল ৬৪ খ্রিস্টাব্দে | ছদিন ধরে চলা অগ্নিকাণ্ডে নিরোর প্রাসাদ-সহ রোমের দুই তৃতীয়াংশ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল | তার পরে আবার নতুন করে নির্মিত হয়েছিল নিরোর প্রাসাদ‚ আজ থেকে দু হাজার বছর আগে |

তবে নতুন করে বানানো প্রাসাদে বেশিদিন থাকতে পারেননি নিরো | ৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রয়াত হন | তাঁর পরবর্তী সম্রাট ট্রাজান মাটি দিয়ে ঢেকে দেন এই প্রাসাদ | তার উপরে বানিয়েছিলেন স্নানাগার ! এরপর শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে এই প্রাসাদ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায় | ইতালিতে নবজাগরণের সময়ে রাফায়েল-সহ শিল্পীরা আকৃষ্ট হন ধ্বংসাবশেষের প্রতি | কারণ দেওয়ালের ফ্রেস্কো | এমনও হয়েছে‚ কোমরে দড়ি বেঁধে সামান্যতম জায়গা দিয়ে প্রবেশ করেছেন তাঁরা | একটিবার পূর্বসুরিদের সৃষ্টির মুখোমুখি হবে বলে |  

সেই প্রাসাদে সুড়ঙ্গের মতো গোপন প্রকোষ্ঠ যা ফ্রেস্কো দিয়ে সাজানো‚ তার বেশিরভাগ অংশই এখনও মাটির নিচে | খননে সেটিকে সম্পূর্ণ তুলে আনা হলে বিঘ্নিত হতে পারে নিরোর প্রাসাদের বাকি অংশ | আশঙ্কা‚ হয়তো এর ফলে ভিত নড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ প্রাসাদ ফের ধসে যেতে পারে | 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।