অগ্নিগর্ভ ভূস্বর্গে এক ঝলক মানবিকতার টাটকা বাতাস

পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় চল্লিশজন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর পরেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তিক্ততা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পুলওয়ামাকাণ্ডের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হয়েছেন কাশ্মীরিরা। পুলওয়ামাকাণ্ডের পর থেকেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। এয়ার স্ট্রাইকের পর আতঙ্ক বেড়েছে দ্বিগুণ। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাশ্মীরের হোটেল, স্কুলের দরজাও।

এই অবস্থায় অনেক রাস্তাঘাট বন্ধ, যানবাহন চলাচলও প্রায় স্তব্ধ বললেই চলে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এয়ারপোর্টও। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতে অনেক পর্যটকই আটকে পড়েছিলেন সেখানে। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের হোটেল ব্যবসায়ীরাই দেখালেন মানবিকতার আরেক দিন। কাশ্মীরে আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে হোটেলের দরজা খুলে দিলেন তাঁরা। শুধু থাকা নয় খাবারের জন্যও নেওয়া হচ্ছে না কোনও মূল্য।

সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আতঙ্কিত উপত্যকাবাসীরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলেন পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকেই। যে যতটুকু পেরেছেন খাবার মজুত করা শুরু করেছিলেন সেদিন থেকেই। বুধবারও সকাল থেকে বিভিন্ন ওষুধের দোকানের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল। নিকট জনের জন্য মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যেই সরকারি আধিকারিকরা কাশ্মীর উপত্যকার সমস্ত সরকারি হাসপাতালের ছাদে রেডক্রস সাইন আঁকানোর নির্দেশ দিয়েছে। যুদ্ধ লাগলে বোমারু বিমানকে এটা হাসপাতাল বোঝানোর জন্যেই এই ব্যবস্থা। এর মধ্যেও দেশে বিদেশের পর্যটকদের জন্য মজুত করা খাবার থেকেই বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরের হোটেল ব্যবসায়ীরা। যুদ্ধ নয়, দু’দেশের এই সমস্যার এবার সমাধান হোক, এটাই তাঁদের একমাত্র আর্জি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here