ওজন কমাতে সাহায্য করে মধু, কিন্তু বেশি খেলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি

662

সারদিন চেয়ারে একভাবে বসে কাজ করেন যাঁরা বা কাজের পর আচমকা নানারকম জাঙ্ক ফুড অনলাইনে অর্ডার করে খেয়ে ফেলেন, তাঁদের ওজন বাড়ার সমস্যাটা খুব স্বাভাবিক। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে যোগ, জুম্বা বা জিমএর জন্য আলাদা করে সময় বের করে ওঠা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় হয়। প্রকৃতিতেই রয়েছে ওজন কমানো এমন অব্যর্থ উপায় যার সাহায্যে ম্যাজিকের মতো কমে যেতে পারে ওজন।

রইল কয়েকটি ঘরোয়া টোটকা

#  ত্রিফলা ও মধুর মিশ্রণ ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ত্রিফলা ও মধুর মিশ্রণ। ত্রিফলা হজমে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। ত্রিফলা ও মধুর মিশ্রণ বিপাকের হার বৃদ্ধি করে ওজন কমতে সাহায্য করে। একচামচ ত্রিফলা সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখে, পরের দিন সকালে সেই জল ফুটিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে একচামচ মধু মিশিয়ে পান করলে ফল পাওয়া যাবে।

নিম ফুল ও মধুর মিশ্রণওজন কমানোর আরেকটি কার্যকরী উপাদান হল নিম ফুল ও মধুর মিশ্রণ। কিছু্টা নিমের ফুল চটকে নিন এবং এর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে নিন যাতে মিশ্রণটি একচামচ পরিমাণ হয়। ভালো ফল পেতে খালি পেটে এই মিশ্রণটি পান করুন।

# লেবু ও মধুর মিশ্রণ ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপাদান হচ্ছে লেবু ও মধুর মিশ্রণ। এই মিশ্রণটি পরিপাকের উন্নতি ঘটায় ও শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য বের করে দেয়। একচামচ তাজা লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে উপকার পাওয়া যাবে

# দারুচিনি ও মধুর মিশ্রণ দারুচিনি মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করা হলে তা পরিপাকে ভীষণভাবে সাহায্য করে। বিপাকের হার বাড়িয়ে দেয়। এক চামচ দারুচিনি গুঁড়োর সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে আপনার ওজন কমানোর লক্ষপূরণ হবেই।

গোলাপের পাপড়ি ও মধুর মিশ্রণ শুনে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে গোলাপের পাপড়ি ও মধুর মিশ্রণ ওজন কমতে সাহায্য করে। এজন্য যেটা করতে হবে, তা হল কিছু গোলাপের পাপড়ি জলে ফুটিয়ে নি্যে তাতে চায়ের পাতা দিয়ে ফুটিয়ে লিকার তৈরি করে নিতে হবে। তারপর গোলাপচা উষ্ণ থাকতে থাকতেই তাতে একচামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে ফল পাওয়া যাবে।

মধু খাওয়ার সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ব্যয়াম করতে হবে, তাহলে আপনি উল্লেখযোগ্য হারে ওজন কমতে দেখবেন। অনেক বেশি চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার জন্যই বেশির ভাগ মানুষকে ওজন কমাতে যুদ্ধ করতে হয়। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনাকে মধুর বদলে সব ধরণের চিনি বাদ দিতে হবে।

পাশাপাশি বলে রাখা ভাল কোনওকিছুই আবার অতিরিক্ত ভাল না। অতিরিক্ত হারে মধু খেলে তা কিন্তু স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ হতে পারে। এবার জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত হারে মধু খেলে শরীরে কী কী ধরণের ক্ষতি হতে পারে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে।

দাঁতের ক্ষয় হয় সহজে।

পেটে ব্যথা হতে পারে।

বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়তে পারে।

শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরণের ইনফেকশনও।

শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের মতো সমস্যাও ভোগাতে পারে।

স্নায়বিক দুর্বলতাও হতে পারে।

এককথায়, মধু খাওয়ার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.