তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম লাত্তুর । বহু বছর আগের এক সন্ধ্যায় কিশোর শঙ্কর , গানানসেকরণ , কান্নন খেলার ফাঁকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাস্তার নাম দেবে নিজেদের ইচ্ছেমত । ঠিক করে নিজেদের আইডল স্বনামধন্য ভারতীয় নামে নামকরণ করবে রাস্তার । পেরিয়ে গেছে সময় ,  দিনে দিনে সেই ইচ্ছেই সাবালক হয়েছে নিজেদের বয়সের সঙ্গে । সেই দিনের ছোট্ট ছেলেরাই আজ নতুন দিশা দেখাচ্ছে কাঞ্চিপুরমকে। স্টার হেলথ সংস্থার হাত ধরে তৈরি করেছে নেতাজি ওয়েলফেয়ার মুভমেন্ট ।

Banglalive

এক সময়ে যে গ্রামে প্রতি সন্ধেয় কোনো না কোনো বাড়ি থেকে ভেসে আসত কান্না , অশান্তি , মদ্যপ বাবার চিৎকার, এখন সেখানেই সন্ধেগুলো মুখরিত হয় গ্রামের শিশুদের কলকলানিতে । তাঁদেরই তৈরি কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার ও লাইব্রেরিতে ভিড় জমায় গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েরা । যেখানে স্কুলের পর শেখানো হয় । 

স্টার হেলথ সংস্থার ডিরেক্টর ভি জগন্নাথন জানান , এই সংস্থা প্রধানত ভারতের পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলির উন্নয়নে সহায়তা করে । শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয় , পাশাপাশি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকেও লক্ষ্য রাখে এই স্টার হেলথ ।এই সংস্থার সঙ্গেই গাঁটছড়া বেঁধে গ্রামের মানুষকে ফিরিয়ে দিয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার । পাশাপাশি নিজেদের সেই ইচ্ছ্মত রাস্তার নাম পরিবর্তনেও সক্ষম হয়েছে এই বাহিনী ।

তবে গ্রামের প্রধান সমস্যা ছিল চোলাই মদ । গ্রামের পুরুষরা মাঠের কাজ সেরে বাড়ি ফিরেই বুঁদ হয়ে থাকত নেশায় । এই মদ তৈরি ও বিক্রি রুখে গ্রামের পরিবর্তন পদক্ষেপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই বাহিনী । আগে ১৩ , ১৪ বছর বয়সী ছেলেরাই এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়তো প্রায়ই । চোলাই বন্ধ হওয়ায় বহু পরিবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষম হয়েছে । যদিও এই কারণে প্রথমে বহু সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে যেতে হয়েছিল। পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয় ওই বাহিনীকে , তবে ভয়ে পিছিয়ে যাননি কেউই । ওই বাহিনীরই এক সদস্য , বর্তমানে পেশায় ফটোগ্রাফার শঙ্কর জানান , এই ব্যাপারে লোকাল বিধায়ক , পুলিশ , প্রশাসনকে বারংবার বলার পর বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে । বহু বছরের প্রতীক্ষার পর আজ গ্রামের মানুষ এখন কংক্রিটের রাস্তা ও গৃহস্থালিতে জল ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে , সুস্থ জীবন পেয়েছে ।

আরও পড়ুন:  মুকেশ অম্বানির অট্টালিকা অ্যান্তিলিয়ায় আবার আকাশ-শ্লোকের বাগদান-পার্টি ! কেমন হল আমন্ত্রণপত্র ?

ওই বাহিনীর আরেক সদস্য গানানসেকরণ জানান , গ্রামের পরিবর্তনে অবশ্যই প্রশাসন ও এন জিও সহায়তা করেছে । তবে গ্রামের মানুষ যদি উদ্যোগ না নিত কখনোই পরিবর্তন সম্ভব হত না ।  আমাদের উদ্যোগে পাশাপাশি গ্রামের নারী বাহিনীও এগিয়ে আসে । তারাও প্রতিবাদে সামিল হয় । বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ।এক রকম বিপ্লব । ফলে আজ গ্রামের প্রতিটা শিশুই স্কুলের পথে হাঁটতে পারছে । গ্রামের বহু ছেলেমেয়ে কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছে । গ্রামের মেয়েরাও স্বনির্ভর হচ্ছে ।গ্রামের উন্নয়নে আগামী কয়েক বছরে গ্রামে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও স্বনির্ভর কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা চলছে।

NO COMMENTS