একটা চিঠি বদলে দিয়েছিল গিরীশ কারনাডের জীবন…

অভিনেতা‚ পরিচালক‚ নাট্যকার এবং লেখক গিরীশ রঘুনাথ কারনাড ৮১ বছর বয়সে গতকাল মানে ১০ জুন শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন | উনি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন | গিরীশের মৃত্যুর খবরে শোকাহত গোটা শিল্প মহল | উনি বলিউড ছাড়াও দক্ষিণের কয়েকটা ছবিতে কাজ করেছেন | ওঁর শেষ অভিনীত ছবি ছিল সলমন খানের ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ |

গিরীশ প্রথম থেকে থিয়েটারে কাজ করতেন | ওঁর ১৯৭৮ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ভূমিকা’-র জন্য উনি জাতীয় পুরস্কার পান | ১৯৯৮ সালে সাহিত্যের জন্য পান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | এছাড়াও পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ পেয়েছেন উনি |  কমার্শিয়াল ছবিতে কাজ করার জন্যেও উনি প্রসিদ্ধ ছিলেন |  পেয়েছেন চারটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও | ১৯৭০ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত কন্নড় ছবি ‘সংস্কার’ দিয়ে উনি অভিনয় জীবনে পা রেখেছিলেন | এছাড়াও প্রথমবার এই ছবির জন্য চিত্রনাট্যও রচনা করেছিলেন উনি | কন্নড় সিনেমায় এই ছবি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট গোল্ডেন লাইটস পুরস্কার পেয়েছিল |

বলিউডে ওঁর ডেব্যু হয় ১৯৭৪ সালে ‘জাদু কা শঙ্খ’ ছবি দিয়ে | এছাড়াও ওঁকে ‘নিশান্ত’‚ ‘শিবায়’‚ ‘মন্থন,’‚ ‘স্বামী’‚ ‘ইকবাল’‚ ‘এক থা টাইগার’ এবং ‘চক অ্যান্ড ডাস্টার’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে | এছাড়াও ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক’মালগুড়ি ডেজ’ এও অভিনয় করেছেন উনি | অন্যদিকে ‘উৎসব’‚ ‘গোধুলি’ এবং ‘উয়ো ঘর’ পরিচালনা করেছেন | উনি সত্যজিৎ রায়‚ শ্যাম বেনেগাল এবং গোবিন্দ নিহালনির সঙ্গে কাজ করেছেন | ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেরা কয়েকজন ব্যক্তিত্বের ডেব্যু হয়েছে ওঁর সিনেমা দিয়ে | তালিকায় আছেন বিষ্নুবর্ধন‚ শঙ্কর নাগ‚ ওম পুরী‚ অমৃশ পুরী‚ শেখর সুমন‚ সোনালি কুলকার্নি‚ আর্ট ডিরেক্টর রাজীব মেনন ও সিনেমাটোগ্রাফার সাবু সিরান |

গিরীশের মা বাবা নাটক দেখতে খুব পছন্দ করতেন | তাই তাঁদের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই গিরীশও যোগ দিতেন | এইভাবেই অভিনয়ের প্রতি ভালবাসা জন্মায় গিরীশের | কিন্তু উনি বড় হয়ে কবি হতে চেয়েছিলেন | কন্নড় ভাষার লেখক হিসেবে গিরীশ পরিচিতিও পান | উনি যখন ওঁর প্রথম নাটক ‘যযাতি’ লিখছিলেন তখন নাটকের প্রতি ভাললাগা জন্মায় এবং উনি নাট্যকার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন |

উনি বড় হয়েছেন দুই বোন‚ এক বোনঝি এবং ওঁদের ঘরের সামনে এক পরিবারের চার কন্যার সঙ্গে | সাতজন মেয়েদের সঙ্গে থাকার ফলে মহিলাদের চিন্তাধারা কী তা উনি খুব ভাল করে বুঝতে পারতেন | এই কারণের জন্য ওঁর নাটকে নারী চরিত্রে স্বতঃস্ফূর্ত হত | 

কিশোর গিরীশ বিখ্যাত লেখক ও নাট্যাকারদের ছবি আঁকতেন এবং তা অটোগ্রাফের জন্য পাঠাতেন | এইভাবে উনি টি এস ইলিয়ট‚ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্নণ এবং অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের অটোগ্রাফ পেয়েছিলেন | কিন্তু যখন উনি আইরিশ নাট্যকার সিন ও ক্যাসির ছবি পাঠালেন অটোগ্রাফের জন্য | উনি একটা চিঠি পান | তাতে সিন ওঁকে লেখেন এইভাবে কেন উনি সময় নষ্ট করছেন অন্যদের অটোগ্রাফ সংগ্রহ করে | তার বদলে সেই সময়টা কাজে লাগাতে যাতে উনি অন্যদের অটোগ্রাফ দিতে পারেন | এই চিঠি পাওয়ার পর ওঁর জীবন বদলে যায় |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here