পাকিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু হিন্দু-জৈন-শিখ উপাসনালয় | স্বাধীনতার পরে‚ দেশভাগের পরে‚ এখন কেমন আছে সেগুলো ? চলুন একবার চোখ রাখি |

Banglalive

কাতাসরাজ মন্দির : পঞ্জাব প্রদেশের চকওয়াল জেলার শিব মন্দির | কথিত‚ এখানে অজ্ঞাতবাসের সময় ৪ বছর কাটিয়েছিলেন পাণ্ডবরা | ইতিহাস বলে‚ মূলমন্দির ৯০০ বছরের প্রাচীন | মন্দির প্রাঙ্গনে আছে সুগভীর হ্রদ | এখানেই নাকি যক্ষকে তর্কে পরাজিত করেছিলেন যুধিষ্ঠির | ফিরে পেয়েছিলেন তাঁর চার ভাইয়ের প্রাণ | এই হ্রদ নাকি শিবের চোখের জল থেকেই তৈরি | সতীর দেহত্যাগের পরে তিনি এত কেঁদেছিলেন‚ তৈরি হয়েছিল এই জলাশয় | কাতসরাজ মন্দির ছাড়াও এখানে আছে আরও বহু হিন্দু মন্দির এবং বৌদ্ধ স্তূপ |

দেশভাগের পরে পরিত্যক্ত হয়ে থাকে এই মন্দির দীর্ঘদিন | হ্রদ পরিণত হয় নোংরা আবর্জনায় | অবশেষে বছর নয়েক আগে এই মন্দিরে বিগ্রহ রাখা হয় পাক সরকারের উদ্যোগে | সংস্কার করা হয় মন্দির সংলগ্ন জলাশয়ের |

হিংলাজ : বালুচিস্তান প্রদেশে অন্যতম সতীপীঠ | বিশ্বাস‚ এখানে পড়েছিল সতীর ছিন্ন মস্তক | রামায়ণ বলে‚ এখানে তপস্যা করেছিলেন রামচন্দ্র | ব্রহ্মহত্যার পাপমুক্ত হতে | কারণ রাবণ ছিলেন ব্রাহ্মণ এবং মহাদেব ও দুর্গার একনিষ্ঠ ভক্ত | মন্দিরটির অবস্থা খুব একটা ভাল নয় | পথের ক্লান্তি ভুলে এই মরুতীর্থে ভারত থেকে তীর্থযাত্রীর সংখ্যাও নগণ্য |

গৌরী মন্দির : নাম গৌরী হলেও এটি জৈন মন্দির | উপাস্য হলেন ২৩ তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথ | গম্বুজ সমৃদ্ধ এই মন্দিরে দেখবার মতো শিল্পকর্ম হল ম্যুরাল এবং ফ্রেস্কো | পাকিস্তানের কিছু গান্ধার শিল্প এবং ভারতের ইলোরা বাদে এই ফ্রেস্কো প্রাচীনতম |

মারী ইন্দাস মন্দির : সিন্ধু সভ্যতার অববাহিকায় এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ থেকে একাদশ শতকে | দেশভাগের পর থেকে দীর্ঘদিন অবহেলিত হয়ে এককোণে পড়ে আছে এই মন্দির |

সারদাপীঠ : মধ্য এশিয়া থেকে মুসলিম অভিযানের আগে কাশ্মীর উপত্যকা যে বৈদিক শিক্ষার পীঠস্থান ছিল তার সাক্ষী এই মন্দিরের ভগ্নাবশেষ | যা দাঁড়িয়ে আছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে | কিষেণগঙ্গা নদীর তীরে এই মন্দির দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করা | আবার এটি শক্তিপীঠও | এখানে সতীর ডানহাত পড়েছিল বলে বিশ্বাস | আগে স্থানীয় শারদি গ্রামে ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষে বড় মেলা হত | লোকের ঢল নামত ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে | কুপওয়াড়া থেকে একটা শর্টকাট আছে | মাত্র ৪০ কিমি | এই পথেই যেতেন পুণ্যার্থীরা | এখন সব অতীত |

আরও পড়ুন:  একা হাতে মানুষ করছেন ২৩ সন্তানকে‚ আলাপ করুন আজকের 'মা যশোদা' মঞ্জুবালার সঙ্গে

কল্যাণ দাস মন্দির : রাওয়ালপিণ্ডির প্রাণকেন্দ্রে আছে এই মন্দির | যার নামকরণ করা হয়েছিল এই শহরের বাসিন্দা দয়ালু কল্যাণ দাসের নামে | নির্মাণ শেষ হয় ১৮৮০ সালে | প্রায় সাত একর জমির উপর তৈরি এই মন্দিরে আছে মোট ১০০ টি ঘর | এখন কোনও বিগ্রহ নেই | দৃষ্টিহীনদের জন্য একটি স্কুল চলে এখানে |

বরুণদেব মন্দির : করাচির মানরো ক্যান্টনমেন্টে সমুদ্রের তীরে এই মন্দির প্রায় ১৬০ বছরের পুরনো | দেশভাগের পরে বেদখল হয়ে যায় এটি | ২০০৭ সালে মন্দির নিয়ন্ত্রণের অধিকার পায় পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল | তারা সংস্কারের পরে ফিরিয়ে আনে মন্দিরের বিগ্রহ |

এগুলো ছাড়াও পাকিস্তানে আরও মন্দির আছে | এখানে কয়েকটি প্রধান মন্দিরের কথা তুলে ধরা হল | কোনওটার সংস্কার হয়েছে | কোনওটার হয়নি | এটি তথ্যবহুল একটি নিবন্ধ মাত্র | পাকিস্তান বা নির্দিষ্ট কোনও জনজাতির প্রতি কোনও বিদ্বেষ বা প্ররোচনা প্রচার এই লেখার উদ্দেশ্য নয় |

NO COMMENTS