অস্ট্রেলিয়ায় দুর্গাপুজো

“আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি, পূজার সময় এলো কাছে”।

দুর্গা পুজোর মরশুম এসে দাঁড়িয়েছে বাঙালির দোরগোড়ায়। বাংলার আকাশ বাতাস ম ম করছে শিউলির গন্ধে, আসন্ন ঋতু পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে। হেমন্তের পরশে স্নিগ্ধ হয়ে উঠছে চারিদিক।

অস্ট্রেলিয়াতে এই সময়টা বসন্তকাল। কিন্তু হলে কী হবে! প্রতি বছর ঠিক এই সময়টাতে বাংলার শারদোৎসব স্পিরিট চলে আসে এখানেও।

প্রকৃতিদেবী এ দেশে তখন সবে শীতঘুম থেকে উঠে বসে আড়ামোড়া ভাঙ্গছেন। বসন্তের আমন্ত্রণে সাড়া দিতে উন্মুখ। তাই তখন এদেশের মাটি ক্যামেলিয়া, রোডডেন্ড্রনের রঙ্গে বিচিত্র বর্ণময়। বাতাস ভারি হয়ে উঠছে গোলাপ, গাঁদা, বেল, গন্ধরাজ আর জুঁইয়ের সৌরভে।

এই অঞ্চলে মনে-প্রাণে জেগে উঠতে থাকা বসন্তের উষ্ণ স্পর্শ অনায়াসে নস্যাৎ করে দেয় ক্রম-ক্ষয়মান উইন্টর সিজন্‌কে। আর তখনি বাংলার শারদোৎসবে আপ্লুত মনোরম পরিবেশটি এই প্রবাস প্রাঙ্গনে এসে পড়ে স্থানীয় প্রবাসী বাঙালিদের আহ্বানে।

ইদানীং বাঙালির এদেশে লাগাতার (স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে অথবা অল্পকালের কন্ট্রাক্ট ভিসা নিয়ে) আনাগোনার সৌজন্যে মেলবোর্ন শহরে অনেকগুলো পাড়ায় নতুন নতুন বারোয়ারি দুর্গাপূজার সূত্রপাত। তার ফলে মুষ্টিমেয় স্থানীয় পুরোহিতদের নিয়ে টানাটানি পড়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গতঃ এই “মুষ্টিমেয় স্থানীয়” পুরোহিতেরা বড় হয়ে ওঠার কোনো পর্যায়ে, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, তাঁদের কম্যুনিটি, বাবা, মা, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের সান্নিধ্যে এসে যে ধর্মবোধ, আধ্যাত্মিকতা এবং সাবেকিয়ানা অর্জন করেছিলেন তার রেশে আজও প্রভাবিত। তাই সাগ্রহে পূজা পদ্ধতি শিখে নিয়ে এবং হিন্দুধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়নে লিপ্ত থেকে এঁরা বাস্তবিকই নিষ্ঠা সহকারে পার্ট টাইম পুরোহিতের কর্তব্য পালন করেন।

তবে কি না যস্মিন্‌ দেশে যদাচারঃ। অর্থাৎ ভক্তি, বিশ্বাস এবং নিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় বাঙালিদের চাকরি ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, এঁদের আপোস করে নিতে হয়। যথা, এখানে পুজোর সময় ধার্য করা হয় উইকএন্ডে। শনি-রবিবারে। অর্থাৎ ভারতে, বাংলাদেশে অথবা নেপালে যে দিনগুলোয় পুজো সম্পন্ন হয়, এখানে সেই দিনগুলোয় পুজো করা সম্ভব নয়। এ দেশে অধিকাংশ সময়ে পুজো অনুষ্ঠিত হয়, আদত দুর্গাপুজোর আগে কিম্বা পরে। উইকএন্ডে পুজোর দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভেন্যু-লভ্যতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

প্রতি বছর, কোন একটা স্কুলের বা কম্যুনিটি সেন্টরের থিয়েটার-হল ভাড়া করা হয় এই উপলক্ষে। শুক্রবার রাতে, সারাদিনের কাজকর্ম সেরে নিয়ে ভলেন্টিয়রের দল এসে পুজোর প্যান্ডেল সাজিয়ে ফেলেন। পরের দিনের পুজোর যোগাড়ও খানিক এগিয়ে রাখেন।

পুজোর দিন সকাল থেকে লোকসমাগম আরম্ভ হয়। বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে সংগঠিত পুজো কমিটির ভলেন্টিয়র সদস্যরা সেদিন এক্কেবারে ব্রাহ্ম মুহূর্তে গিয়ে হাজির হন পুজোমন্ডপে। লেগে পড়েন ফল কাটা, নৈবেদ্য গোছানো এবং পুজোর মন্ডপ সাজানোর কাজে। পুজোর জন্য ধূপধুনো, চন্দন ঘষা ইত্যাদি নানা যোগাড় করে কয়েকজন কিশোরী। আর এক দিকে পুরুত মশায়ের নির্দেশ অনুযায়ী কয়েকজন মহিলা কলাবৌকে জলছোঁয়া ক’রে শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দেন।

হলঘরে ঢ়ুকেই দেখা যাবে মস্ত এক টেবিলে “পূজাথালি” সাজিয়ে বসে আছেন দু-তিনজন সুসজ্জিতা মহিলা। সকাল সকাল এসে এঁরা গুছিয়ে ফেলেন পূজার থালি। প্রতিটি থালিতে থাকে পাঁচ রকমের ফল, মিষ্টি, প্রদীপ আর ধূপকাঠি। আজকের কর্মরত মেয়েদের জীবনে পুজোর এই রেডিমেড থালি যে কি সুবিধে এনে দিয়েছে বলা যায় না। পুজো দিতে এসে, টেবিল থেকে থালি হাতে তুলে নিতে নিতে (প্রতি থালি বারো ডলার) ওঁদের পরস্পরকে বলতে শুনেছি, “পুজোর এই থালিগুলো সচ্‌ আ লাইফ সেভর। ওয়ান লেস্‌ থিং টু ওয়রি অ্যাবাউট”।

সাড়ে এগারোটা নাগাদ পুষ্পাঞ্জলি পর্ব শুরু হয়। দুই পুরোহিতের আহ্বানে দফায় দফায় এগিয়ে আসেন নানা বয়সের পুরুষ, মহিলা, শিশু ও কিশোর কিশোরীর দল। পুষ্পাঞ্জলির অবসানে বিশাল হলটাকে মুখরিত করে তোলে উদাত্তকন্ঠে চন্ডীপাঠ।

ততক্ষণে সারাটা হলঘর জুড়ে বসে গিয়েছে ছোটখাটো মেলা। একাধিক শাড়ির স্টল, মেড-ইন-ইন্ডিয়া ইলেক্ট্রিক গ্যাজেটের স্টল, ভারতের নানা ভাষায় সিরিয়ল ও মুভি বিতরণকারী প্যাকেজ (রিয়ল টি ভি, ইয়াপ টি ভি ইত্যাদি) বিক্রির স্টল। কাছাকাছি আর এক টেবিলে বিক্রির জন্য সাজানো থাকে বাংলা ভাষার বিভিন্ন শারদীয় সংখ্যাগুলো। হলের অন্য প্রান্তে গোটা চারেক সাজানো টেবিল জুড়ে বিতরণ হয় প্রসাদ – নানা রকম কাটা ফল, শুক্‌নো মেওয়া, মিষ্টি এবং লুচি হালুয়া। পুজো কমিটির কোন সদস্যের বাড়িতে অথবা গ্যারাজে প্রস্তুত করা হয় পুজোর ভোগ, মিষ্টি এবং লুচি-হালুয়া, কিছু ভলেন্টিয়রের যৌথ প্রয়াসে।

পুরোহিতদ্বয়ের পুজো চলতে থাকে।

শনিবার দিন

পুজো শেষে ভোগের খিচড়ান্ন, লাবড়া, চাটনি আর পাঁপর ভাজা খেয়ে বেশির ভাগ সকলেই বাড়ি ফিরে যান একটু ভাত-ঘুম দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিতে। আর এক প্রস্থ নতুন জামাকাপড় পরে এঁরা ফিরে আসেন সন্ধ্যাবেলা। সালংকৃতা, সুসজ্জিতা মহিলাদের উপস্থিতি হলঘরটাকে আলোকিত করে রাখে। সঙ্গে কিশোর, কিশোরী আর শিশুর দল প্রজাপতির মত ঝলমলিয়ে ঘুরে বেড়ায় মহা আনন্দে।

সন্ধ্যারতির পর আরম্ভ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অর্থাৎ কল্‌চরল প্রোগ্রাম। যোগ দেন স্থানীয় বাঙালিরাই। নাটক, নাচ-গান, ছেলেমেয়েদের আবৃত্তি – সব মিলিয়ে দারুন উপভোগ্য হয়ে ওঠে শনিবারের সেই সন্ধ্যা। অতঃপর জমিয়ে নৈশ ভোজনের ব্যবস্থা।

রবিবার দিন

 বিগত ছয় মাস ধরে চলতে থাকা দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং অপেক্ষাকালের অবসান। যাঁরা আসেন, তাঁদের বিষণ্ণ বদন। দশমীর পূজা সমাপনের পর মায়ের বিসর্জন হয় দর্পনে। তারপর সিঁদুর খেলা এবং সাড়ম্বরে ঢাকঢোল বাজিয়ে ধুনুচি নৃত্য।

“ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন” – ঢাকের তালে তালে উদ্দাম ধুনুচি নাচে মেতে ওঠেন সমবেত অনেকেই।  ধূপ-ধূনো, ফুল-চন্দনে সুহাসিত সেই স্থানে দাঁড়িয়ে আদৌ মনে হয় না যে সমুদ্র পেরিয়ে সুদূর, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি-নিমজ্জিত এই প্রবাসে, আমরা পালন করছি দুর্গা পুজো। একেবারে ষোলআনা বাঙালি পরিবেশ। তবে হ্যাঁ, মায়ের প্রতিমা ভাসান পর্বটি এখানে বাদ দিতে হয়। গঙ্গার জলে প্রতিমা বিসর্জন এবং সঙ্গে দুর্দান্ত হৈ-হুল্লোড়ের আনন্দ থেকে আমরা বঞ্চিত হই।

প্রতি বছর পূজোর শেষে পুত্র-কন্যা-অসুর-সহ দুর্গা প্রতিমাকে সযত্নে কাঠের বাক্‌সে প্যাক  ক’রে, তালাচাবি দিয়ে তুলে রাখা হয় ভাড়া করা স্টোরেজে, আগামী বছরের পূজা অবধি।

৮০’র দশকের গোড়ায় বারোয়ারি দুর্গা পুজো আরম্ভ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নানা শহরের বাসিন্দা বাঙালিরা। দীর্ঘ কুড়ি-বাইশ বছর মেলবোর্নের স্থানীয় বাঙালিরা সমবেত হয়ে একসঙ্গে এক জায়গাতেই সম্পন্ন করতেন বারোয়ারি পুজো। সেই সময়ে পুজোয় যোগদাতাদের সংখ্যা ছিল তিনশ’-সাড়ে তিনশ’। সেই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এক সময়ে তেরোশ’য় গিয়ে দাঁড়াল। একই ভেন্যুতে এই বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা হিমশিম খেয়ে যেতে লাগলেন। পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলো দু’হাজার সালের পর যখন কাতারে কাতারে বাঙালি পরিবার ভারত থেকে এসে ছেয়ে ফেললেন মেলবোর্ন শহর। ফলে বিভিন্ন পাড়ায় গঠিত হল আরও কয়েকটি বাঙালি অ্যাসোশিয়েসন এবং সূত্রপাত হ’ল একাধিক দুর্গাপূজার।

এখন মেলবোর্নে গোটা পাঁচেক পুজো হয়। সদ্য সদ্য দেশ ছেড়ে আসার সুবাদে উদ্যোক্তারা পুজোর পরম্পরাগত সব বিধি-নিয়মের সঙ্গে পরিচিত। এখানকার নব বাঙ্গালি সম্প্রদায়ের সৌজন্যে মন্ডপ সজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর মাপও এখন হয়ে উঠেছে উচ্চমানের। সঙ্গে নাটক, শিল্প, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনও গুণী নরনারীর অবদানে সমৃদ্ধ।

পুজোর উইকএন্ডে এখন জনসাধারণ প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে পুজো দেখেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, কাল্‌চারাল অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেন ইচ্ছেমত।

অবশ্য আজকাল উদ্যোক্তারা এক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এখানকার কয়েকজন পুরুতদের নিয়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনে টানাটানি। আগেই বলেছি, ফুলটাইম, পেশাদার পুরুত আমাদের বাঙালি কম্যুনিটিতে আজও নেই। যে ক’জন পুজো করেন তাঁরা ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা লাইব্রেরিয়ন। সব কটা পুজোর তাল সামলাতে পারছেন না এঁরা।

মেলবোর্ন শহরের সঙ্গে আমার বন্ধন দীর্ঘকালের। মনে পড়ে, যখন এই শহরে প্রথম পা রেখেছিলাম গুটি ছয়েক পরিবার, কয়েকজন স্নাতকোত্তর ছাত্র এবং গবেষণায় লিপ্ত জনাকয়েক অ্যাকাডেমিক নিয়েই তখন গড়ে উঠেছিল অতি ক্ষুদ্র এক বাঙালি সম্প্রদায়।

দুর্গাপুজো সেই সময়ে হ’ত না এখানে। পুজোর মরশুমে ভারি মুষড়ে পড়তাম সকলে। দারুণ হোমসিক বোধ করতাম। আমি এখানে আসার পরের তিন বছর এরকমটাই চলল। তারপর নেপথ্য থেকে দেখেশুনে মা দুর্গার বোধ করি দয়া হ’ল। চতুর্থ বছরে ঘটল সেই অভাবনীয় ঘটনাটা। কলকাতায় বিজয়া দশমীর দিনটির কাছাকাছি এক উইকএন্ডে জয়ন্তীদি আমাদের সকলকে নিয়ে – প্রায় জনা তিরিশেক বাঙালি সর্বসাকুল্যে – বিজয়া সম্মিলনী পালন করেছিলেন। মা অন্নপূর্ণার মত, অঢেল খাবার-দাবারের বন্দোবস্ত ক’রেছিলেন তিনি একাই। খাওয়াদাওয়ার পর গান-বাজনারও গুরুত্বপূর্ণ স্লট ছিল।

এর পরের বছর বিজয়া সম্মিলনীর উৎসব স্থানীয় বাঙালিরা পালন ক’রেছিলেন যৌথভাবে। প্রাক্‌ কেটরিংয়ের যুগ সেটা। রান্নাবান্নার দায়িত্বটা অতএব পাঁচটি পরিবারের গৃহিনীরা ভাগ করে নিয়েছিলেন। মেন্যু ছিল পোলাউ, মটন কোর্মা, মাছের ঝাল, মালাই চিংড়ি, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ ও মাংসের চপ আর স্যালাড। শেষ পাতে ছিল ভাপা দই ও রসগোল্লা।

তারপর থেকে প্রতি বছর বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান আয়োজিত হ’ত কোন এক বাঙালি পরিবারের ব্যাক ইয়ার্ডে। মাঝ দুপুর থেকে গভীর সন্ধ্যা অবধি চলত খানাপিনা এবং গান-বাজনা। নতুন কাপড়জামা পরে গুটিকতক ছোট ছেলেমেয়েও যোগ দিত পরমোৎসাহে। তখন এখানে পুজো হ’ত না বটে, কিন্তু বিজয়া সম্মিলনীর অবসরে বাংলায় মা দুর্গার আগমন আবেগ তাড়িত করত মেলবোর্নবাসী বাঙালিদের।

অতীতের সেই সময়টাকে পেছনে রেখে অনেকখানি অগ্রসর হয়ে এসেছি আজ। সাক্ষী হয়েছি বহু পরিবর্তনের। প্রযুক্তির কল্যাণে আজকের যুগের অভিধান থেকে ভৌগলিক দূরত্ব শব্দটা প্রায় লুপ্ত হতে বসেছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত যা ছিল অভাবনীয়, এখন চলে আসছে হাতের মুঠোয়।

আমার ধারনা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেখব ভারত থেকে পেশাদার বাঙালি পুরোহিতেরা চলে আসছেন অস্ট্রেলিয়ার নানা শহরে দুর্গা পুজোর কর্ণধার হতে।

আশ্চর্য হব না যদি দেখি কুমারটুলির শিল্পীরা এদেশে এসে প্রতিমা গড়ছেন প্রতি বছর। সে ক্ষেত্রে হয়ত অস্ট্রেলিয় শাসকদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে প্রতি বছর প্রতিমা বিসর্জনও দিতে পারব আমরা প্রশান্ত মহাসাগরের গর্ভে। তখন বাংলায় দেবী বিসর্জনের আনন্দ ও উত্তেজনা এখানকার বাঙালিরাও ভাগ করে নেবেন।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.